আলোচিতসারাদেশ

যা খুশী তাই করছেন গার্মেন্টস মালিকরা?

বার্তাবাহক ডেস্ক : সরকারি আইন, বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যবিধি কিংবা নির্দেশনা কোনকিছুই মানছেন না গার্মেন্টস মালিকরা। গার্মেন্টস মালিকরা যা খুশী তাই করছেন। যেভাবে তাঁদের মুনাফা হবে, যেভাবে তাঁরা আরো বেশি টাকা বানাতে পারবেন, যেভাবে তাঁরা সরকারের প্রণোদনের টাকা হাতিয়ে নিতে পারবেন সেভাবেই তাঁরা চলবেন। এটাই যেন তাঁদের শেষ কথা। তাঁরা সরকারের আইন মানছেন না, স্বাস্থ্য নির্দেশনা মানছেন না, কারো কথাও শুনছেন না। বরং শুধুমাত্র তাঁদের স্বার্থের জন্য একের পর এক স্ববিরোধী, অসত্য কথা বলে যাচ্ছেন। গার্মেন্টস মালিকরা কিভাবে সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করছেন এবং কিভাবে তাঁরা আইনকানুনকে লঙ্ঘন করছেন- তাঁর কিছু খণ্ডচিত্র দেখে নেয়া যাক।

সীমিত নয়, পুরোপুরি চালু করা হয়েছে গার্মেন্টস কারখানা

গার্মেন্টস কারখানা চালু করার ব্যাপারে বলা হয়েছিল যে, যে সমস্ত কারখানাগুলো রপ্তানিমূখী, সেই সমস্ত কারখানাগুলো শুধু ঢাকার আশেপাশের শ্রমিক দিয়ে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে চালাবে। কিন্তু এই সীমিত আকার তো দূরে থাক, গার্মেন্টসগুলো এখন চলছে পূর্ণউদ্দমে এবং তিন শিফটে। অধিকাংশ গার্মেন্টসেই ঢাকার বাইরে যত শ্রমিক আছে, সবাই এসে কাজে যোগদান করেছেন এবং এখন গার্মেন্টসগুলো সীমিত নয়, পূর্ণউদ্দমে চলছে। তাই সরকার গার্মেন্টস খুলে দেয়ার যে প্রথম শর্ত ছিল ‘সীমিত আকারে খুলতে হবে’, সেই শর্তকে একটা প্রহসনে রূপান্তরিত করেছেন। তাছাড়া অর্ডার ছাড়াও গার্মেন্টসগুলো খুলছে, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বেতন-ভাতা প্রদান না করা

অনেক গার্মেন্টসই তাঁদের শ্রমিকদের এখনো মার্চ মাসের বেতন দেয়নি। গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিদিনকার বিক্ষোভ-আন্দোলনে এই ছুটির সময়েও বিভিন্ন রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং পুলিশ তাঁদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাস্তা থেকে তুলে দিচ্ছে। গতকালও প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক সাভার-গাজীপুর এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। কাজেই বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ এখন যেন একটা নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে এবং গার্মেন্টস মালিকরা জানে যে এই ধরণের বিক্ষোভ করে তাঁদের কিছুই করা যাবেনা, তাঁরা অনেক ক্ষমতাবান।

শ্রমিক ছাঁটাই

শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে ‘হুশিয়ারি’ উচ্চারণ করে গার্মেন্টস মালিকদের বলা হয়েছিল যে তাঁরা যেন কোন শ্রমিক ছাঁটাই না করে। কিন্তু গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করছেন এবং অনেক মালিকরা লে- অফ ঘোষণা করেছেন এবং ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া বেতন আদৌ কবে পাবেন নাকি পাবনই না সে সম্পর্কে তাঁরা কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষনাও দেননি। অথচ করোনা সংক্রমনের সময় গার্মেন্টস বন্ধ ছিল মাত্র ১ মাস। এই ১ মাস শ্রমিকদেরকে বেতন দিতে পারেন না মালিকরা, অথচ তাঁরা যেভাবে বিত্তশালী জীবন যাপন করেন তাতে এই দুইয়ের পার্থক্য সত্যি হতাশাজনক।

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা

আমরা দেখছি যে, যে গার্মেটসগুলো পূর্ণউদ্দমে চালু করা হয়েছে, তাঁর বেশিরভাগ গার্মেন্টসেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা। বিশেষ করে যে সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি- তা একেবারেই উপেক্ষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি বলতে অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিকরা মনে করছেন যে, ঢোকার সময় কিছু সবান এবং পানি থাকবে, কর্মচারীরা হাত ধোবে। কোন কোন গার্মেন্টসে জীবাণুনাশক রাখা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, শুধু সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া বা জীবাণুনাশক যন্ত্র পেরিয়ে গার্মেন্টসে প্রবেশ করলে সব কিছু হয়ে গেল না। বরং গার্মেন্টসে অবস্থানের সময় এবং ঢোকার সময় দুরত্ব নিশ্চিত করাটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তা হচ্ছেনা।

করোনা পরীক্ষায় অনীহা

গার্মেন্টস মালিকরা শুরুতেই বলেছিল যে, প্রয়োজনে তাঁরা আলাদা স্বাস্থ্য ক্যাম্প করে করোনা পরীক্ষা করবে। কিন্তু এখন গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার ২ সপ্তাহ পার হলেও করোনা পরীক্ষা নিয়ে টু শব্দটি করছেন না। কারণ তাঁরাও খুব ভালো করে জানেন যে, পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্ত হলে গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে তাঁদের মুনাফা। গার্মেন্টস মালিকদের তাই কথা একটাই যে, যেকোনভাবেই হোক মুনাফাটা তাঁদের চাই।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close