গাজীপুরসারাদেশ

গাজীপুর মহানগরে মানুষ ৫০ লাখ, নমুনা সংগ্রহের বুথ দুটি! কালের কণ্ঠ

► নমুনা দিতেই ৫ থেকে ৯ দিন পার
► ফল পেতে লাগে এক-দেড় সপ্তাহ

বার্তাবাহক ডেস্ক : শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে নাকি নেই, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পরীক্ষা করাতে ও এর রিপোর্ট পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত গাজীপুরের অসুস্থদের। বিশেষ করে মহানগরীতে এ ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। উপসর্গ থাকা মানুষদের নমুনা দিতেই লেগে যাচ্ছে পাঁচ থেকে ৯ দিন। পরীক্ষার ফলের জন্যও অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক থেকে দেড় সপ্তাহ। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের গাজীপুর মহানগরীতে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের বুথ রয়েছে মাত্র দুটি। এসব বুথে দৈনিক সর্বোচ্চ আড়াই শ নমুনা সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন নমুনা দিতে হাজির হচ্ছেন আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ বাস করেন। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য টঙ্গী শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল এবং গাজীপুর চৌরাস্তার চান্দনা হাই স্কুলে মাত্র দুটি নমুনা পরীক্ষার বুথ আছে।

চান্দনা স্কুল বুথে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নমুনা দিতে সিটি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসুস্থ মানুষ বুথে যাচ্ছেন। এরপর তাঁদের লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে। মানুষের চাপ বেশি থাকায় রেজিস্ট্রেশন করতেই দিন চলে যাচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভোর থেকে অনেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অপেক্ষা করতে করতে আরো অসুস্থ হয়ে মাটিতেই শুয়ে পড়ছেন অনেকে। অনেকে আগের দিন গিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছেন। রোগীদের বিশ্রাম, টয়লেট, পানি ও বসার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এত ভোগান্তির পর রেজিস্ট্রেশন শেষে নমুনা সংগ্রহের তারিখ দেওয়া হচ্ছে চার-পাঁচ দিন পর, কারো কারো ক্ষেত্রে ৮-৯ দিন পর। আবার সেই পরীক্ষার ফল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক বা দেড় সপ্তাহ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দেরিতে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ায় যাঁদের করোনা পজিটিভ তাঁদের সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তিরাও নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিঘ্নিত, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে কাপাসিয়া দেওনা গ্রামের এক ব্যক্তি (৬৫) উপজেলা হাসপাতালে নমুনা দেন গত ১৩ জুন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্তও তিনি রিপোর্ট পাননি। এরই মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এরই মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি জেলায় ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় দুই হাজার ৬৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এক হাজার ৬৯০ জনই সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জানান, সিটি করপোরেশনের মেয়র আটটি জোনের জন্য আটটি এবং সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজ নিজ ইউনয়নের জন্য চারটি মিলিয়ে ১২টি বুথ তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় ওই সব বুথ চালু করা যাচ্ছে না।

নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেরিতে পাওয়া প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে দৈনিক মাত্র ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন ও পাঁচ উপজেলায় প্রতিদিনের নমুনার সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে গাজীপুরে ১৮৮টি দিয়ে বাকি নমুনাগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চাপ বেশি থাকায় ফল পেতে দেরি হচ্ছে।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close