গাজীপুরসারাদেশ

কালীগঞ্জে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও নাভানা’র ৪ জনসহ আরও ১০ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত

বার্তাবাহক ডেস্ক : শঙ্কা বাড়াচ্ছে কালীগঞ্জে কোভিড-১৯ সংক্রমণের গতি। নতুন করে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এবং ‘নাভানা পাইপ ও প্লাস্টিক’ কারখানায় কর্মরত ৪ জনসহ আরও ১০ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে পুরো উপজেলায় শনাক্তের সংখ্যা এখন ১৯০ জন। তবে যে গতিতে রোগী বাড়ছে, তাতে মোট সংক্রমণের হিসেবে জেলার মধ্যে ‘রেড জোনের আওয়তায়’ আনা জরুরী কালীগঞ্জকে। এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ পর্যন্ত কালীগঞ্জে কোভিড-১৯-এ মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।

শুক্রবার (১২ জুন) সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কোভিড-১৯ শনাক্তের মধ্যে রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (৪৬), সোনালী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখার একজন অফিসার (২৯)। কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বালিগাঁও গ্রামে অবস্থিত ‘নাভানা পাইপ ও প্লাস্টিক’ কারখানায় কর্মরত একজন জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (৩১), একজন শিফ্ট ইঞ্জিনিয়ার (৩২), একজন অপারেটর (৩২) ও প্যাকেজিং শাখার একজন শ্রমিক (২১)। পৌর এলাকার বালিগাঁও গ্রামের এক যুবক (২২) ও বাঘারপাড়া গ্রামের এক শিশু (৯)। নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামের একজন চাকুরীজীবী (৩০) ও উলুখোলা বাজারের একজন মুদি মনোহারী ব্যবসায়ী (৩২)।

করোনার উপসর্গ থাকায় সকলেই গত ২ জুন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা উপসর্গ থাকায় গত ২ জুন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছি। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বর্তমানে আমি সুস্থ আছি এবং হোম আইসোলেশনে রয়েছি’।

সোনালী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখার কোভিড-১৯ শনাক্ত ওই অফিসার বলেন, ‘শুক্রবার কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে। আমি ছাড়াও সোনালী ব্যাংকের একজন সিনিয়র অফিসার ও একজন আনসার সদস্য এর আগে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে আমি জয়দেবপুরে আমার বসায় আইসোলেশনে আছি। করোনা উপসর্গ থাকায় গত ২ জুন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলাম’।

কোভিড-১৯ শনাক্ত নাভানা পাইপ ও প্লাস্টিক কারখানায় কর্মরত ওই চারজন নিজেরাই তাঁদের কর্মস্থল ও পদবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাভানা পাইপ ও প্লাস্টিক কারখানার এডমিন (প্রশাসন) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কারখানার কেউ কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে কি না এই বিষয়ে অফিসিয়ালী আমার কিছু জানা নেই’।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ১০ জনসহ কালীগঞ্জে মোট ১৯০ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। ১১ জুন পর্যন্ত কালীগঞ্জে ৬ জন চিকিৎসক, ১৯ জন পুলিশ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ৬ জন, বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের পরিষদের দুই সদস্য (মেম্বার), হা-মীম গ্রুপে কর্মরত দুইজন কর্মকর্তা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একজন, সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ কোভিড-১৯ শনাক্ত ১৯০ জনের মধ্যে ১১৩ জন ‘করোনা মুক্ত’ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। অপরদিকে ৭১ জন হোম আইসোলেশনে এবং সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত আইসোলেশন ৩ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের টেলিমিডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও টঙ্গী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে পৌরসভার বাঘারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এক ব্যবসায়ীর (৩৪) মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে তুমুলিয়া গ্রামের এক বৃদ্ধ, দুর্বাটি গ্রামের একজন এবং ফুলদী গ্রামের ৩০ দিন বয়সী এক শিশু মূত্যুর পর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘কালীগঞ্জ থেকে পাঠানো ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষার পর সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী আরও ১০ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন। ১১ জুন পর্যন্ত মোট ১৫০৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বমোট ১৯০ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন মূত্যুর পর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘১১ জুন পর্যন্ত ১১৩ জনকে ‘করোনা মুক্ত’ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে’।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close