আন্তর্জাতিক

ভারতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ল ১৭ মে পর্যন্ত : অনেক বিধিনিষেধই শিথিল

আন্তর্জাতিক বার্তা : আরও বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ। তৃতীয় দফায় আরও ১৪ দিনের জন্য লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি এখন যে রকম, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই চোদ্দ দিনে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের কার্যকলাপ চলবে অথবা চলবে না, তা নিয়েও কেন্দ্র এ দিন নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। গ্রিন জোন এবং অরেঞ্জ জোনে অনেক বিধিনিষেধই শিথিল করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র।

শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক করেন অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে। সেই বৈঠকেই করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। তার পরে সন্ধ্যা নাগাদস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়।

এক নজরে দেখে নিন কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তগুলি:

• যে সব জেলায় কেউ সংক্রামিত হননি অথবা গত ২১ দিনে কারও টেস্টিং রিপোর্ট পজিটিভ হয়নি, সেই সব জেলাকে গ্রিন জোন ধরা হবে।

• কোন কোন জেলাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে ওই জেলায় চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময়সীমা, টেস্টিংয়ের পরিমাণ এবং নজরদারি থেকে আসা রিপোর্টের ভিত্তিতে।

• যে জেলাগুলি গ্রিন বা রেড জোনের মধ্যে পড়ছে না, সেগুলিকে অরেঞ্জ জোন ধরা হবে।

• গ্রিন, রেড এবং অরেঞ্জ জোনে কোন কোন জেলাকে রাখা হচ্ছে, তা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক প্রতি সপ্তাহে রাজ্য এবং কেন্দ্রীশাসিত অঞ্চলগুলিকে জানিয়ে দেবে।

• রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি চাইলে রেড বা অরেঞ্জ জোনের তালিকায় জেলার সংখ্যা বাড়াতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রের দেওয়া রেড বা অরেঞ্জ জোনের তালিকা তারা ছাঁটতে পারবে না।

• দেশের যে জেলাগুলিতে এক বা একাধিক নগর নিগম এলাকা রয়েছে, সেই জেলাগুলির জন্য আলাদা কৌশল নিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নগর নিগম এলাকায় জনঘনত্ব বেশি থাকার কারণে সংক্রমণের আশঙ্কা ওই সব এলাকায় বেশি থাকে। কিন্তু নগর নিগমের বাইরে ওই জেলার যে সব এলাকা রয়েছে, জনঘনত্ব কম হওয়ায় সেইসব এলাকায় সংক্রমণ কমও হতে পারে। তাই ওই সব জেলাকে দু’টি জোনে ভাগ করে দেওয়ার সংস্থান কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় রাখা হয়েছে। নগর নিগম এলাকা একটি জোন, তার বাইরের এলাকা আর একটি জোন— এ ভাবে ভাগ করা যেতে পারে। যদি দেখা যায় যে, নগর নিগমের বাইরে থাকা এলাকায় ২১ দিন ধরে কোনও নতুন সংক্রমণের খবর নেই, তা হলে ওই অঞ্চলকে বিভাজনের শ্রেণিতে এক ধাপ নামিয়ে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ নগর নিগম এলাকা যদি রেড জোন হয়, তা হলে তার বাইরের এলাকাকে অরেঞ্জ জোন ঘোষণা করা যাবে। নগর নিগম অরেঞ্জ জোন হলে, বাইরের এলাকাকে গ্রিন জোন ঘোষণা করা যাবে।

• যে সব এলাকা রেড জোন বা অরেঞ্জ জোনের মধ্যে পড়ছে, স্থানীয় জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সব এলাকাকে ‘কনটেনমেন্ট জোন’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। চিকিৎসাধীন আক্রান্তের মোট সংখ্যা, এই আক্রান্তরা ভৌগলিক ভাবে কতটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন ইত্যাদির ভিত্তিতে স্থির হবে যে, কোন এলাকাকে কনটেনমেন্ট এলাকা ঘোষণা করা যেতে পারে। কনটেনমেন্ট এলাকায় আরোগ্য সেতু অ্যাপের ১০০ শতাংশ কভারেজ স্থানীয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

• গোটা দেশ জুড়ে জোন নির্বিশেষে কিছু বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ জারি থাকছে। যেমন, বিমানে, ট্রেনে, মেট্রোয় যাতায়াত, সড়ক পথে এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যে যাতায়াত। স্কুল, কলেজ, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হোটেল, রেস্তরাঁ, ধাবা বন্ধ থাকবে। সিনেমা হল, মল, জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মতো যে সব জায়গায় বড়সড় জমায়েত হয়, সে গুলো বন্ধ থাকবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় জমায়েত করা যাবে না। ধর্মস্থান বা উপাসনা স্থলে জমায়েত করা যাবে না। যদিও নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতিক্রমে বিমান, রেল বা সড়ক পথে যাতায়াত করা যেতে পারে।

• নতুন নির্দেশিকায় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও কয়েকটি ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যাবশ্যক কাজের মধ্যে পড়ে না, এমন কোনও বিষয়ের জন্য বাইরে বেরনো বা যাতায়াত করা সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কার্ফু বা অন্যান্য আইনানুগ বিধিনিষেধ জারি করতে পারবে।

• বিভিন্ন রকমের অসুস্থতা (কো-মর্বিডিটি) রয়েছে, এমন ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা, ১০ বছরের কম বয়সী শিশুরা অত্যাবশ্যক কাজ বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা ছাড়া একেবারেই বাইরে বেরোতে পারবেন না।

• সারা দেশে যে সব বিষয়ের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে, রেড জোনগুলোয় (কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে) তার সঙ্গে আরও কিছু অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি থাকবে। সাইকেল রিকশা, অটো রিকশা, ট্যাক্সি বা ক্যাব জেলার ভিতরে চলাচল করা বাস, সেলুন, স্পা চালানো যাবে না।

• রেড জোনগুলোয় কিছু কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ-সহ। যে সব কাজের জন্য বাইরে বেরনোর অনুমতি রয়েছে, সে সব কাজের জন্য ব্যক্তি বা যানবাহনের যাতায়াতে ছাড় দেওয়া হবে। তবে চার চাকার গাড়িতে চালক ছাড়া আর দু’জনকে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে। বাইকে এক জনই আরোহী থাকবেন, পিছনে কাউকে বসানো যাবে না।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close