আলোচিত

পিপিই বিক্রি করছেন মাছ বিক্রেতারাও!

বার্তাবাহক ডেস্ক : ‘হাওর ফিস’ ফেসবুকভিত্তিক একটি অনলাইন শপ। এখান থেকে বিক্রি কর হয় মাছ। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবে মাছের বদলে তারা মাস্ক, স্যুট, গগলস-সহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিক্রি শুরু করেছেন। করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগেই অননুমোদিত, মানহীন সুরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করছেন অনেকেই। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পেজ থেকে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে।

‘হাওর ফিস’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন ধরনের পিপিই স্যুট বিক্রি করছেন। রি-ইউজেবল, ওয়াটার অ্যান্ড এয়ার প্রুফ প্যারাসুট কাপড়ের স্যুট ১৯৫০ টাকা. টিস্যু কাপড়ের স্যুট ৯৫০ টাকা, ট্যাফে কাপড়ের স্যুট ১৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। এছাড়া গগলস ১৪৮০ টাকা, বুট জুতা প্রতি জোড়া ১১৫০ টাকা, সার্জিক্যাল মাস্ক ৫০ পিসের বক্স ১৫৫০টাকা, ভেনাস মাস্ক প্রতি পিস ৫৫০ টাকা, গ্লাভস ১০০ পিসের ১ প্যাকেট ৯৫০ টাকা, সু-কভার ডিসপজিবল ১০০ পিসের ১ প্যাকেট ১০৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তাদের প্রতিনিধি জানান, আমরা নিজেরাও পিপিই তৈরি করছি, একইসঙ্গে আমাদানি করা পিপিই আছে। অনেকই কিনছেন আমাদের কাছ থেকে, কারও কোন অভিযোগ আসেনি। বিএমএইচ থেকে আমরা অনুমোদন নিয়েছি।

আরেক মাছ বিক্রির ফেসবুক পেজ ‘রিভার ফিস’। তারাও পিপিই বিক্রি করছে। ফেসবুকভিত্তিক অনেক অনলাইন শপেই বিক্রি হচ্ছে পিপিই। কোনও কোনও পেজে শুধু পিপিই স্যুট বিক্রি করা হচ্ছে, কোথাও মাস্ক, গগলসও বিক্রি হচ্ছে। এসব পেজের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দামও বিভিন্ন রকমের। মুলত পানিরোধী কাপড় দিয়ে এসব পোষাক তৈরি করা হচ্ছে। ৭০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত এসব পোষাক বিক্রি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, করোনার ভীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ধরণের কাপড় ব্যবহার করেই পিপিই স্যুট তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এসব স্যুট তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। স্বাস্থ্য অধিদফতর বা সরকারের কোনও সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই বানানো হচ্ছে এসব পণ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এর রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের পিপিই ব্যবহার করতে হবে। পিপিই হতে হবে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের উপযোগী। এই পোশাক হবে কম্বো পিপিই -কাভার অল, হেডমাস্ক, গগলস, বুট এবং সু-কাভারসহ। এগুলো হবে ডিসপোজেবল, একবার পরার পর ফেলে দিতে হবে। যদিও চিকিৎসক, রোগীর কক্ষে থাকা স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ প্রতিটি স্তরের পেশাজীবীদের জন্য পৃথক পৃথক পিপিইর কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের লজিস্টিক সাপোর্ট বিষয়ক কমিটির সদস্য ডা. শামীম রিজওয়ান বলেন, পিপিই তৈরির জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে। সেগুলো না মেনে তৈরি করা হলে কোনওভাবেই ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। গুণগত মান নিশ্চিত না করে কোনওভাবই সেগুলো বাজারজাত কারও ঠিক নয়।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close