গাজীপুরসারাদেশ

কালীগঞ্জে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের এক কর্মকর্তাসহ আরও ৭ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের এক কর্মকর্তাসহ আরও ৭ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৩০ জন এবং কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক জনের।

সোমবার (১ জুন) পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কোভিড-১৯ শনাক্তের মধ্যে রয়েছে, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সহকারী ব্যবস্থাপক (২৯) ও তাঁর স্ত্রী পোশাক কারখানার কর্মী (২৪), তাঁদের বাসা বালীগাঁও গ্রামে। কালীগঞ্জ বাজারের একজন কাপড় ব্যবসায়ীর মেয়ে (১৭) সে কলেজ শিক্ষার্থী বাড়ি তুমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর সোম এলাকায়। কালীগঞ্জ বাজারের একজন পুরুষ (৪৫)। মূলগাও এলাকায় এক চাকুরীজীবী পুরুষ (৩০)। বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদি গ্রামে একজন (৪৮) তিনি ঢাকায় মৌচাক মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করেন। দুর্বাটি গ্রামের এক যুবক (২৪) তাঁকে বিস্তারিত এখনো জানা যায় নি।

করোনার উপসর্গ থাকায় সকলেই গত ২৬ মে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন।

এই প্রথম কোভিড-১৯ শনাক্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে কালীগঞ্জের দুর্বাটি ও ফুলদি গ্রামে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ৭ জনসহ কালীগঞ্জ মোট ১৪০ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত কালীগঞ্জে ৬ জন চিকিৎসক, ১৮ জন পুলিশ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ৪ জন এবং হা-মীম গ্রুপে কর্মরত দুইজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কোভিড-১৯ শনাক্ত ১৩০ জনের মধ্যে ৯৮ জন ‘করোনা মুক্ত’ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। অপরদিকে ২ জনকে গাজীপুরে কোভিড ১৯ ডেডিকেটেড শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ২৮ জন হোম আইসোলেশনে এবং সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত আইসোলেশন ২ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের টেলিমিডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও গত ৩১ মে (রোববার) বিকেলে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার বাঘারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এক ব্যবসায়ীর (৩৪) মৃত্যু হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোভিড-১৯ শনাক্ত প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি প্রাণ আরএফএলের মূলগাও ফ্যাক্টরিতে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। করোনার উপসর্গ থাকায় স্ত্রীসহ গত ২৬ মে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন। কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি হাসপাতাল থেকে সোমবার তাঁদের জানানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। দু’জনেই বর্তমানে বালীগাঁও গ্রামে তাঁদের বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘কালীগঞ্জ থেকে পাঠানো ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষার পর সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী আরও ৭ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন। ৩১ মে পর্যন্ত মোট ১১৮৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বমোট ১৩০ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ জনকে গাজীপুরে কোভিড ১৯ ডেডিকেটেড শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘২৪ মে পর্যন্ত ৯৮ জনকে ‘করোনা মুক্ত’ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে’।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close