আলোচিত

অসাধু ব্যবসায়ীরা তৎপর, দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের

বার্তাবাহক ডেস্ক : করোনা মোকাবেলায় কার্যত লকডাউন হয়ে থাকা দেশে কর্মহীন মানুষ দিশেহারা। এ অবস্থায়ও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন।

অথচ গণপরিবহনে সংকট থাকলেও বাজারে পণ্য সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিকই আছে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সোমবার দেওয়া তথ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রতিকেজি মশুরের ডালে দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সাত দিনে কেজিতে পেঁয়াজের ‍দাম ২১ শতাংশ এবং রসুনের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া, মাস ব্যবধানে কেজিতে ছোলার দাম প্রায় ৭ শতাংশ, চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৪ শতাংশ এবং খেজুরের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

টিসিবি আদার দাম কেজিতে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ বাড়ার তথ্য দিলেও আদতে ঔষধি গুণ সম্পন্ন এই পণ্যটির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি আদা এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসিন্দা, গৃহিনী তানিয়া জাফর বলেন, ‘‘এ মাসের শুরু থেকে আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। ‍আমি সপ্তাহখানেক আগে এক কেজি আদা ৪৪০ টাকায় কিনেছি।’’

বুধবার সকালে তিনি বাড়ির কাছের একটি সুপার শপে রোজা উপলক্ষে বাজার করতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘মোটামুটি সব কিছুরই দাম বেড়েছে। গত মাসে মশুরের ডাল ১১০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ কিনেছি ১৪৫ টাকায়। যে গুড়া দুধের প্যাকেট ৩০০ টাকায় নিয়েছিলাম সেটা এখন ৩১৫ টাকা। বাজারে মানুষের ভিড়ও মনে হচ্ছে বেড়েছে। আমি সাবধানতা অবলম্বন করেই বাজার করার চেষ্টা করছি।’’

সিলেটে একটি বেসরকারি কোম্পানির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা ফজলুল করিম নয়ন বলেন, ‘‘একমাস ধরে ঘরবন্দি হয়ে আছি। ছুটির আগে কিছু চাল-ডাল কিনে রেখেছিলাম। পাড়ার দোকান থেকেই বাকি বাজার করছি। দুই দিন আগে আদা কিনেছি ২৯০ টাকা দরে, যদিও সেগুলোর মান ভালো ছিল না। সব ফলের দাম কেজিতে ৪০/৫০ টাকা বেড়ে গেছে। খেজুর ও ছোলার দামও বেড়েছে। তবে ডিমের দাম স্বাভাবিক আছে।’’

করোনা সংকটের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া রোজায় নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তা-সহনীয় ‍রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাজার নজরদারির নির্দেশ দিচ্ছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরসহ একাধিক সংস্থা বাজার তদারকিতে নেমেছে।

বুধবার অধিদপ্তরটির উপসচিব মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার তার ফেসবুক পাতায় একটি ভিডিও শেয়ার করলে সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে রাজধানীর শ্যামবাজারে ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি আড়তে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরের ‍অভিযানের চিত্র তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে উপসচিব শাহরিয়ারকে বলতে শোনা যায়, ‘‘করোনা ও রোজার কারণে আদার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মহাপরিচালক এ বিষয়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। বিদেশ থেকে আমদানি করা আদার সর্বোচ্চ দাম পড়ে ৯৭ টাকা। অথচ দোকানে চায়না আদার পাইকারি দাম লেখা আছে ২৪৫ টাকা এবং চায়না রসুন ১৪৮ টাকা।’’

প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের ক্রয়ের ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জরিমানা করা হয় এবং পুনরায় অতিরিক্ত দাম রাখলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়।

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান টেলিফোনে বলেন, ‘‘পত্রিকা-টেলিভিশন দেখে তো মনে হচ্ছে কিছু কিছু জিনিসের দাম বাড়ছে। সরবরাহে কিছু বিঘ্ন ঘটায় এমনটা হচ্ছে৷ সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। একদিকে কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে সরবরাহ সংকটে ঢাকায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাল পরিবহনের ব্যবস্থা করা গেলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থা ঘনীভূত হবে না।’’

টিসিবির তথ্যানুযায়ী, এ সপ্তাহে প্রতিকেজি ছোলা ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহেও যা ৭৫-৮০ টাকা ছিল। মাঝারি মানের খেজুর প্রতিকেজি ৩০০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে তা যা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ছিল।

বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা অবশ্য পণ্য পরিবহনে অসুবিধা ও লেবার না থাকার কথা বলছেন।

রাজধানীর কাঁঠাল বাগান কাঁচাবাজারের একজন মুদি দোকানি বলেন, লেবার না থাকায় নিজে গিয়ে ডিলার থেকে মালপত্র কিনে আনতে হচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাল পরিবহণ ব্যয়ও বেশি পড়ছে। তাছাড়া, ডিলারদেরও একই কারণে পরিবহন ব্যয় বেশি হচ্ছে।

‘‘ঝুঁকি নিয়ে যারা মাল পরিবহণ করছে, তারা দাম বেশি রাখছে। ডিলারদের খরচ বেশি হওয়ায় তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরাও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।’’

আজমল হোসেন নামে একজন বেসরকারি চাকুরে বলেন, তিনি টিসিবিতে গিয়ে পণ্য পাননি।

‘‘চাল-ডালসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। আগে যে ডাল ৮০ টাকায় কিনতাম সেটা এখন ১০০ টাকা৷ আর ১০০ টাকার টা ১২০-১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। চালের দামও কেজি প্রতি ৫-৬টাকা করে বেড়ে গেছে। সবজির দাম বাড়তি। ভোজ্যতেল খুব একটা বাড়েনি। তবে মানুষ বেশি বেশি কেনায় পণ্য সংকট রয়েছে।’’

দায়িত্ব পালন করতে বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ির শনির আখড়া মাছ বাজারে গিয়েছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফটো সাংবাদিক আসিফ মাহমুদ অভি। বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘বাজারে মানুষ গিজগিজ করছে। চারদিন আগে আমি শিং মাছ ৪৪০টা এবং পাবদা মাছ ৩২০টাকা কেজি দরে কিনেছি।

কিন্তু আজ সেগুলো কেজিতে যথাক্রমে ৪৮০ ও ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি, যেটা ওই দিন ৪৫০ থেকে ৪৮০টাকা কেজি ছিল।’’

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

 

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close