আলোচিতরাজনীতি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি?

বার্তাবাহক ডেস্ক : বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে যেমন দেউলিয়া হয়েছে, তেমনি বিএনপি নেতারাও এখন কৌতুক অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশে এখন কৌতুক অভিনেতার আকাল, বিশেষ করে স্বনামধন্য কৌতুক অভিনেতাদের মৃত্যুর পরে তারকা কৌতুক অভিনেতা তেমন নেই। সেই জায়গাটা বিএনপি নেতারা অবলীলায় দখল করে নিতে পারে। কারণ করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁরা যেভাবে কথা বলছেন, তা কৌতুক অভিনেতাদেরকেও হার মানায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথাই ধরা যাক, তিনি একজন ভদ্রলোক বলেই আমজনতার কাছে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি যে কৌতুক অভিনেতা হতা চান বা হতে পারেন, সেই খবরটা জনগণের কাছে গোপনই ছিল। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে অতিকথন, তাঁকে জনগণের কাছে রীতিমত ভাঁড়ে পরিণত করেছে। তিনি বলেছিলেন যে, বাংলাদেশে হাজার হাজার করোনাভাইরাসের রোগী রয়েছে, সরকার সেটা গোপন করছে। তিনি এটাও বলেছেন যে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ করার কথাও বলেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন এই কথা বলেছেন, তখন টক শো’তে বিএনপির তারেক জিয়ার বদন্যতায় হওয়া নারী এমপি রুমিন ফারহানাও করোনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। হয়েছেন যেন তিনি ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার চেয়েও করোনাভাইরাস বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। বাকি বিএনপি নেতাদের মধ্যে দুএকজন ছাড়া কারও দেখা মিলছে না।

প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশে দেড় হাজার করোনাভাইরাস রোগী কোথায় পেলেন? কারণ যেকোন দেশের করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর পর্যবেক্ষন সেদেশের সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করেনা, তদারকি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি চৌকস, পেশাদার এবং বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে, করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশ যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তা অত্যন্ত ভালো এবং সচেতনতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। তাহলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেড় হাজার করোনাভাইরাস রোগী কোথায় পেলেন? তাঁর কাছে কি এই রোগীদের নাম-ঠিকানা আছে? নাকি বিএনপি নেতারাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বসে আছেন?

কারণ বিএনপি এখন একটা বিক্ষোভ কর্মসূচীও করতে পারে না, হরতাল দিয়ে বিএনপি নেতারা থাকে না। তাহলে কি বিএনপি নেতারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত? বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাদেরকেও এখন কোন কর্মসূচীতে দেখা যায় না। তাঁরা কি এখন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন দায়িত্ববান রাজনীতিবিদ। তিনি যখন দেড় হাজার করোনাভাইরাস রোগীর কথা বলেছেন, তখন নিশ্চয়ই এটা গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। তিনি কি অনুগ্রহ করে বলবেন যে, এরা কি বিএনপির নেতাকর্মী? তাহলে তিনি যদি সাব্রেনা ফ্লোরাকে ফোন করে তাঁদের নাম-ঠিকানা দেন তাহলে তাঁদেরকে কোয়ারেন্টাইন করা যায় এবং সরকার করোনাভাইরাসের জন্য কতগুলো হাসপাতাল খালি করে রেখেছে, সেই হাসপাতালেও তাঁদেরকে ভর্তি করা যেতে পারে। কারণ বিএনপি এমনিতেই এখন রাজনৈতিক করোনায় আক্রান্ত। কারণ তাঁদের নেতাকর্মীরা নিজেদেরকে কোয়ারেন্টাইন করে রেখেছেন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতেও লোক জড়ো করে আন্দোলন করার শক্তিও তাঁদের নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যেমন এখন তাঁর পরিবার দৌড়ঝাঁপ করছে, তেমনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে দেশবাসী বিরক্ত।

লক্ষ্যনীয় যে, গত ১১ বছরে বিএনপি কোন ইস্যু তৈরি করতে পারেনি, বরং ইস্যুর দিকে ছুটেছে। যখন যেদিকে বৃষ্টি পড়ে, সেদিকে ছাটা ধরার মতো করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কখনো ডেঙ্গু, কখনো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কখনো কোটা আন্দোলন ইত্যাদির উপর ভর করে রাজনীতি করতে চেয়েছেন। তাঁদের নিজস্ব ইস্যু ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক জিয়ার দেশে ফেরা। অথচ যেকোন ইস্যুতে বিএনপির দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে জনগণ। সেই দায়িত্ব পূরণে বিএনপি সীমাহীন ব্যর্থ। আমরা জানি যে, ইতালিতে করোনা মহামারি আকার ধারণ করায় গোটা ইতালিকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। কাজেই করোনা আক্রান্ত গোটা বিএনপিকেও কোয়ারেন্টাইন করার সময় এসেছে বলে মনে করছে দেশের সাধারণ মানুষ।

 

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close