আলোচিতস্বাস্থ্য

গাজীপুরে ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র পেলেন সাত চিকিৎসকসহ ১১৮ জন

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুরে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকা ৩৩৬ জনের মধ্যে সাত চিকিৎসকসহ ১১৮ জনকে ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গাজীপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৩৬ জন আইসোলেশনে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাত চিকিৎসকসহ ১১৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ায় তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২১৮ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চার জন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন ২১৪ জন। মারা গেছে দুই জন।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ মে) গাজীপুর জেলা প্রশাসন, জেলা সিভিল সার্জস অফিস ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কোভিড-১৯ মুক্ত হয়ে ছাড়পত্র পেলেন কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম সরকার ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয় চিকিৎসক। এছাড়াও সর্বাধিক করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়েছে কাপাসিয়ায় ৪৬ জন, কালীগঞ্জে ৩৭ জন, গাজীপুর সদরের (মহানগর) ১৩ জন, শ্রীপুর ১৩ জন এবং কালিয়াকৈর ৯ জন।

গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিন বলেন, ৩ এপ্রিল প্রথম একজন করোনাভাইরাস পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ১১৮ জন করোনা (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে এক সাংবাদিকসহ ১৩ জনের করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ায় ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একজন সাংবাদিক শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি এবং বাকী সকলেই হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাধীন। করোনা (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের ১৬ চিকিৎসকসহ ৪০ জন, টঙ্গী সরকারি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই চিকিৎসক। টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি), গাছা জোনের সহকারী কমিশনারসহ (এসি) গাছা থানার ৩৪ জন ও জিএমপি পুলিশের ২ সদস্য, দুই সাংবাদিক এবং জেলা সিভিল সার্জস অফিসের ২ জন। এর বাহিরে আরো ৩৫ জন। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৬২ জনের। হোম কোয়ারেন্টিইন থাকা ১৩২০ জনের মধ্যে ১১৬৮ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও টঙ্গীতে একজনের মূত্যুর পর পাওয়া রিপোর্টে জানা যায় করোনা পজেটিভ।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, কালীগঞ্জে ৫৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল কালীগঞ্জের স্থানীয় একজনসহ অন্য জেলা থেকে প্রবেশ করেছে এমন আরো ৪ জন করোনাভাইরাস পজেটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ চিকিৎসকসহ মোট ৯১ জন করোনা (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৮ জনকে। বাকি ৮৩ জনকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৭ জনকে এবং হোম আইসোলেশনে থাকা ৬ চিকিৎসকসহ ৩০ জনকে ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং বাকি ৫৩ জন হোম আইসোলেশনে থেকে টেলিমিডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম সরকার বলেন, কাপাসিয়ায় মোট ৬৯৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল প্রথম একজন (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়। এরপর আমি নিজে ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো ৩০ জনসহ মোট ৭০ জন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৩ জনকে। কাপাসিয়ায় ৯ জনকে প্রতিষ্ঠানিক এবং আরো ৫৮ জনকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। আইসোলেশনে থাকা ৪৬ জনের করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ায় ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ জনসহ আরো ২৪ হোম আইসোলেশনে আছেন। এছাড়াও এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিইনে থাকা ৬৮৯ জনের মধ্যে ৫৭৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এএসএম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, শ্রীপুরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৪৬ জনের। করোনা (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন এক চিকিৎসকসহ ২৩ জন। করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ায় ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ১৩ জনকে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন পুুরুষ এবং তিনজন নারী। কোভিড-১৯ শনাক্ত একজন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন আরো ৮ জন। হোম কোয়ারেন্টিইনে থাকা ৯৭২ জনের মধ্যে ৬৪৩ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একজনের মূত্যুর পর পাওয়া রিপোর্টে জানা যায় করোনা পজেটিভ।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জনা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও এক সাংবাদিকসহ ৩৪ করোনা (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ায় ‘করোনা মুক্ত’ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৯ জনকে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন ভর্তি আছেন। হোম আইসোলেশনে আছেন আরো ২৩ জন। কালিয়াকৈরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৩৮ জনের। হোম কোয়ারেন্টিইনে থাকা ৬৪৩ জনের মধ্যে ৫০৯ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close