আইন-আদালতআলোচিতসারাদেশ

সম্পত্তি নিবন্ধনে দুর্ভোগ: সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিতে সুপারিশ

বার্তাবাহক ডেস্ক : দেশে ভূমি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধন হচ্ছে ১৯০৪ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনে। এ আইন অনুযায়ী ভূমি নিবন্ধনের দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের। তবে জমি নিবন্ধনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রায় সব কার্যক্রমই পরিচালিত হয় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে। এর মাঝখানে দলিল সম্পাদন ছাড়া আইন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অন্য কোনো দায়িত্ব নেই। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। দুর্ভোগ লাঘবে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়কে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া তৈরি করে ভূমি মন্ত্রণালয়। খসড়াটি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল দাতা ও গ্রহীতাকে প্রায় ২২ ধরনের তথ্য ও বিগত ২৫ বছরের জমির মালিকানার বিবরণ উল্লেখ করে দলিল তৈরি করতে হয়। মূল দলিলের জন্য এক কপি ও ডুপ্লিকেট কপির জন্য আরো এক কপি দলিল সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে হয়। জমি নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর দাখিলকৃত ডুপ্লিকেট কপি দলিল গ্রহীতাকে প্রদান করা হয় ও অন্য মূল কপিটি জেলা রেজিস্ট্রারের অফিসে রক্ষিত বালাম বইয়ে হাতে লিপিবদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়। তবে হাতে লিপিবদ্ধ করা অনেক সময়সাপেক্ষ ও হাতের লেখাও অস্পষ্ট হয়। নামজারির ক্ষেত্রে দলিলের সার্টিফায়েড কপি বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং সার্টিফায়েড কপি অস্পষ্ট ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্যগত ভুল থাকায় নামজারি সম্পাদনে জটিলতা দেখা দেয়।

দলিল সম্পাদনের পর দাতা, গ্রহীতা, দলিলের ধরন, কেবল মালিকানা হস্তান্তরের সূত্র, হস্তান্তরের তারিখ, হস্তান্তরিত দলিলের মূল্য, তফসিলের অপূর্ণাঙ্গ বিবরণসহ সাব-রেজিস্ট্রারের নামবিহীন, সিলবিহীন ও অস্পষ্ট স্বাক্ষরযুক্ত এলটি (ল্যান্ড ট্রান্সফার) নোটিসের কপি রেকর্ড হালনাগাদকরণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে বিভিন্ন তারিখে সম্পাদিত দলিলের অনেক এলটি নোটিস একত্রে প্রেরণ করা হয়। ফলে অপূর্ণাঙ্গ ও অস্পষ্ট তথ্য সংবলিত এলটি নোটিসের ভিত্তিতে নামজারি সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

সাধারণত রেজিস্টার্ড হস্তান্তর দলিল, জরিপ, বিজ্ঞ আদালতের রায় এবং উত্তরাধিকার সূত্রে ভূমির মালিকানা পরিবর্তন হয়। তার মধ্যে রেজিস্টার্ড হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমেই সিংহভাগ মালিকানা পরিবর্তন হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী জমি হস্তান্তর দলিল রেজিস্ট্রেশনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে একজন দলিল দাতা বা গ্রহীতাকে তার মালিকানার ধারাবাহিকতা বা রেকর্ডপত্রের সঠিকতা বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সার্কেল অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিস বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দ্বারস্থ হতে হয়। দলিল রেজিস্ট্রেশনের পর পরই মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি নামজারির মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়। জমি নিবন্ধনের আগের ও পরের প্রায় সব কার্যক্রম সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়সংশ্লিষ্ট। মাঝখানে আইন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন সাব-রেজিস্ট্রারের দলিল সম্পাদন ব্যতীত আর কোনো কাজ নেই।

সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ১৯০৪ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন ভূমি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধন করা সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার সঠিকতা নিশ্চিত করে থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দাতার মালিকানা যাচাইয়ের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩ (গ) ধারা মোতাবেক জমি দাতা বা বিক্রেতার নামে খতিয়ান ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করা যায় না।

জানা গেছে, একসময় আইন ও ভূমি মন্ত্রণালয় একত্রে ছিল। পরে পৃথক হওয়ার সময় ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকে যায়। ভূমি ব্যবস্থাপনা কাজে গতি আনতে এ তিনটি শাখাকে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা প্রয়োজন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলিল রেজিস্ট্রেশনের কাজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলে সেবা গ্রহীতাদের দুর্ভোগ অনেক কমে আসবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close