বিনোদন

রবীন্দ্রনাথের চলচ্চিত্রে বিশ্বভারতীর না

বিনোদন বার্তা : পশ্চিম বাংলার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে নির্মাণাধীন ছবি নলিনি শুটিংয়ের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তরুণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তার গৃহশিক্ষক অন্নপূর্ণার সম্পর্ক নিয়ে এ ছবির কাহিনী রচিত। বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে ছবির কিছু অংশের শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল— জানাচ্ছে দ্য টেলিগ্রাফ।

‘এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ উপাচার্যের কার্যালয় থেকে জানান সবুজ কলি সেন। ‘পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে আমরা আর কোনো বাণিজ্যিক ছবিকে অনুমতি দেব না।’

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯২১ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ছবির পরিচালক উজ্জ্বল চ্যাটার্জি বলেন, আগের উপাচার্য স্বপন কুমার দত্ত তাদের ক্যাম্পাসে শুটিং করার অনুমতি দিয়েছিলেন। গত বছর তারা এখানে কাজ করে গেছেন। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আর শুটিং করতে দেবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ছবির পরিচালকের সঙ্গে বসে আলোচনাও করেছে গত সপ্তাহে।

নলিনি চলচ্চিত্রের প্রযোজক বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পার্পল পিবলস। নানা গল্পের মধ্য দিয়ে ১৭ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ আর ২০ বছরের অন্নপূর্ণার সঙ্গে ‘প্লেটোনিক প্রেম’ এ ছবির বিষয়— বলেন পরিচালক উজ্জ্বল চ্যাটার্জি। এখানে মুম্বাইয়ের কিছু ঘটনাও আছে। ১৮৭৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ডে পড়তে যাওয়ার আগে মুম্বাইয়ে নলিনির বাবার বাড়িতে উঠেছিলেন কয়েক সপ্তাহের জন্য। তখন নলিনি নাম পাল্টে রবীন্দ্রনাথ তার নামকরণ করেছিলেন অন্নপূর্ণা। এ নাম রবীন্দ্রনাথ কবিতায়ও অমর করে রেখেছেন। তবে তাদের প্রেম ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কারণ এরপর ১৮৮০ সালে নলিনি এক স্কটিশ ভদ্রলোককে বিয়ে করে ইংল্যান্ডে চলে যান।

চ্যাটার্জির চলচ্চিত্রটি তৈরি হবে বাংলা ও মারাঠি ভাষায় এবং একটি হিন্দি সংস্করণও হবে। ছবিতে তরুণ রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় অভিনয় করছেন সাহেব ভট্টাচার্য আর নলিনির ভূমিকায় মারাঠি অভিনেত্রী বৈদেহি পরশুরামি।

টেলিগ্রাফকে চ্যাটার্জি জানান, তিনি হিউম্যান রিসোর্স মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করবেন এবং বিশ্বভারতীর কাছেও কৈফিয়ত চাইবেন।

‘উনি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে আমরা দেব’ টেলিগ্রাফকে বলেন সবুজ কলি সেন।

পিটিআইয়ের এক সংবাদে জানা যায়, গত বছর বিশ্বভারতীর আগের প্রশাসন একটি কমিটি করে দিয়েছিলে এ ছবি পর্যালোচনার জন্য। তারা ছবির পাণ্ডুলিপি পরীক্ষা করে একটি দৃশ্যের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলে। নলিনির তরুণ রবীন্দ্রনাথের গালে চুমু খাওয়ার একটি দৃশ্য ছিল সেটি। পরিচালক কমিটির আপত্তি মেনে পাণ্ডুলিপিতে সংশোধনীও এনেছিলেন।

 

দ্য টেলিগ্রাফ

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close