আলোচিত

গাজীপুরের ২৮ জনসহ সারাদেশে শনাক্ত আরো ২১৯ জন: মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছুঁয়েছে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুরের ২৮ জনসহ সারাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছেন- ২১৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগী-১২৩১ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৪ জন। এদের মধ্যে তিন জন পুরুষ এবং এক জন নারী।

সারাদেশে মোট মারা গেছেন ৫০ জন।

নতুন করে মারা যাওয়া চার জনের মধ্যে ৭০ বছরের বেশি বয়স ২ জনের। আর ৫০ বছর একজন রয়েছেন যিনি চিকিৎসক মইনউদ্দিন। তিনি ১৫ই এপ্রিল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এছাড়া ৩৫-৪০ বছরের মধ্যে একজন। তবে কোভিড-১৯ ছাড়াও তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৪৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ১৭৪০ টি নমুনা পরীক্ষার পর এই সংখ্যা পাওয়া যায়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেফারেল সেন্টারের রিপোর্টটি যথাসময়ে হাতে না পাওয়ার কারণে গতকালের তুলনায় আজকের পরীক্ষার সংখ্যা কম বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন রয়েছেন ৭১ জন। এনিয়ে মোট ৪৩৩ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।

সারা দেশে ৬৪ জেলার সব উপজেলা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ জন সুস্থ্য হয়েছেন এবং এনিয়ে মোট ৪৯ জন সুস্থ্য হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, বাসাবো এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। নতুন করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কেরানীগঞ্জেও বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব এলাকায় লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকরের কথা জানানো হয়।

গাজীপুরের পাঁচ উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো নতুন করে আরো ২৮ জন নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কাপাসিয়ায় ১৬, কালীগঞ্জে ৫, শ্রীপুরে ৪ এবং কালিয়াকৈর ৩ জন রয়েছে।

এর আগে কাশিমপুর থানার তেঁতুইবাড়ি এলাকায় অবস্থিত শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল এন্ড নার্সিং কলেজের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকা অবস্থায় (কোভিড-১৯) করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন চিকিৎসক (কোভিড-১৯) করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছে। ওই সব চিকিৎসক বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছে। এছাড়াও পুলিশের এক এসআই ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দু’জনসহ পাঁচ উপজেলায় মোট ৫৩ জন করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছিল। এনিয়ে মোট গাজীপুরের পাঁচ উপজেলায় ৮১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা মাথায় রেখে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২০০০ শয্যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনেও ১৩০০ শয্যা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সবেচয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায়। সেখানে মোট ৫৭জন কোভিড-১৯ এর রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরেই আছে নারায়নগঞ্জ। আর দিনাজপুরে ৭ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। যারা সবাই ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে দিনাজপুরে গেছে।

তিনি বলেন, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা আগামী কয়েক দিনে আরো বাড়ানো হবে। আর এর ফলে পুরো বাংলাদেশের চিত্র পাওয়া যাবে।

আর তখন দেশের কোন অঞ্চলে কী ধরণের ব্যবস্থা নিতে হবে তা বোঝা যাবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।

তিনি বলেন, যারা সংক্রমণের শিকার হবেন তাদের মধ্যে অধিকাংশের লক্ষণ দেখা যাবে না। কিছুর মধ্যে মৃদু সংক্রমণ থাকবে। কিন্তু যারা বয়স্ক বা অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা আছে তারা মারাত্মক পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন।

এতোদিন জানতাম, ঢাকায় নং ৫৭টি। তার পরে নারায়নগঞ্জ এপিসেন্টার। এখন দিনাজপুর ৭টি। এরা সবাই ঢাকা- নারায়নগঞ্জ থেকে দিনাজপুরে গেছে।

 

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close