আলোচিতজাতীয়

কার ফাঁদে কে পড়বে!

বার্তাবাহক ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেকটা কম্প্রোমাইজিং মনে হচ্ছে, উনার বিভিন্ন সিদ্ধান্তে। এতে অনেকেই মনে করছেন যে আসলেই কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচক্রীদের ফাঁদে পড়ে গেছেন! নাকি তিনি উল্টা ফাঁদ পেতেছেন কুচক্রীদের জন্য! এটা এখনই বলা খুব মুশকিল বা টুঁ আর্লি।

সারা দেশে প্রায় ৪০টা ত্রাণ তসরুফের ঘটনা ঘটার পরে হঠাত করেই সারা দেশের ত্রাণ বিতরণ মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের রাজনৈতিক অংশকে বাদ দিয়ে আমলাদের হাতে ছেড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, হচ্ছে প্রচুর। কিন্তু শেখ হাসিনা নির্বিকার চিত্ত। কেন তিনি এমন করলেন, তাঁর উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হয়রান সবাই। তাই কিছু অনুমান করা শুরু করেছেন অনেকেই, যারা দেশ, রাজনীতি নিয়ে ভাবেন।

দুস্থদের ভিজিডি, ও এম এস, ভিজিএফ, দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের সহায়তা দেওয়া লাখ লাখ হতদরিদ্র মানুষদের তালিকা আছে। এখন ত্রাণের তালিকার জন্য ন্যাশনাল আইডি চাওয়া হচ্ছে। অসৎ মানুষ সরকারী কর্মচারী হলে ফিরিস্তা হয়ে যান না, আবার অসৎ মানুষ টাকা দিয়ে পদ বাণিজ্য আর নমিনেশন কিনে জনপ্রতিনিধি হলেও দেশ-জনতা প্রেমিক হয়ে যান না। তাই সারা দেশেই সেই আদ্দি কাল থেকেই অসৎ আমলা আর অসৎ জনপ্রতিনিধি মিলে অন্যায়, চুরি-চামারি করেন। কী কী অকাম তাঁর মিলে মিশে করেছেন তা ধরার জন্য কি এই নতুন কৌশল। হঠাত করেই সারা দেশে ত্রাণ তসরুফের ঘটনা প্রায় নাই গয়ে গেছে। এসব চুরি যে হতো তা কি স্থানীয় আমলা প্রশাসন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক জানতেন না! ভাবতে অবাক লাগে। দুষ্টু লোকেরা অনেকে বলে সবার হারাহারি ভাগ আছে এসব চুরিতে। নীচ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এর ভাগ যায়। দেশের কতভাগ লোকের কাছে বা কতজনের নামে দুস্থদের ভিজিডি, ও এম এস, ভিজিএফ, দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের সহায়তা দেওয়া হয়, হচ্ছে তাঁর তালিকা প্রধানমন্ত্রী হাতে আছে। এবার নতুন তালিকা হউক, দেখা যাক কত শতাংশের নাম ডবল এসেছে, এবার তো তালিকা করবে প্রশাসন। প্রশাসন হঠাত করেই রাজনীতিবিদদের খুব আপনজন হয়ে উঠেছে, অনবরত টেলিফোন আসছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে তালিকা তৈরিতে সহায়তা করার জন্য।

রাজনীতিবিদগণও কিন্তু বসে নেই। তাঁদের রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে তাঁদের মত করে তালিকা করছেন। সমাজের কিছু বিত্তশালী মানুষ, মধ্যবিত্ত মানুষ তাঁদের সাধ্য মত ত্রাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, নিরবচ্ছিন্ন ভাবেই। তাঁরাও চরম অস্থির জনগণের কাছে তাঁদের রাজনৈতিক ভিত্তি ঠিক রাখতে। কারণ এটা তাঁদের জন্য খুব বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

আমাদের দেশের অর্থনীতির বিরাট অংশ ফরেন রেমিট্যান্স, তৈরি পোশাক আর অন্যান্য রপ্তানি। তাঁদের সাথে আছে ব্যাক-ওয়ার্ড আর ফরোয়ার্ড লিংকেজ কোম্পানি, আছে বিভিন্ন সেবা খাত। যারা এঁকে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এসব পেশায় জড়িত আছেন লাখ লাখ পরিবার। বড়লোকেরা গরীব হবার ভয়ে অস্থির। আছে বিদেশী রপ্তানি বাজার হারানোর ভয়, ইত্যাদি। কোনটা সত্যি আবার কোনটা সত্য মিথ্যায় মেশানো সত্যি সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। বড় লোক মানে বুদ্ধিমান, কৌশল; তাঁরা চাপ দিচ্ছেন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার, না হয় লক-ডাউন শিথিল করার। শেখ হাসিনা বলেছেন, ওকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালান, সেবা খাত চালান। দেখা যাক কী হয় করোনার পরবর্তী অবস্থা। রেডিমেড গার্মেন্টস ও অন্য কারখানা আর সেবাখাত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারা কতটুকু চালাতে পারেন তার একটা পরীক্ষা কি প্রধানমন্ত্রী নিচ্ছেন! যাতে পরে সরকারের ঘাড়ে পুরোপুরি দোষ না আসে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারা রেডিমেড গার্মেন্টস ও অন্য কারখানা আর সেবাখাত চালাতে পারেন তাঁর পরীক্ষা কি নিচ্ছেন এই সব ভুল ধরা প্রণোদনা লোভী বড় লোকেদের আমাদের প্রধানমন্ত্রী! এবার প্র্যাক্টিক্যাল মানে ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়ে যাবে হাতে নাতে, দেশ ও দশের সামনে। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন সবাই খেটে খাক, সবাই দেশ গঠনে, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখুন, নিজেদের সাধ্য মত, এতে সবাই লাভবান হবেন।

১৯৭৪ সালের মত খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে কেউ যেন দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিতে না পারে তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর কৃষি খাতের উপর খুব জোর দিয়েছেন। পাকা ফসল সংগ্রহের জন্য হারভেস্টার আর শ্রমিকের যোগান ঠিক রাখতে নিজেই সব কিছু মনিটর করছেন। কৃষকদের প্রণোদনা দিয়েছেন। আর শতকরা ২ % হারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করছেন।
আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর কঠোর পরিশ্রমী মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি আমাদের শহুরে মানুষের চেয়ে। আমরা ফিল্টার পানি আর গরম খাবার না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু আমাদের শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ শহর/নগর কর্তৃপক্ষের সাপ্লাইয়ের পানি পান করেন, বাসি-পচা খাবার খেয়েই কাজ করেন। কোন সঠিক তথ্য উপাত্ত না থাকলেও মৌখিক পরিসংখ্যান ধারণা দেয় যে আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর কঠোর পরিশ্রমী মানুষের মধ্যে করোনার বিস্তার তুলনামূলক কম হবে শহুরে বাবু আর তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চেয়ে।

জীবন থেকে নেওয়া একটা গল্প বলা যায়। ১৯৭৪ সালে জাইকা যখন বাংলাদেশে জাপানিজ ভলান্টিয়ার পাঠানো শুরু করে, তখন বাংলাদেশে নিরাপদ পানিয় জলের সংস্থান ছিল না। ছিল না বোতল-জাত পানি। তাই জাপানিজ ভলান্টিয়ারদের বাংলাদেশে পাঠানোর আগেই গুলশানে জামান`স ক্লিনিক নামের একটা ক্লিনিক বুক করে রাখা হতো। কারণ জাপানিজ ভালাণ্টিয়ারগণ বাংলাদেশে আসার পরেই সবাই এক থেকে তিন বার ডায়রিয়ায় আর আমাশয়ে আক্রান্ত হতেন। এক মাসে ২/৩ বার আক্রান্ত হবার পরে জাপানিজ ভালাণ্টিয়ারগণের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেত। তখন তাঁদের সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো কাজে।

বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতির চাকা অর্থাৎ বিভিন্ন খাতের উৎপাদন, রপ্তানি আর সেবা তো আর বন্ধ করা যাবে না। উন্নত দেশেও অনেক জায়গায় সীমিত আকারে লক-ডাউন তুলে নিচ্ছেন সেই সব দেশের সরকার। যেহেতু করোনাভাইরাসের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আর এর টিকা আবিষ্কারও সময় সাপেক্ষ। কারণ করোনাভাইরাসের চরিত্র বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের। ভারতে বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই ১২ ধরণের কেভিড-১৯ মানে এই করোনাভাইরাসের জেনেটিক রূপ দেখতে পেয়েছেন। তাই নিজেরা সাবধান হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্য আর দশটা দেশের মত করে জীবন চালানো ছাড়া উপায় কী! তাই যারা যে যে ফাঁদ পেতেছেন, তাতে কে কাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে সফল হবে তা অচিরেই পরিষ্কার হবে। এতে যে বাংলার মানুষের কল্যাণে শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপের জয় হবে তা প্রত্যাশিত অনুমান করা যায়।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close