অর্থনীতিআলোচিতগাজীপুরসারাদেশ

বস্ত্র শিল্পের এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মসলিন কটন মিল’

বার্তাবাহক ডেস্ক : বাংলাদেশের শিল্প অগ্রসরতা তথা বস্ত্র শিল্পের এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মসলিন কটন মিল’। ১৯৫২ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার ভাদার্ত্তী গ্রামে স্রোতস্বিনী শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নয়নাভিরাম স্থানে ১০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠা করে তৎকালীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড় কল ‘মসলিন কটন মিল’ পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (পিআইডিসি)।

১৯৫৪ সালে উৎপাদন শুরু হলে স্পিনিং বা সুতা বিভাগে টাকুর সংখ্যা ৪৮ হাজার, বয়ন বিভাগে লুম সংখ্যা ৪৯৬ এবং ডাইং ও ফিনিশিং বিভাগ ছিল। ২ হাজার ৮ শ’জন শ্রমিক, ২৭০ জন কর্মচারী এবং ৩৫ জন কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার টন পর্যমত্ম সুতা এবং সোয়ালক্ষ মিটার কাপড় উৎপাদিত হত ‘মসলিন কটন মিলে’।

রাষ্ট্র পরিচালিত মিলটি ১৯৬৮ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা হয় মিলটি। তখন রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গ্রামের জমিদার গুলবক্স ভূঁইয়া পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (পিআইডিসি) কাছ থেকে মসলিন কটন মিলটি ক্রয় করেন। প্রায় ২০ জন পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যবসায়ীর সঙ্গে টেন্ডার প্রতিযোগীতায় পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী হাজী গুলবক্স ভূঁইয়া মিলের মালিকানা পান।

ফাইল ফটো।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার মিলটিকে জাতীয়করণ করলে বিটিএমসি এর পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৯৭৪ সালের পর থেকে অদক্ষ পরিচালনার কারণে মিলটি অব্যাহত লোকসান গুণতে থাকে। ১৯৭৪-৮৬ পর্যন্ত মিলটি পূবালী ব্যাংকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ৫৮ কোটি টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু ঋণ পরিশোধ করতে না পারার জের ধরে পূবালী ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করলে আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় দেয়।

১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেন। ওই শিল্পনীতিতে তৎকালীন সরকার ৫১ শতাংশ ব্যাক্তি মালিকানায় ও ৪৯ শতাংশ সরকারি মালিকানায় শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি, পিএফ (প্রভিডেন্ট ফান্ড) এবং অন্যান্য দেনা পাওনাসহ প্রায় ১৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা দেনার দায়ভারসহ ১৯৮৩ সালে পূর্বের মালিক গুলবক্স ভূঁইয়া মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা পুনরায় বিটিএমসি’র কাছ থেকে ৫১ ভাগ শেয়ার ক্রয় করেন।

এরপর রুগ্ন দশায় মসলিন কটন মিল কয়েক বছর কোনও রকমে উৎপাদন চালু রাখলেও ব্যাংক প্রয়োজনীয় ঋণ অনুমোদন না দেওয়ায় কাঁচামালের অভাবে এবং শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে বন্ধ আবার হয়ে যায় মিলটি।

১৯৯১ সালে মিলটির স্পিনিং ইউনিট চালু হলেও ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মিলের তিনটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট ১২শ’ শ্রমিক-কর্মচারীর মাধ্যমে চালু করেন এবং মিলকে ৪ কোটি টাকা লোন দেওয়ার সুপারিশ করেন পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে।

একইসঙ্গে ঋণ প্রাপ্তির পর বাকি দু’টি ইউনিট চালু করা হবে বলে সরকার ঘোষণা দেয়। তৎকালীন সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ব্রিগ্রেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহকে মিলের বোর্ড অব ডাইরেক্টর’স চেয়ারম্যান করা হয়।

(ফাইল ফটো)

এছাড়াও পূবালী ব্যাংক, বিটিএমসি, বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে ৬ জন ও ৫১ শতাংশের মালিকদের পক্ষ থেকে ৫ জন পরিচালকের মাধ্যমে মিল পরিচালিত হতে থাকে।

কিন্তু পূবালী ব্যাংক ৪ কোটির স্থলে ১ কোটি টাকা ঋণ দেয়। ওই অবস্থায় মিল চালু করলেও পরবর্তীতে ৩ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন না করায় শ্রমিকদের ৭ মাসের মজুরি বকেয়া রেখে ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ ফের বন্ধ হয়ে যায় মসলিন কটন মিল।

অপরদিকে, আর্থিক দুরবস্থার কারণে মিলের নিয়মিত গার্ড, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়ে বৃহৎ এলাকা, স্থাপনা ও মেশিনপত্র নিয়ে গড়া ওই প্রতিষ্ঠানটি।

একইভাবে বন্ধকী দায় (মর্টগেজ) থাকায় পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিলের মালিক পক্ষকে অবহিত না করে অনেকটা নিজস্ব ক্ষমতায় মাত্র ৭৮ লাখ টাকার বিনিময়ে মিলের গোডাউনে রক্ষিত বিপুল পরিমাণ তুলা, সূতা, কাপড়, ডাইস কেমিক্যাল, জাপান থেকে আমদানি করা মূল্যবান স্পেয়ার পার্টস্ ও অন্যান্য মালামাল টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে ঋণের কিস্তি সমন্বয় করে।

একপর্যায়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদের মুখে তুলা ক্রেতা ও মিল মালিকের পক্ষ থেকে ১২শ’ শ্রমিক–কর্মচারীর বকেয়া মজুরী বাবদ ৬২৫ টাকা করে পরিশোধ করা হয়।

(ফাইল ফটো)

এরপর, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তাদের শাসনামলের শেষ দিকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সেনা কল্যাণ সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয় মসলিন কটন মিলকে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেনা কল্যাণকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়। ওই অবস্থায় পুরো অরক্ষিত হয়ে পড়ে মিলটি। একইসঙ্গে পিডিবি’র বিল বকেয়া থাকার সূত্রে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মিলটি।

অরক্ষিত অবস্থা আর রাতের অন্ধকারের সুযোগে শুরু হয় মিলের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল–যন্ত্রাংশ চুরির হিরিক। চুরির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া মালামালগুলো অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হতে থাকে।

নিরুপায় হয়ে মিলের ৫১ শতাংশের মালিক পক্ষ ৮/১০ জন গার্ড নিয়োগ করে কোনও রকমে মিলটি দেখাশোনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিশাল আয়তনের মিলের দায়িত্ব পালন অল্প সংখ্যক নিরাপত্তা রক্ষীর পক্ষে রীতিমত অসম্ভব হয়ে দেখা দেয়। ওই অবস্থায় মালিক পক্ষ তৎকালীন বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর পরামর্শে উদ্ধারকৃত চুরি হওয়া স্ক্র্যাপ মালামাল বিক্রি করে ১০ জনের অস্ত্রধারী আনসার ক্যাম্প স্থাপন করে।

জানা গেছে, বিক্রিত স্ক্র্যাপ মালামালের ১০লাখ টাকা থেকে গার্ডদের অগ্রিম বেতন ও ১৯৪৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী–কর্মকর্তাকে স্বল্প হারে বকেয়া মজুরী পরিশোধ করা হয়েছিল।

২০০৪ সালের ০৮ মার্চ সরকার পুনরায় মিলটি অধিগ্রহণ করলেও চালু করতে পারেনি। মসলিন কটন মিল বন্ধ হওয়ার ফলে তখন প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ে। পুবালী ব্যাংকের নিকট মিলের দেনার বিষয়টি হাইকোর্টে বিবেচনাধীন থাকায় কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের বকেয়া পাওনা না পেয়ে অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে থাকেন।

অপরদিকে নিরাপত্তা দিতে একটি আনসার ক্যাম্প থাকলেও প্রায়শঃই ঘটছে চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটতো। এমনকি নিরাপত্তা রক্ষী আনসারদের বিরুদ্ধেও চুরির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে তখন। চুরির ঘটনায় ইতোপূর্বে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী  আটকও হয়েছিল।

উৎপাদনসহ মিলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পুরো বন্ধ থাকায় আর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ইতোমধ্যে মসলিন কটন মিল রূপ নিয়ে আস্তাকুড়ে। মিলের বেশির ভাগ স্থাপনাই ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ভেতরে মেশিনপত্র সব অকেজো, অসম্পূর্ণ পড়ে। আর বাইরে ক্রমশ খসে পড়ছে ভবনগুলোর পলেস্তেরা, ইট সুরকি। বাসা বেঁধেছে পোকা মাকড়, আবাস গড়েছে সাপ, শিয়ালসহ অন্যান্য জীব জন্তু।

এককালের শত শত শ্রমিকের পদচারণায় মূখর বৃহৎ এ মিলের সর্বত্রই তখন ধ্বংসের ছাপ। ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে এর সর্বত্র। এ মিলেই একসময় উৎপাদিত হতো বিশ্ব মানের সূতা-কাপড়— তা এখন বিশ্বাস করা কঠিন।

তখন শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করেন, সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত মিলের বিশাল ভূমিতে পুরাতন অবকাঠামো ভেঙ্গে নতুন করে লাভজনক ভারি শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। যার মাধ্যমে কালিগঞ্জ তথা গাজীপুরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। সেই সাথে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে। মিলটি পুনরায় চালূ হরে অত্র অঞ্চলের বেকার সমস্যার পাশাপাশি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি আরো উন্নত হবে বলে আশা করা হয় সেই সময়।

অপরদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আর রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে বিশালায়তনের মিলটির মূল্যবান মেশিন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি হয়ে শুরু হয়। একই কারণে দখল হয়ে যেতে থাকে মিলের মূল্যবান সম্পত্তি।

অতীত সরকারগুলোর সদিচ্ছা আর কার্যকর পরিকল্পনার অভাব এবং একইসঙ্গে ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষের অক্ষমতা-অদক্ষতা যথেষ্ট সম্ভাবনাশীল কটন মিলটির এ অবস্থার পরিণত হয় বলে তখন মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৩ সালের ০৩ আগস্ট তৎকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন কটন মিল’ হস্তান্তর করছেন (ফাইল ফটো)

প্রায় ১৯ বছর ৫ মাস বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ০৩ আগস্ট তৎকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি’র চেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন কটন মিল’ ভিন্ন নামে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন মসলিন কটন মিলস উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটি ফের চালু করার ঘোষণা দেন তৎকালীন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

২০১৩ সালের ০৪ আগস্ট মিলটির ২০ জন মৃত শ্রমিককে পরিবার প্রতি বকেয়া বেতন বাবদ ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত মালিকানা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

ওই অনুষ্ঠানে মিলটির নতুন উদ্যোক্তা হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের কাছে মিলটির মালিকানা হস্তান্তর করে মিলের চাবি ও দলিলাদি তুলে দেন তৎকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ মকবুলের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছিল।

ওই অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেনন, অনেক সরকার মিলটি চালুর কথা বললেও কেউ পারেনি। আওয়ামীলীগ সরকার পেরেছে।

মন্ত্রী সে সময় জানায়, একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সকল শ্রমিকের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হবে।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ বলেছিলেন, প্রায় ১০ হাজার লোকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে এ মিলে।

মিলের পাশে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী, মহাসড়ক, আড়িখোলা রেল স্টেশন। মিলের শ্রমিকেরা নিজেদের উদ্যোগে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ এবং মসলিন কটন মিল উচ্চ বিদ্যালয় নামে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান করেছিলেন।

হা-মীম গ্রুপের পক্ষে রিফাত গার্মেন্টস ১৩৫ কোটি টাকায় মিলটি তখন কিনে নিয়েছে। বর্তমানে হা-মীম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে রূপান্তরিত হয়ে রিফাত গার্মেন্টস পোশাক উৎপাদন করছে ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন কটন মিলে’।

 

(তথ্য : অনলাইন এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের)।

 

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close