আলোচিত

কালীগঞ্জে এক শিশুসহ নতুন করে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত, আইসোলেশনে পাঠাতে বিলম্ব?

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক শিশুসহ নতুন করে আরো পাঁচজন (কোভিড-১৯) করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে পাঠাতে বিলম্ব হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন আক্রান্ত রোগীেদের স্বজনরা।

নমুনা পরীক্ষার পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) আইইডিসিআর থেকে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসলেও আক্রান্ত পাঁচ রোগীকে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১ টার পর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কালীগঞ্জে নতুন আরো পাঁচজন (কোভিড-১৯) করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে বলে জনিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ শিবলী সাদিক।

গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, করোনা পজেটিভ হওয়া ওই পাঁচজন এর আগে করোনা পজেটিভ (শনাক্ত) হওয়া রোগীদের স্বজন। এর মধ্যে রয়েছে গত ১২ এপ্রিল শনাক্ত হওয়া উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকা অবস্থানরত ঢাকা ফেরত ওই নারীর দুই ছেলের স্ত্রী এবং এক ছেলের ১৮ মাস বয়সি এক কন্যা শিশু। এছাড়াও একইদিন শনাক্ত হওয়া তুমলিয়া ইউনিয়ন সোমের ইছাপুরা এলাকার ওই নারীর ছেলের স্ত্রী এবং তাঁর দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে।

আক্রান্ত রোগীের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার (১৫ এপ্রিল) আইইডিসিআর থেকে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসলেও একদিন পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার পর তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কালীগঞ্জে দিন দিন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যেও আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে পাঠাতে বিলম্ব করা হচ্ছে। এতে করে এলাকায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীরা ঠিক মতো ঘরে থাকছে না। এ বিষয়েও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘নাম ঠিকানা প্রচার নিষেধ। রোগীকে সরানোর আগে জানালে রোগী পালিয়ে যায়। রোগীর ঠিকানা প্রকাশ করার পারমিশন নেই। তবে রোগী নিয়ে গেলে এমনিতেই সবাই জানতে পারবে’।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ শিবলী সাদিক বলেন, নমুনা পরীক্ষার পর বুধবার আইইডিসিআর থেকে রিপোর্ট আসলে নতুন করে আরো পাঁচজন করোনা পজেটিভ বলে জানা যায়। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের পাঁচ জনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ওই পাঁচ রোগীর সংস্পর্শে আসা সকলের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর পাঠানো হবে এবং আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইন করে তাদের বাড়িতে সতর্কতামূলক লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ডা. মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দের ফেসবুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে তিনি প্রথমে পোস্ট করেন ‘আজ ১৫ এপ্রিল শনাক্ত হওয়া ৫ জন’। এরপর বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৬ মিনিটে পোস্ট করেন ‘আজ ১৫ এপ্রিল করোনায় নুতুন আক্রান্ত হওয়া ৫ জন, ২ জন ইছাপুরা ৩ জন উত্তর ভাদার্ত্তী’।

এছাড়াও ১৪ এপ্রিল কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন চিকিৎসক (কোভিড-১৯) করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হলেও তিনি তা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কাছে গোপন করেন। কিন্তু পরবর্তী ওই চিকিৎসকের নাম এবং ঠিকানা ফেসবুকের মধ্যে বিভিন্ন লোকজনকে জানিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত।

উল্লেখ্য : কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন চিকিৎসকসহ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৪ জন করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্য জেলা থেকে আসা ৭ জন এবং স্থানীয় একজন নারী রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের সংস্পর্শে আসা একজন চিকিৎসকসহ আরো পাঁচজন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত ওই চিকিৎসক বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছে।

 

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close