জাতীয়

জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে ১০০ ভাগ আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ওবায়দুল কাদের

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ের বিষয়ে ১০০ ভাগ আশাবাদ প্রকাশ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়তা করছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, দলের বিশেষ বর্ধিত সভার অংশ হিসেবে আগামী ৩০ জুন ও সাত জুলাই ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসবেন সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামূল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরীন ওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়–য়া, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমূখ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, রংপুর, কুমিল্লা, খুলনায় যেমন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তেমনি গাজীপুরেও অবাদ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এতে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। বরং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়তা করছে। জনগণকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে যাকে খুশি তাকে ভোট দেয়ার আহবান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এ সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারি, মাগুরা ও ঢাকা-১০ মার্কা নির্বাচন করতে চায় না।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, যিনি নির্বাচন নিয়ে বড়বড় কথা বলেছেন, তার এলাকায় নির্বাচনের সময় সিরাজপুর কেন্দ্রে সকাল ১টার সময় গিয়ে তিনি (মওদুদ) বলেছিলেন, এখনো নির্বাচন শেষ হয়নি। তারা সকাল ১০টার মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে চায়, ভোট ডাকাতি করে, কেন্দ্র দখল করে এবং ভোট জালিয়াতি করে নির্বাচনের রাজনীতি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন কাদের।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরের মতই বিভিন্ন অভিযোগ করে। এসব তাদের পুরোনো ভাঙ্গা রেকর্ড। নির্বাচন এলে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে রেজাল্ট হওয়া পর্যন্ত ‘নির্বাচনে কারচুপি হবে, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি চলছে এজেন্ট বের করে দেওয়া হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করে যাবে বলে মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, এমন কিছু বাক্য আছে যা তারা রেজাল্টের আগ পর্যন্ত আওরাতে থাকে। রেজাল্টের আগ পর্যন্ত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপির পুরোনো অভ্যাস। তাদের কুশী করতে হলে নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে হবে, তাহলে তারা ইসির প্রশংসা করবে।

আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার অংশ হিসেবে দুই ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় চেয়ারম্যানরা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাস ভবন গণভবনে বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এর প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুন সকাল সাড়ে ১১ টায়। এতে অংশ গ্রহণ করবে চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ, রাজশাহী এবং বরিশাল বিভাগ। ৭ জুলাই সকাল সকাল সাড়ে ১১ টায় দ্বিতীয় ধাপে অংশগ্রহণ করবে ঢাকা বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগের অন্তর্গত ইউনিয়ন সমূহের দলীয় চেয়ারম্যান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গত ২৩ জুন জেলা, থানা, মহানগর ও পৌরসভার নেতাদের ঢাকায় ডেকে বর্ধিত সভা করে নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close