আলোচিতরাজনীতি

এমপিদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শেষ হয় না কেন?

বার্তাবাহক ডেস্ক : সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলছে বহুদিন ধরে। কিন্তু দুই-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া তদন্তই শেষ হয় না। মামলাও হয়না। বিচারতো অনেক দূরের কথা। এমন কেন হয়?

দুদক আরো ২০ জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। আর তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান। কুয়েতে মানব পাচারের অভিযোগে আটক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের বিরুদ্ধে বুধবার অবৈধ অর্থ উপার্জন ও অর্থপাচারের মামলার পর তিনি আরো ২০ জন সংসদ সদস্যের কথা জানান।

দুদক সম্প্রতি ৫০ জন সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তাদের মধ্যে পাপুল ও তার স্ত্রীসহ ২২ জনের সম্পদের তথ্য পেয়েছে। এর মথ্যে সাত জনের বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্যও এসেছে দুদকের কাছে।

এই ২০ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০ জন, বিএনপির পাঁচজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র থেকে বর্তমান ও সাবেক এমপি রয়েছেন। আওয়ামী লীগের তিন এমপির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে৷ তারা মূলত সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, খাস জমি দখল, ঘুষ গ্রহণ, কমিশন ও চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

কমিশনের সদস্য মোজাম্মেল হক খান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘২০ জনের বিরুদ্ধে আমাদের কাজ এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে৷ অনুসন্ধানে যদি আমরা পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাই আর তা মামলার উপযোগী হয়, তাহলে মামলা হবে৷ তার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’’

দুই বছর ধরে সাবেক ও বর্তমান আরো সাতজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা বলছে দুদক। কিন্তু তাদের তদন্তের ফলাফল বা মামলা এখনো দেখা যায়নি। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে শুধু সংসদ সদস্য পাপুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদক মামলা করলো বুধবার। তবে দুদকের মামলার আগেই পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে দুদকের অনুসন্ধানে ছিলেন না জনাব পাপুল।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যালনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেরুজ্জামান বলেন, ‘‘এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না কারণ হয়ত তদন্তে শেষ পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায় না। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেটা বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে এই তদন্ত লোক দেখানো। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করার একটা উপায়। আর আমি মনে করি দুদক গভীর তদন্ত করে না নানা কারণে। আর গভীর তদন্ত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না।’’

দুদক তদন্ত শেষও করে না, তদন্ত ঝুলিয়ে রাখে। এইসব এমপিদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যাপ্ত কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া না গেলে তাও তো দুদকের প্রকাশ করা উচিত? ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘দুদক একটা সীমার মধ্যে কাজ করে। সেটার বাইরে যাওয়া হয়তো তাদের পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই তারা তদন্ত শেষ করতে পারে না বা করে না।’’

তবে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘‘আমরা যদি মামলা করার উপযোগী কোনো তথ্য প্রমাণ না পাই তাহলে মামলা করে কী লাভ হবে। যে মামলা আদালতে প্রমাণ করা যাবে না সেই মামলা আমরা কেন করব? আমরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তে যা পাই তাই করি।’’

তিনি বলেন, বিদেশে যারা টাকা পাচার করেছে তাদের টাকা ফেরত আনারও উদ্যোগ নিচ্ছে দুদক। বিশ্বের ১৩২টি দেশের সাথে বাংলাদেশের মিউচুয়াল লিগ্যাল আসিসটেন্স চুক্তি আছে। তার আওতায় তথ্যও পাওয়া যায়। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘পিকে হালদার আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ নয়, সে গুরুত্বপূর্ণ আসামি। সে দেশে ফিরুক আর না ফিরুক তার বিরুদ্ধে আমাদের কাজ চলছে।’’

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close