আলোচিতসারাদেশ

গাজীপুর থেকে লালমনিরহাট গিয়ে ‘ঈদের কেনাকাটায়’ করোনা রোগী!

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুর থেকে লালমনিরহাট গিয়ে করোনা (কোভিড-১৯) শনাক্ত হওয়া এক যুবক ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়ায় একটি দোকান লকডাউন করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।

পরে বাজারের যে কাপড়ের দোকানে তিনি গিয়েছিলেন ওই দোকান লকডাউন ঘোষণা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান।

ওই সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই যুবককে ঘটনাস্থলে পায়নি প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ এপ্রিল গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার একটি পোশাক কারখানার তিন শ্রমিক লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব দৈলজোড় গ্রামে তাঁদের বাড়িতে ফিরে গেছেন পরিবারের ছয় সদস্যসহ। এপর ২২ এপ্রিল প্রথমে তাদের মধ্যে এক তরুনের (১৮) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৮ এপ্রিল জানা যায় সে করোনা পজেটিভ। এরপর সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এছাড়াও ৩ মে তার বাবা (৪০), মা (৩৮), দাদী (৭০), এক ভাই (১৬), এক বোন (১১) এবং তার স্ত্রীর (১৮) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার পাওয়া রিপোর্টে জানা যায় তাদের মধ্যে পাঁচজন করোনা পজেটিভ। তাদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) দুপুরে আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্ত যুবক (১৬) ঈদের কেনাকাটা করতে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার বাজারে যায়। বাজারে হোম আইসোলেশনে থাকা করোনা পজিটিভ ওই যুবককে তার এক প্রতিবেশী দেখতে পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ইউএনও ও পুলিশ ওই দোকানে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই যুবক পালিয়ে যান।

পরে রুমা ক্লথ স্টোর নামে যে দোকানটিতে ওই যুবক কেনাকাটা করছিলেন সেটি লকডাউন করে দেন ইউএনও রবিউল হাসান। এ সময় ওই দোকানদার ও তার কর্মচারীদের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি।

করোনাভাইরাস শনাক্ত তরুণের বাবা বলেন, আমিসহ আমার পরিবারের তিনজন গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার একটি পোশাক কারখানার কাজ করি। গত ১৮ এপ্রিল গাজীপুর থেকে আমরা আদিতমারীতে উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব দৈলজোড় গ্রামে আমাদের বাড়িতে ফিরেছি। প্রথমে আমার ছেলের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার পাওয়া রিপোর্টে জানতে পারি আমি, আমার মা, আমার ছোট ছেলে, মেয়ে এবং ছেলের স্ত্রীর করোনা পজেটিভ হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল হাসান জানান, কাপড় ব্যবসায়ীসহ তার দোকানের কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার পর বোঝা যাবে তারাও আক্রান্ত হয়েছেন কি না। নমুনা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close