মুক্তমত

বাঁচার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমাদের নিজের হাতে

বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। সরকার এখানেই লাগাম টানছেন কোভিড-১৯ এর জন্য সবাইকে বাসায় থাকার জন্য দেয়া সাধারণ ছুটির।

এ খবর অবশ্যই পুরানো। যে কারণে এই লেখার অবতারণা সেটা হচ্ছে, এখন কোভিড ১৯ থেকে বাঁচার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমাদের নিজের হাতে। এর মানে হচ্ছে নিজেদেরই নিতে হবে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা। খুব স্বাভাবিক ভাবে সব কিছু খুলে দেয়ার সাথে সাথে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন বহু গুণ বেড়ে যাবে।

চাপ বাড়বে হাসপাতালগুলোর উপর। গত প্রায় তিন মাস ধরে আমরা এই ভাইরাসটির সাথে খুব ভালো ভাবে পরিচিত হয়ে গেছি আশা করি। যেখানে টেলিভিশন ছাড়লেই প্রতিটি চ্যানেলে, মোবাইলে ফোন করলেই, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এর ভয়াবহতার সম্পর্কে বলা হয়েছে, মনে হয় না এখন একটি মানুষও জানে না এর ভয়ংকর রুপ কি!

কিন্তু খুব দুঃখজনক হচ্ছে এর পরও কিছু মানুষ লক ডাউন মানেননি। মানেননি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবীধি। যার ফলে যা হবার তাই হয়েছে। শতভাগ সফল হয়নি লক ডাউন বা সাধারণ ছুটি। সীমিত টেস্টেও আক্রান্তের হার অনেক বেশি।

এবার খুলে যাচ্ছে সব কিছু। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে এই সব কিছু শুধু মাত্র অর্থনীতির চাঁকাকে সচল রাখতে খুলে দেয়া হচ্ছে। আমাদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য, বাইরে খেতে যাওয়ার জন্য অথবা শপিং করার জন্য সব খুলে দেয়া হচ্ছে না! হ্যাঁ এখন আমরা বলতেই পারি সব খুলে দিলে আমরা কেন বাসায় থাকবো? আমরা থাকবো আমাদের নিজেদের জন্য। আমাদের পরিবারের জন্য। যারা বুঝেন তাদেরকে বলার কিছু নেই। কিন্তু যারা বুঝতে পারছেন না, তাদের বলছি আপনারা ভালো করে ভেবে দেখুন আপনার ক্ষণিকের আনন্দ, ভালো লাগা আপনি সহ আপনার সম্পূর্ণ পরিবারের মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। তারপরও কি আপনি ক্ষণিকের আনন্দকে প্রাধান্য দিবেন? জানবেন শেষ রক্ষা হবে না হয়তো কারোরই। কিন্তু আমরা যদি এক সাথে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি তবে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার এভাবে মৃত্যুর হার বাড়বে ভয়াবহ ভাবে। এই বিষয়ে অনেক ভিডিও আছে অনেক গুনীজনের। সেখানে স্পষ্ট করে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। অতএব নিজের সাবধানতার কোন বিকল্প নেই।

আরেকটা বিষয় একটু ভিন্ন। তা হচ্ছে, সময়ের সাথে সাথে আক্রান্ত যখন বাড়ছে তখন আমাদের আপনজনেরা আক্রান্ত হতে শুরু করবে অচিরেই। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ সবাই যেন পরিবারের অথবা আক্রান্ত আত্মীয়ের প্রতি সদয় হই। প্রথম থেকেই বাংলাদেশে জঘন্য কিছু কাজ দেখা গেছে কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারদের মধ্যে। মাকে জঙ্গলে রেখে আসার মতো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে ভাবতেই খুব অবাক লাগে। কত লাশের যে দাফন করতে রাজি হয়নি গ্রামবাসী তা এখন হিসাবের বাইরে। চাল ডাল চুরির কথা আর কি বলবো!

অথচ সবার মুখে আমি শুনি উপরওয়ালা নাকি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন! আমরা অনেক পাপ করেছি তাই আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। প্রায় সব ধর্মের লোকের মুখেই এই কথা। আপনি বেঁচে থাকতে যদি আপনার নিজ পরিবারের প্রতি, কাছের আত্মীয়র প্রতি, প্রতিবেশীর প্রতি মানবিক না হোন তবে আপনার পরীক্ষার রেজাল্ট তো ভালো হবে না! আমি তো মনে করি এটা সবার মানবিক বোধেরও পরীক্ষা। আপনাকে অবশ্যই এ সময় দায়িত্ব নিতে হবে আপনার পরিবারের। মানবিক হতেই হবে। এটা এখন আহ্বান নয়। মনে করুন এটা আপনার সৃষ্টি কর্তার আদেশ।

কোভিড সন্দেহে এক মহিলা ঈদের দিন ভর্তি হোন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। কিন্তু ভাগ্যের কি খেলা উনার মৃত্যু হয় ওই হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ হয়ে। উনি কিন্তু কোভিডে আক্রান্ত ছিলেন না। আসলে কার মৃত্যু কিভাবে হবে তা আমরা জানি না। অতএব কাছের মানুষদের উপক্ষা করবেন না এ সময় নিজের মৃত্যু ভয়ে। হয়তো আপনার খারাপ সময়ে যাকে উপেক্ষা করছেন তারাই এগিয়ে আসবে। অতএব নিজের স্বার্থের জন্য হলেও মানবিক আচরণ করুন।

আসুন আমরা সবাই সচেতন হই নিজের ও পরিবারের প্রতি। মানবিক হই একে অন্যের প্রতি। নিশ্চয়ই আমরা একদিন জয় করবো এই দুঃসহ সংকট।

লেখক : আমিনা সুলতানা সানজানা (উদ্যোক্তা)।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close