সারাদেশ

‘৫০ লাখ টাকার অর্থ সহায়তা’ নিয়ে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে হাজির হচ্ছেন কালীগঞ্জ পৌর মেয়র

বার্তাবাহক ডেস্ক : করোনার প্রভাবে গাজীপুরের  কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের দশ হাজার পরিবারকে নগদ ৫০ লাখ টাকার অর্থ সহায়তা প্রদানের কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. লুৎফুর রহমান।

তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ মহৎ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গত ২৪ এপ্রিল থেকে হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মেয়র লুৎফুর রহমান নিজ হাতে নগদ অর্থ বিতরণ করে যাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের পহেলা ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৫.২০ বর্গ কি:মি: আয়তনের এই পৌরসভার লোক সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। এর বাহিরে আরো প্রায় ১০ হাজার লোক উপজেলার এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে অস্থায়ীভাবে পৌরসভায় বসবাস করেন। সব মিলে ১৮-২০ হাজার পরিবারের বাস কালীগঞ্জ পৌর এলাকায়। বিগত ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই থেকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. লুৎফুর রহমান।

কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুর্বাটি এম ইউ কামিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আব্দুল মান্নান ভূইয়া মেয়রের নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, করোনার কারণে পরিবার নিয়ে যখন কষ্টের মধ্যে সংসার চলছে। ঠিক এমন সময় কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. লুৎফুর রহমান আমাদের বাড়ি এসে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে দিয়ে অনেক উপকার করলেন।

একই ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা ইব্রাহিম আকন্দ নামে এক যুবক। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মোবাইল এক্সেসরিজ এর ব্যবসা করেন। মেয়রের অর্থ সহায়তা পেয়ে তিনি বলেন, করোনার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না, তাই ব্যবসাও বন্ধ হয়ে গেছে। এমন সময় মেয়রের এই সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। তিনি আরো বলেন, মেয়র বাড়ি এসে নিজ হাতে ৫শ’ টাকা দিয়ে গেছেন। মেয়রের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধবা কহিনুর বেগম বলেন, আমার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে করোনার কারণে ঘরে বসা। বাজার করার মতো কোনো টাকা হাতে ছিল না। আজ বৃহস্পতিবার মেয়র সাব এসে আমাকে ও আমার ছেলেকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে গেলেন। কিভাবে ওনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো ভাষায় পাচ্ছি না।

একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, শিশুসহ তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। একটি কারখানায় চাকরি করতেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে চাকরি প্রায় অনিশ্চিত। গত মাসের বেতন না পাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার হঠাৎ পৌর মেয়র এসে তাদেরকে দুই হাজার টাকা দিয়ে গেলেন। তিনি বলেন, এতে নিশ্চিন্তে রোজা রেখে রমজান মাসটা পার করতে পারবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর এলাকার এক গৃহবধূ মেয়রের অর্থ সহায়তা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, রিকশা চালক অসুস্থ স্বামীর আয় দিয়ে কোন রকম খেয়ে পড়ে সংসার চলতো। আজ ৫ দিন ধরে বেশী অসুস্থ থাকায় রিকশা নিয়ে বেরোতে পারি নাই। ছোট বাচ্চা নিযে নিজেও ঘর থেকে বের হইনা। গত দুই দিন শুধু চাউল আর একটা আলু ভাতে সিদ্ধ করে কোন রকম খাচ্ছি। গত রাতে সব কিছু ফুিরয়ে গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবছি কি করবো; ভাড়া থাকি কাউকে তেমন চিনিও না। হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদেরকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে পরিচয় না দিয়েই চলে গেলেন। পরে জানতে পারলাম উনি কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র। মনে হলো যেন অলৌকিকভাবে আল্লাহ উনাকে পাঠাইছেন, নইলে ছোট বাচ্চা ও অসুস্থ স্বামী নিয়ে না খেয়ে মরতে হতো।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে কালীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের প্রায় দশ হাজার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করার জন্য প্রথম পর্যায়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতি পরিবারকে অর্থ সহায়তা হিসেবে নগদ পাঁচ শত টাকা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমি নিজে পৌঁছে দিচ্ছি। আমার এলাকায় যাতে কেউ অভুক্ত অবস্থায় না থাকে এজন্য আমার এ কর্মসূচি চালু রেখে আমি তাদের মুখে অন্য তুলে দেবার যথা সাধ্য চেষ্টা করবো। আজকে পর্যন্ত প্রায় চার হাজার পরিবারকে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সকলকেই এ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আমার পৌর এলাকায় কোনো মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। আমি তাদের জন্য আছি, কেউ খাদ্য সংকটে পড়লে আমার মোবাইল নাম্বার সবার কাছে পৌঁছে দেবেন, কর্মহীন মানুষ ইচ্ছা করলে সরাসরি আমার কাছে ফোন করলে অর্থ সহযোগিতা পৌঁছে দেব।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close