আলোচিতরাজনীতি

অতি উৎসাহে বিতর্কিত যারা

বার্তাবাহক ডেস্ক : মুজিববর্ষ নিয়ে অতিউৎসাহ দেখাতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং মন্ত্রী। এই অতি উৎসাহের জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রীই তাঁদের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই অতি উৎসাহীরা দলের মধ্যেই বিতর্কিত হয়েছেন এবং দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন।

অতি উৎসাহে যারা বিতর্কিত হয়েছেন এদের মধ্যে অন্যতম শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর মুখোশ পড়েন এবং আগত শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর মুখোশ পড়ান। এই বিষয়টি নজরে এলে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ডেকে এই ব্যাপারে তাঁর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। ঐ মন্ত্রণালয়েরই একটি বিভাগে টিস্যু বক্স তৈরি করতে গিয়ে অতি উৎসাহের পরিচয় পাওয়া গেছে। অতি উৎসাহে তাঁরা টিস্যু বক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করেছে। এই নিয়েও প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এই ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যারা এটা করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সময় গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

মুজিববর্ষে আরেক বিতর্কিত অতি উৎসাহী হলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: মুরাদ হাসান। তিনি মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উদযাপন কমিটি বা কারও সাথে কথা না বলেই একটি থিম সং রচনা করে ফেলেছেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর গোচরে এলে, প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্বনামধন্য গীতিকার বিভিন্ন থিম সং রচনা করেছেন, সেগুলো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা পড়বেন এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অনুমতি না নিয়েই তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এহেন সঙ্গীতজ্ঞ হয়ে ওঠায় বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকাশ্যে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিরষ্কার করেছেন।

মুজিববর্ষে আরেক বিতর্কিত অতি উৎসাহী হলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু মুজিববর্ষে প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে ঘর দেয়ার কথা বলেছেন, এই কথা বলা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে করার জন্য। কিন্তু অতি উৎসাহী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর যেন আর তর সয় নি। তিনি গোপালগঞ্জের ২৮০০ মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের জন্য ঘর বানিয়ে দেবার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য এই টুঙ্গীপাড়া এবং কোটালিপাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে এবং প্রধানমন্ত্রী এটা জানেন না। যখন প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানেন, তখন তৎক্ষণাৎ তিনি এটা বাতিলের ঘোষণা দেন এবং তীব্রভাবে ভৎসনা করেন দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রীকে।

এ তো গেল মন্ত্রী পর্যায়ে অতি উৎসাহীদের, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মুজিববর্ষ নিয়ে অতি উৎসাহীদের ছড়াছড়ি। জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী এমন ১৩০ জনের তালিকা প্রস্তুত করেছেন, যারা এমন অতি উৎসাহের নামে বাড়াবাড়ি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং সতর্ক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close