গাজীপুরসারাদেশ

কালীগঞ্জে আবুল খায়ের গ্রুপের দখলে থাকা ‘সরকারি হালট’ দখলমুক্ত করেছে প্রশাসন

বার্তাবাহক ডেস্ক : কালীগঞ্জের বালিগাঁও এলাকায় ‘অবৈধভাবে সরকারি হালট’ দখল করে আবুল খায়ের গ্রুপের নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবলী সাদিক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিনা আক্তার।

হালটের প্রবেশদ্বারে লোহার এঙ্গেল ও টিন দিয়ে নির্মিত আবুল খায়ের গ্রুপের স্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘‘কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও মৌজায় ১ নং খতিয়ানভুক্ত আরএস ২০৮৭ নং দাগ ৪৫ শতাংশ জমিতে সরকারি হালট (হালট হলো: জমির মধ্যবর্তী চওড়া আইল বা পথ, যার উপর দিয়ে চাষী হাল বলদ নিয়ে চলাফেরা করে) রয়েছে। যা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল আবুল খায়ের গ্রুপ। সম্প্রতি ওই হালটের প্রবেশদ্বারে লোহার এঙ্গেল ও টিন দিয়ে শেড নির্মাণ করে আবুল খায়ের গ্রুপ। স্থানীয়দের অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আবুল খায়ের গ্রুপের নির্মিত স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং তাদের উচ্ছেদ করে সরকারি হালট দখলমুক্ত করা হয়েছে।”

গুগুল ম্যাপে ধারণ করা আবুল খায়ের গ্রুপের হালট দখলের চিত্র।

কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিনা আক্তার বলেন, ”কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও এলাকায় সরকারি ‘হালট’ দখল করে আবুল খায়ের গ্রুপের নির্মিত অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে সরকারি হালট দখলমুক্ত করা হয়েছে। যৌথভাবে পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবলী সাদিক।”

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবলী সাদিক বলেন, ‘’সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আবুল খায়ের গ্রুপের নির্মিত অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে সরকারি হালট দখলমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ”সরকারি হালটটি দখলমুক্ত করে সর্বসাধারণের চলাফেরার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।”

স্থানীয় ভূমি অফিস ও ভূমি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ‘কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও মৌজায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে আবুল খায়ের গ্রুপের কয়েকটি কারখানা। এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত এই হালটসহ প্রায় ৩ একর সিকস্তি ভূমি যা ‘সম্পূর্ণ সরকারি সম্পত্তি’ কিন্তু তাদের দখলে। এছাড়াও প্রায় আরো ১ একর নদী দখল করে বরাট করেছে কোম্পানিটি। কিন্তু কোম্পানির নামে মাত্র ৬ একর ১৪.৪ শতাংশ জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে আবুল খায়ের গ্রুপ’।

‘সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার উদ্দেশেই কোম্পানিটি সকল জমি নামজারি করছে না। এছাড়াও সকল জমি কোম্পানিটির নিজস্ব না হওয়ায় এবং ফসলি, সরকারি ও নদীর জমি থাকায় নামজারি করাও আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে জানান ভূমি সংশ্লিষ্টরা’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ‘ইকো পার্ক’ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পাহারা দেয়ার জন্য আনসার সদস্য নিযুক্ত করেছে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ’।

২০১৯ সালের ৮ জুলাই (সোমবার) কালীগঞ্জ পৌরসভার দড়িসোম মৌজার প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা সরকারি জমিতে ‘ইকো পার্ক’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু এর কিছুদিন না যেতেই সেই জমি দখলে নেয় ‘আবুল খায়ের গ্রুপ’।

উল্লেখ্য: ‘কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও মৌজায় থাকা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী (ফোরশোর) জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগে ২০২০ সালের ২১ আগস্ট (শনিবার) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’ অনুযায়ী আবুল খায়ের গ্রুপকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও অবৈধভাবে নির্মিত ওই স্থাপনা অভিযানের দিন থেকে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে অপসারণ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছ থেকে ‘কোনো খাস জমি দখলে নেই’ এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়’।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জ অংশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নদীর জমিতে স্থাপিত আবুল খায়ের গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছিল বিআইডব্লিউটিএ’।

এছাড়াও ‘২০১৮ সালের ৩ মার্চে দিনে দুপুরে অবৈধ গজারী গাছের পাইলিং দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দখলের অভিযোগ উঠেছিল আবুল খায়ের গ্রুপের বিরুদ্ধে। এরপর ওইদিনই সরকারি সম্পদ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের কাজ বন্ধ করেছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ হোসেন’।

 

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close