সারাদেশ

অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যার পর লাশ দাফনেও অংশ নেয় খুনি!

বার্তাবাহক ডেস্ক : প্রেমিকাকে দামি উপহার দিতে ও মামির ওপর প্রতিশোধ নিতেই মামাতো ভাই মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহিমকে (১০) ঢাকা থেকে অপহরণ করে গাজীপুরে এনে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে লাশ দাফনেও অংশ নেয় তারই ফুফাতো ভাই খুনি বনি আমিন।

রোববার দুপুরে র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

বনি আমিনের বাড়ি বরগুনা সদরের মাইঠায়। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।

কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, রোববার (৮ মার্চ) ভোরে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছে বনি আমিন।

সংবাদ সম্মেলন র‌্যাব আরো জানান, ৫ মার্চ ঢাকার হাজারীবাগ থেকে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহিমের (১০) অর্ধগলিত লাশ শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের মিরেরগাঁও এলাকায় রেললাইনের পাশে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ বিষয়ে ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব। রোববার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ভিকটিমের বাসা থেকে বনি আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বনি আমিন হত‌্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার বর্ণনা দেয়। বনি আমিন নিহত ইব্রাহিমের ফুফাতো ভাই। বনি আমিন ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মামা মনির হোসেনের বাসায় থেকে নিউ মার্কেট এলাকায় মামার ক্রোকারিজের দোকান চালাতো। মামার বাসায় থাকাকালে মামির প্রতি ক্রোধ সৃষ্টি হয়। এ সময়ে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকাকে দামি উপহার দেয়া এবং তাকে নিয়ে বেড়ানোর জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন, যা তার কাছে ছিল না। তাই টাকা জোগাড় করতে এবং মামির ওপর প্রতিশোধ নিতে ৫ মার্চ দুপুর ২টার মামাতো ভাই ইব্রাহিমকে হাজারীবাগ মাদ্রাসা থেকে অপহরণ করে। গাজীপুরে সালনা এলাকায় এনে ভিকটিমের ব্যাগ এবং আইডি কার্ড ফেলে দেয়। সন্ধ্যা রাত ৭টার দিকে মীরেরগাঁও রেল লাইনের পাশের জঙ্গলের ভেতরে ইব্রাহিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে সালনায় এলাকার একটি মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে বনি আমিন।

পরে বনি আমিন বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ইব্রাহিমের কণ্ঠ নকল করে তার বাবার (বনি আমিনের মামা) মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে পুনরায় হাজীবাগে মামার বাসায় ফিরে যায়।

শনিবার গাজীপুরে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে সে মামা-মামির সামনে কান্নার অভিনয় করে এবং তাদের সাথে আজিমপুর কবরস্থানে ইব্রাহিমের লাশ দাফনেও অংশ নেয়।

উল্লেখ্য : শনিবার গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদ্রাসাছাত্র ইব্রাহিমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে রাতেই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close