সারাদেশ

গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ২০ পুলিশ

বার্তাবাহক ডেস্ক : কারাখানা লে অফ ঘোষণার প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগরের জিরানী এলাকার ডরিন গার্মেন্টস ও ডরিন এ্যাপারেলন্স এবং সাইনবোর্ড এলাকার ব্যান্ডো ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা বিক্ষোভ, কারখানা ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ করে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারসেল, শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায় শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকারসহ ২০ পুলিশ এবং বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি-কাজ না থাকায় আজ শনিবার থেকে ডরিন গার্মেন্ট এবং ডরিন এ্যাপারেলন্স কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে লে-অফের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ইট পাটকেল ছুড়ে কারখানায় ভাঙচুর চালায়।

এসময় শ্রমিকরা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার আহবান জানান এবং যেসব কারখানার শ্রমিকরা আহবানে সাড়া দেয়নি ইটপাটকেল ছুড়ে ওই সব করাখানার জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন।

পরে তারা জিরানী এলাাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এসময় পুলিশ তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরাতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল, শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এসময় শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে তিনিসহ অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েকজন শ্রমিক বলেন, আমাদের দিয়ে কাজ করানোর পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ শতভাগ বেতন-ভাতা দেবে না জানতে পেরে আমরা বিক্ষোভ করি। এ সময় পুলিশ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে গুলি ছোড়ে এবং লাঠি চার্জ করে। এতে বেশ কিছু শ্রমিকরা আহত হয়েছে।

এদিকে, পুরো বেতনের দাবিতে সাইনবোর্ড এলাকার ব্যান্ডো ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে এবং ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।

শিল্প পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, যে সকল শ্রমিক কাজে যোগদান করেননি, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬০ শতাংশ বেতনের পাবেন। ব্যান্ডোর শ্রমিকরা শতভাগ বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়য়টি বুঝিয়ে বললে তারা তা মেনে নেন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close