আলোচিত

করোনায় পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছেন কাশিমপুর কারাগারের বন্দিরা

বার্তাবাহক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ প্রায় অবরুদ্ধ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আর এতে সাক্ষাতের সুযোগ কমে আসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাবন্দিদের টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেছে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে বন্দিদের সঙ্গে তাঁদের স্বজনদের টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ।

বুধবার থেকে এ সেবা পেয়ে কারাবন্দিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা। তবে অল্প সময়ে বেশি সেবা দিতে হলে টেলিফোন বুথ বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

কারাগারে বন্দিদের সপ্তাহে একদিন টেলিফোনে পাঁচ মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

তবে ফোনে কথা বলার সুযোগ কারাবন্দি জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পাবেন না। নতুন যেসব বন্দিকে কারাগারে আনা হচ্ছে তাদের থার্মোমিটারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় ও মুখে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন বন্দিরা। একজন বন্দী সপ্তাহে একবার করে পাঁচ মিনিট করে কথা বলতে পারবেন। এ জন্য তাদের পিসি (প্রিজনার ক্যাশ) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মিনিটের জন্য এক টাকা করে কেটে নেয়া হবে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার বাহারুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমন পরিস্থিতে বুধবার থেকে কারাগারে চালু হয়েছে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ। এতে বন্দি ও তার স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দু’টি সেট থেকে প্রতি বন্দি ৫ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। এরজন্য কারাগারে তাদের পিসি একাউন্ট থেকে ৫ টাকা করে কাঁটা হবে। প্রতি সপ্তাহে একবার তারা এ সুযোগ পাবেন। তবে হাজতি বন্দিদের সঙ্গে ১৫ দিনে একবার এবং কয়েদি বন্দিদের সঙ্গে এক মাসে একবার তাদের স্বজনদের স্বাক্ষাৎকারের সুযোগ রয়েছে। সরকারি আদেশেই বুধবার থেকে বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের টেলিফোনে কথা বলার সিস্টেম চালু হয়েছে। এ কারাগারে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বন্দি রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা আবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫ঘন্টা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন বন্দিরা। শুরুর দিন ৬০জনের কথা হয়েছে। আর সরাসরি স্বাক্ষাৎপ্রার্থী ছিলেন ৪৫জন। কারাগারে সবাইকে টেলিফোন সেবা দিতে গেলে টেলিফোন সেট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এজন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ওই কারাগারের স্বাক্ষাত প্রার্থী টাঙ্গাইলের জাহিদ ও ভাষানটেক এলাকার মোখলেছ সরকার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে কারাবন্দি ও তাদের স্বজনদের মধ্যে অনায়াসে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হলো। দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে দুর-দুরান্ত থেকে তাদের কষ্ট করে আসতে হবে না।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাইসিকিউরিটি কারাগারের সুপার মো. সফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম দিনে হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দুইটি টেলিফোন সেটের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক বন্দি টেলিফোন সেবা গ্রহণ করেছেন। আর স্বাক্ষাৎ প্রার্থী ছিলেন মাত্র ৭০জন। তিন সহস্রাধিক বন্দির জন্য দু’টি সেটে অপ্রতুল। কম সময়ে বেশি এ সেবা দিতে হলে আরো টেলিফোন বুথ/সেট বাড়ানো প্রয়োজন মনে করেন তিনি।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, উদ্বোধনীদিন এ কারাগার থেকে একটি সেটে ৩০ জন নারী বন্দি স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিন স্বাক্ষাৎ প্রার্থী ছিলেন মাত্র ৭০ জন। তার কারাগারে বন্দি সংখ্যা হলো ৮৪৭জন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সুপার রত্না রায় বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে এ কারাগারে একটি টেলিফোন সেট থেকে কথা বলা শুরু হয়েছে। এ কারাগারে দেড় হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। কয়েকদিন গেলে সেট বাড়ানো প্রয়োজন হবে কি-না তা বুঝা যাবে। তবে এ সেবা সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পেরে খুবই খুশী।

কারা কর্মকর্তারা জানান, নতুন যেসব বন্দিকে কারাগারে আনা হচ্ছে তাদের থার্মোমিটারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের ভেতর তারা বিদেশ ভ্রমণ করেছেন কিনা কিংবা তাদের কোনো স্বজন বিদেশ থেকে এসেছেন কিনা সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বন্দিদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করাহ হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বন্দিদের ১৪ দিনের জন্য পুরাতন বন্দিদের থেকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে। সে জন্য মহিলা ও পুরুষ বন্দিদের জন্য আলাদা  ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close