আলোচিতসারাদেশ

চলতি সপ্তাহেই পৌর নির্বাচনের তফসিল

বার্তাবাহক ডেস্ক : স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের উৎসব বিবেচনায় রেখে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ডিসেম্বরের চতুর্থ সপ্তাহে এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই কমিশন সভায় এসব পৌরসভার ভোটের দিন-তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিলের কাজ করছে সংশ্লিষ্ট শাখা। রোববার বা সোমবার কমিশনারদের কাছে যেতে পারে এ সংক্রান্ত নথি। আর চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। কারণ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করতে চাইলে চলতি সপ্তাহের পরে তফসিল ঘোষণা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র আরও জানায়, পৌর ভোটের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করতে মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে ইসি সচিবালয়। যাতে তফসিল ঘোষণা করার দুদিনের মধ্যে বিশেষ দূত মারফত তার কপি ইসি সচিবালয়ে পাঠানো যায়। নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ভোটার তালিকার সিডিও পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আটটি পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে ২৫৯টিতে নির্বাচন করতে আইনগত বা সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নেই। এ ২৫৯টি পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ বিবেচনায় ভোটের ধাপ নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২০-৩০টি পৌরসভায় ডিসেম্বরের শেষদিকে ভোটের পরিকল্পনা করছে কমিশন। এ ধাপে সব কটি পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহার করতে চায় কমিশন।

ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যেসব নির্বাচন ডিউ হবে, ওই নির্বাচনগুলো আমরা ডিসেম্বরের শেষের দিকে করে ফেলব।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ যেগুলোর সময় হবে সেগুলোর নির্বাচন আমরা করে ফেলব। আমার মনে হয় এ সময়ে পৌরসভা হবে ২০-২৫টা। তবে তথ্য মোতাবেক মে মাসের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে। তিনি আরও জানান, পৌরসভা নির্বাচন ধাপে ধাপে হবে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পাঁচ ধাপে সম্পন্ন হতে পারে। এটা আমার অনুমান।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে এবং কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে এবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়াসহ অন্যান্য বিদ্যমান যোগ্যতা-অযোগ্যতা শর্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হয়। বেশিরভাগ পৌরসভায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শপথ নেন মেয়র ও কাউন্সিলররা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসাবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বেশিরভাগ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

ইসির তথ্যমতে, ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৭২ শতাংশ। আর প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫২ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিএনপি ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ ও জাতীয় পার্টি ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোট।

প্রায় ২৩টি রাজনৈতিক দল বিগত পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এর আগে ২০১১ সালে ২৮৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর ১২ জানুয়ারি ৭৭টি, ১৩ জানুয়ারি ৪৭টি, ১৭ জানুয়ারি ৪৫টি এবং ১৮ জানুয়ারি ৩৫টি পৌরসভায় নির্বাচন হয়। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close