গাজীপুরসারাদেশ

কোভিড-১৯ : কালীগঞ্জে শিক্ষক, হিসাব রক্ষক, এম্বুলেন্স চালকসহ আরও ৯ জন শনাক্ত

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে নতুন করে কোভিড-১৯ শনাক্তের গতি নিয়মিত ভাবে বেড়েই চলেছে। এতে শঙ্কা বাড়ছে জেলায় প্রথম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ‘রেড জোন’ ঘোষীত কালীগঞ্জে। নতুন করে আরও ৯ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এই বৃদ্ধির জেরে কালীগঞ্জে মোট কোভিডে শনাক্ত হয়েছেন ২২৪ জন।

নতুন শনাক্ত মধ্যে রয়েছেন ১ জন শিক্ষক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর হিসাব রক্ষক ও এম্বুলেন্স চালক, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের (এলজিইডি) হিসাব রক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার আরও ৯ জন।

শনিবার (২০ জুন) সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কোভিড-১৯ শনাক্তের মধ্যে কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর হিসাব রক্ষক (৪৯), এম্বুলেন্স চালক (৪৫) ও অফিস সহায়ক (৩৫)। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের (এলজিইডি) হিসাব রক্ষক (৫২)। কালীগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া গ্রামের ১ জন শ্রমিক (৫৫)। তুমুলিয়া গ্রামের ১ তরুণ (১৯)। বাহাদুরসাদি ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের ১ জন গৃহীনি (৪০) এবং বক্তারপুর ইউনিয়নের খৈকড়া গ্রামের ১ গৃহীনি (২৬)।

করোনার উপসর্গ থাকায় সকলেই গত ১০ জুন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ৯ জনসহ কালীগঞ্জে মোট ২২৪ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। ১৯ জুন পর্যন্ত কালীগঞ্জে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি), ৬ জন চিকিৎসক, ১৯ জন পুলিশ সদস্য, একজন শিক্ষক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ৭ জন, বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের পরিষদের দুই সদস্য (মেম্বার), হা-মীম গ্রুপে কর্মরত দুইজন কর্মকর্তা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একজন, নাভানা পাইপ ও প্লাস্টিক কারখানার ৬ জন, এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিএল) ৫ শ্রমিক, সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ কোভিড-১৯ শনাক্ত ২২৪ জনের মধ্যে ১৩৮ জন ‘করোনা মুক্ত’ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। অপরদিকে ৮৬ জন হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের টেলিমিডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও টঙ্গী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে পৌরসভার বাঘারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এক ব্যবসায়ীর (৩৪) মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে তুমুলিয়া গ্রামের এক বৃদ্ধ, দুর্বাটি গ্রামের একজন এবং ফুলদী গ্রামের ৩০ দিন বয়সী এক শিশু মূত্যুর পর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘কালীগঞ্জ থেকে পাঠানো ২৬ জনের নমুনা পরীক্ষার পর সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী আরও ৯ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন। ১৯ জুন পর্যন্ত মোট ১৮৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বমোট ২২৪ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন মূত্যুর পর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন,‘১৯ জুন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে ‘করোনা মুক্ত’ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে’।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close