আলোচিত

আশঙ্কা : ঈদের আগে বেতন-বোনাস হবে না প্রায় ১ হাজার ৪০০টি শিল্প-কারখানায়!

বার্তাবাহক ডেস্ক : আশঙ্কা রয়েছে, ঈদের আগে বেতন-বোনাস হবে না দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০টি শিল্প-কারখানায়। এ অবস্থায় কিছু এনজিও শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে ধারণা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এ অবস্থায় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা ১০ এনজিওর কার্যক্রম। সরকারি এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অন্যদিকে এনজিওগুলো বলছে, উসকানি নয়, অধিকার ও আইন সম্পর্কে শ্রমিকদের ধারণা দেয়াটাই সংস্থাগুলোর মূল উদ্দেশ্য।

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন এরই মধ্যে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোয় পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ বছর নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে এক মাস বন্ধ থাকার পর গত ২৫ এপ্রিল থেকে গার্মেন্ট কারখানাগুলো সীমিত আকারে চালু হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদ বোনাসকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০ মে বণিক বার্তা- পত্রিকায় প্রকাশিত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে সারা দেশে ১ হাজার ৩৯৬টি ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস ঈদের আগে যথাসময়ে পরিশোধ করতে সমর্থ হবে না বলে সংশয় রয়েছে। এর ফলে অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে কারখানা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালানো হতে পারে।

প্রতিবেদনে এনজিওগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, শিল্প খাতে সক্রিয় বিদেশী এনজিওগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটির শ্রমিকদের কথিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উসকানি ও মদদ দেয়ার নজির রয়েছে। এসব বিদেশী এনজিওর গতিবিধি নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।

শিল্প সেক্টরে সক্রিয় ১০ এনজিওর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে, ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ার্কার এডুকেশন, জার্মানি ও ডেনমার্কের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস), ডেনমার্কের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এসএফ-ইউনাইটেড ফেডারেশন অব ড্যানিশ ওয়ার্কার বাংলাদেশ, জার্মান পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জিআইজেড, এএফএল-সিআইও ইউএসএর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সলিডারিটি সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়াম, নেদারল্যান্ডসের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ক্লিন ক্লোথ ক্যাম্পেইন (সিসিসি), মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখার বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, এনজিওগুলো কখনই শ্রমিকদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর জন্য উস্কে দেয় না। আমরা শুধু শ্রমিকদের আইন ও তার অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়ার চেষ্টা করি। এ বিষয়টিকেই কেউ যদি শ্রমিক উসকানি হিসেবে অবহিত করে থাকে, সেক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় কষ্টের আর কিছু থাকে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিআইএলএস) নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিক ও দেশের কল্যাণেই এনজিওগুলো কাজ করে থাকে। কোনো এনজিও যদি শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে করেছে। এর দায় কেবল ওই এনজিওকেই নিতে হবে।

তবে আমি বলব যে কারণে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে, সেটা শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। পাশাপাশি যাদের কারণে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা বেশি জরুরি।

শ্রমিক অসন্তোষ এড়ানোর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গত ৭ মে বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে পোশাক খাতের ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের এক বৈঠক হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, বাবুল আখতার, নাজমা আখতার, রুহুল আমিন, কল্পনা আক্তার, জলি তালুকদার, আমিরুল হক আমিন, ফজলুল হক মন্টু, বদরুদ্দোজা নিজামসহ অনেক শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ছুটিতে থাকা শ্রমিকদের ৬৫ শতাংশ ও কর্মরতদের শতভাগ বেতন-ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে চলতি মাসে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না বলেও জানানো হয়। কিন্তু পরদিনই গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য হলো, রাষ্ট্রের অন্য শ্রমিকদের বেতন কাটা না হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের বেতন কাটা মালিকদের অন্যায় পদক্ষেপ। শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন ও বোনাস দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি। এরই মধ্যে শতভাগ বেতন-ভাতার দাবিতে কোনো কোনো স্থানে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল বলেন, ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এরই মধ্যে শিল্প পুলিশ কাজ করছে। তারা গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। করোনা মহামারীর এ সময়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যদি শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গার্মেন্টস সেক্টরসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বেশকিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে ঈদের আগে যথাসময়ে প্রাপ্য বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা।

এছাড়া প্রতিবেদনে ক্রয়াদেশ বাতিল ঠেকাতে লবিস্ট নিয়োগের সুপারিশ করেছে গোয়েন্দারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব গার্মেন্ট কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে এবং নতুন ক্রয়াদেশ না আসায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, সেদিকে নজরদারি বৃদ্ধি করে দ্রুত সংকট নিরসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লবিস্ট নিয়োগ করে বায়াররা যাতে ক্রয়াদেশ বাতিল না করে এবং পণ্য রফতানিতে বিলম্ব হলেও তা গ্রহণ করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তাদের প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি বায়ারদের নজরে আনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহামারী পরিস্থিতিতে কোনো গার্মেন্ট মালিক যাতে শ্রমিক ছাঁটাই না করে, সে ব্যাপারে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশও উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close