আলোচিতরাজনীতি

হাজী সেলিমের ‘অবৈধ সম্পদের খোঁজে’ দুদক

বার্তাবাহক ডেস্ক : ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে তার ছেলে ইরফান সেলিম গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে দুদক প্রধান কার্যালয়ে কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক খান বলেন, হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিমের অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে দুদক। এসব দুদকের আইনে তফসিলভুক্ত হলে তা নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো যদি দুদকের শিডিউলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং শিডিউলভুক্ত অপরাধের শামিল হয়। তাহলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। এরপর দুদকের আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের জায়গা বা সম্পত্তি হোক, যদি দখল হয় তাহলে দুদক আইনের আওতাভুক্ত হলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এছাড়াও ইরফানের দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদের বিরুদ্ধেও পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর আগে সোমবার পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবী দাস লেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান ও জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে মারধোরের এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ। ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের গাড়িটি তার বাইকে ধাক্কা দেয়।

এসময় নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা মোটরসাইকেল থামিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এসময় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে তার দেহরক্ষীরা নেমে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধোর করে। একপর্যায়ে মারধোরে যোগ দেন হাজী সেলিমের ছেলেও। ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও তার দাঁত ভেঙে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিকের মুখে রক্ত ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার সময় স্ত্রীর গায়েও হাত দেয়ার অভিযোগ করেন নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা।

পরবর্তীতে তিনি ধানমণ্ডি মডেল থানায় মারধোর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close