গাজীপুরসারাদেশ

কালীগঞ্জে নিয়মিত বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯, আরও ১৯ জন শনাক্ত, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিয়মিত ভাবে বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ শনাক্তের সংখ্যা। নতুন করে আরও ১৯ জন শনাক্ত হয়েছে। এই বৃদ্ধির জেরে কালীগঞ্জে মোট শনাক্তের সংখ্যা ২৭৬ জন। এই সংক্রমণ বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্থানীয়দের।

কোভিড-১৯-শনাক্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ১৮১ জন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

কোভিড-১৯ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা প্রশাসন ও কোভিড-১৯ শনাক্তদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কোভিড-১৯ শনাক্তের মধ্যে রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ জন নার্স (৪৮), পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ১ জন বৃদ্ধ (৫৮) এবং ৬ ওয়ার্ডের এক গৃহিণী (৪০)। তুমুলিয়া গ্রামের ১ জন (৩৬)। পুলিশ সদস্যদের পরিবারের ২ সদস্য।

সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত বাহাদুরসাদি ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকার এক নারী কর্মী (৩৫)। খলাপাড়া গ্রামের এক গৃহিনী (৪০) ও এক তরুণী (২১) এবং দক্ষিণবাগ গ্রামের এক যুবক (২৭)।

এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেডে (এবিএল) কর্মরত জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কাউলিতা গ্রামের বাসিন্দা এক নারী শ্রমিক (৩০)।

জামালপুর ইউনিয়নের কলাপাটুয়া গ্রামের ৫ জন।

মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের এ অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক (৮৩) এবং করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিক্ষক মৈশাইর গ্রামের হরিলাল চন্দ্র দেবনাথ (৫৫)।

এছাড়াও পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুরের দড়ি পুটিনা গ্রামের এক নারী (৩৬)।

করোনার উপসর্গ থাকায় গত ১১, ১৪ ও ২৩ জুন শনাক্ত রোগীরা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন।

আরো জানা যায়, সর্বশেষ ১৯ জনসহ কালীগঞ্জে মোট ২৭৬ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। ২৪ জুন পর্যন্ত কালীগঞ্জে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ ৭ জন চিকিৎসক, ইউপি চেয়ারম্যান ১ জন, পুলিশ সদস্য ১৯ জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ৭ জন, ২ জন শিক্ষক, বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের পরিষদের দুই সদস্য (মেম্বার), হা-মীম গ্রুপে কর্মরত দুইজন কর্মকর্তা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একজন, নাভানা পাইপ ও প্লাস্টিক কারখানার ৬ জন, এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিএল) ১০ শ্রমিক, সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ১ জন, সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ কোভিড-১৯ শনাক্ত ২৭৬ জনের মধ্যে ১৮১ জন ‘করোনা মুক্ত’ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। অপরদিকে ৯৫ জন হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের টেলিমিডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও ২০ জুন (শনিবার) দিবাগত রাতে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা আক্তার (৫০) নামে কালীগঞ্জের এক নারী নেত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে টঙ্গীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে পৌরসভার বাঘারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এক ব্যবসায়ীর (৩৪) মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে তুমুলিয়া গ্রামের এক বৃদ্ধ, দুর্বাটি গ্রামের একজন এবং ফুলদী গ্রামের ৩০ দিন বয়সী এক শিশু মূত্যুর পর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, ২৪ জুন পর্যন্ত মোট ২১৫২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বমোট ২৭৬ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও একজন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে মারা গেছেন এবং ৪ জনের মৃত্যুর পর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮১ জন’।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close