আলোচিতস্বাস্থ্য

সূর্যালোক শরীরে ঢুকিয়েই ধ্বংস করা যাবে করোনা: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক বার্তা : সূর্যালোক বা কোনও শক্তিশালী আলো চামড়া ফুঁড়ে আমাদের শরীরে ঢুকলেই কোভিড-১৯ ভাইরাসকে ধ্বংস করা যাবে। নোভেল করোনাভাইরাসকে রোখার এই উপায় বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, জীবাণুনাশক যে ভাবে শরীরে ঢোকানো হয়, সেই ভাবে সূর্যালোক বা কোনও শক্তিশালী আলো দেহে ঢুকলেই নিংশেষ হবে কোভিড-১৯। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় নানা সমালোচনা, কটাক্ষও।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে হোয়াইট হাউসের হোমল্যান্ড সিকিওরিটি দফতরের সচিবের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা উইলিয়াম ব্রায়ান বলেন, ‘‘মার্কিন প্রশাসনের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাস বধ করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে অতিবেগুনি রশ্মি। এটাই এখনকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ। দেখা গিয়েছে, মাটিতে বা বায়ুতে ভেসে থাকা, দু’টি অবস্থাতেই এই ভাইরাসকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে সূর্যালোক। তাই আশা করা যায়, আসন্ন গ্রীষ্মে এর সংক্রমণ কমে আসবে।’’ সূর্যালোকে প্রচুর পরিমাণে থাকে অতিবেগুনি রশ্মি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টার বক্তব্যের পরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ধরুন, অতিবেগুনি রশ্মি বা অত্যন্ত শক্তিশালী কোনও আলো আমাদের শরীরে পড়ল। তাতেই এটা হতে পারে। তখন অবশ্য আপনারা বলবেন, পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেই আলো যদি চামড়া ফুঁড়ে বা অন্য কোনও ভাবে আমাদের শরীরে ঢোকে, তা হলেও এই কাজটা সম্ভব হবে।’’

ট্রাম্পের বক্তব্য, দেখতে হবে, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে কোনও জীবাণুনাশকে যে ভাবে শরীরে ঢোকানো হয়, সেই ভাবেই কি সূর্যালোক বা কোনও শক্তিশালী আলোকে দেহে ঢুকিয়ে ভাইরাস মারা হবে নাকি ‘সানবাথ’-এর মাধ্যমেই সেটা সম্ভব? এই ভাইরাস যেহেতু প্রচুর পরিমাণে পৌঁছয় ফুসফুসে, তাই এই সব উপায়ে তাদের বধ করা যায় কি না, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন এই সব উপায় বাতলাচ্ছেন, সেই সময় সেখানে ছিলেন হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের কো-অর্ডিনেটর ডেবোরা ব্রিস্ক। প্রেসিডেন্টের এই সব কথা শুনে তিনি যে অবাক হয়ে গিয়েছেন, তার ভিডিয়ো পরে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

হোয়াইট হাউসে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা উইলিয়াম ব্রায়ান কয়েকটি স্লাইডও দেখান। জানান, স্লাইডগুলি বানানো হয়েছে মেরিল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল বায়োডিফেন্স অ্যানালিসিস অ্যান্ড কাউন্টারমেজার্স সেন্টার’-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের সারাংশগুলি নিয়ে। স্লাইডে দেখানো হয়, তাপমাত্রা ২১ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে কোভিড-১৯-এর অর্ধায়ু (যে সময় ভাইরাসের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়) হয় ১৮ ঘণ্টা। সে ক্ষেত্রে আর্দ্রতার পরিমাণ থাকতে হবে ২০ শতাংশ। আর যে তলের উপর সেই ভাইরাস রয়েছে, তার কোনও ছিদ্র থাকলে চলবে না। যেমন, দরজার হ্যান্ডল বা ‘স্টেনলেস স্টিল’। আর আর্দ্রতা বেড়ে ৮০ শতাংশ হয়ে গেলেই সেই অর্ধায়ু কমে হয় ৬ ঘণ্টা।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close