আলোচিতসারাদেশস্বাস্থ্য

চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় কালীগঞ্জে ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন

বার্তাবাহক ডেস্ক : চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে নির্দিষ্ট ডিজাইনের পাঁচটি ‘করোনাভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি এবং কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে স্থাপনের উদ্যেগে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জের বুথ থেকে সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে।

gazipurkontho
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ থেকে সেবা নিচ্ছেন একজন রোগী।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক বলেন, জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলায় আরো কয়েকটি বুথ স্থাপনের উদ্যেগে নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ বহন করে আসা কোনও রোগীর মাধ্যমে যাতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ ঝুঁকির মধ্যে না পড়েন সেজন্য এ বুথ গুলো স্থাপনের উদ্যেগে নেওয়া হয়। এতে রোগীরাও নিরাপদ থাকবেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ বুথ’ শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক উদ্বোধন করেন। আজ থেকে আউটডোর ও জরুরি বিভাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা বুথ থেকে সেবা নিতে শুরু করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সম্পূর্ণ কাচ দিয়ে ঘেরা এই বুথের মধ্যে একজন চিকিৎসক অবস্থান করবেন। সামনের সামান্য ফাঁকা জায়গা দিয়ে গ্লাভস পরিহিত হাত বের করে রোগীর রক্তচাপ নির্ণয় এবং থার্মাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করবেন। স্থাপন করা সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে চিকিৎসক ও বাইরে থাকা রোগীর মধ্যে কথোপকথন হবে। এ সময় কোনও রোগীর তাপমাত্রা করোনাভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে মিলে গেলে তাকে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে পাঠানো হবে। এতে নমুনা সংগ্রহকারী ও প্রদানকারী একে অন্যের সংস্পর্শে যেতে হবে না। এভাবে একজন সংগ্রহকারী অধিক লোকের নমুনা সংগ্রহ করলেও তার সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকবে না।

উল্লেখ্য: গত ১২ এপ্রিল থেকে ৩০ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৪৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর থেকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছয়জন চিকিৎসক ও ৮ জন নার্সসহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট রয়েছে ২৫ জন, পুলিশ সদস্য ১৬ জন এবং উপজেলা প্রশাসনের ৪ জন। এর বাহিরে রয়েছে আরো ৪৬ জনসহ মোট ৯১ করোনা পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত ৯১ জনের মধ্যে একজন চিকিৎসকসহ মোট ৬ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করেছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close