সারাদেশ

বাড্ডায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই

বার্তাবাহক ডেস্ক : ঢাকার বাড্ডায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ফরহাদ হোসেন হত্যার দুই সন্দেহভাজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।

বাড্ডা থানার উপ পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে সাঁতারকুলের প্রজাপতি গার্ডেন এলাকায় ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির মধ্যে’ ওই দুইজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন- নুরুল ইসলাম সানি (২৮) ও অমিত (৩৫)।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলছেন,ওই দুইজনই ফরহাদ হত্যার সন্দেহভাজন।

“সিসিটিভি ফুটেজে ফরহাদ মার্ডারের পর লাল গেঞ্জি পরা এক যুবককে অস্ত্র হাতে পালিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সানিই সেই যুবক। আর নিহত অমিত ভারতে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী আশিক ও আমেরিকায় পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী মেহেদীর সহযোগী।”

বাড্ডা ইউনিয়ন (এখন সিটি করপোরেশনের অধীন) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ডিএনসিসির নবগঠিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

১৫ জুন দুপুরে জুমার নামাজের পর উত্তর বাড্ডার আলীর মোড়ের কাছে বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

উপ কমিশনার মশিউর বলেন, ওই ঘটনার পর গোয়েন্দা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে জানতে পারে, এলাকার দুইশর বেশি হিউম্যান হলার চলাচল ও ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ এবং গরুর হাটে চাঁদাবাজির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে ফরহাদ হোসেনকে হত্যা করা হয়।

“সেদিন একাধিক গ্রুপ অস্ত্রসহ ওই এলাকায় ছিল। অস্ত্রধারী শুটার ছিল ছয়জন। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কেউ কেউ ঢাকা বা দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল। ফলে ফরহারদ হত্যার পর ওই ভাগ বাটোয়ারার বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। সেটা মীমাংসার জন্য সন্ত্রাসীদের ওই গ্রুপগুলো গতরাতে আবার সাঁতারকুলে জড়ো হয়।”

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, সাঁতারকুলে প্রজাপতি গার্ডেনের পাশে নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবনের কাছে ‘সন্ত্রাসীদের’ অবস্থানের খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ ওই এলাকায় যায়।

“ভোরের দিকে সন্ত্রাসীরা বের হওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে গুলি করে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলার পর এলাকাবাসীও লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়। তখন সন্ত্রাসীরা সরে যায়। পরে তল্লাশিতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।”

গুলিবিদ্ধ সানি ও অমিতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে উপ কমিশনার মশিউর জানান।

গোলাগুলির পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close