জাতীয়

ঈদের ছুটিতে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে হাসপাতালগুলো

বার্তাবাহক ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা তিনদিনের ছুটিতে সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের সেবার জন্য খোলা থাকবে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীদের সেবা দিতে ইনডোর এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। কোনও কোনও হাসপাতাল বিশেষ ব্যবস্থায় একদিন বহির্বিভাগ খোলা রাখবে।

সেবাখাত হওয়ায় চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে ঈদের এই তিনদিনের ছুটি ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাদের পালাক্রমে ছুটি নিতে হবে। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, পাশাপাশি কেউ কেউ বাৎসরিক ক্লিনিংয়ের কাজ কাজও সেরে নিচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ঈদের তিনদিন ছুটিতে আমাদের ইনডোর চলবে। আর জরুরি বিভাগে যে চারটি বিভাগ (নিউরো সার্জারি, কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সি, অবস অ্যান্ড গাইনি এবং অর্থপেডিক্স) আছে, সেগুলো চালু থাকবে। আমাদের স্টাফদের ছুটি স্টাফদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেওয়া হবে। ফ্যাকাল্টি, অফিসার, কর্মচারী এবং নার্সিং অফিসারদের নিয়ম মেনে ছুটি দেওয়া হবে। ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানরা তাদের ফ্যাকাল্টির ডিউটি রোস্টার মেইনটেইন করবেন। এছাড়া অন্যান্য স্টাফ যারা আছেন, যাদের মিনিমাম দরকার তাদের রেখে চেষ্টা করব ছুটিতে পাঠাতে চেষ্টা করব।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ঈদের তিনদিন সরকারি ছুটিতে ২৪ ঘণ্টাই এ ইউনিট খোলা থাকবে। ছুটির তিন দিন অমুসলিমরা কাজ করবেন। যারা ঢাকায় থাকবেন, যদি কোনও দরকার হয় তাহলে ডাকামাত্র সবাই চলে আসবেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা ঈদের জন্য পাঁচদিনের রোস্টার করেছি। যারা অমুসলিম তাদের দিয়ে এই রোস্টার করেছি। ইমার্জেন্সি এবং ইনডোরের আলাদা। তিনদিনের জন্য এই ছুটিকালে ঈদের আগে ও পরে আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের একটা টিম করেছি। ওখানে মেডিসিন, সার্জারি, পেডিয়াট্রিক, নিউরো প্রফেসররা আছেন। ওখানে ননমুসলিম, মুসলিম মিলে আমরা টিম করেছি। বিশেষজ্ঞ টিম সার্বক্ষণিকভাবেই রোগী তদারক করবেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমি এবং সহকারী পরিচালক কো-অর্ডিনেট করব। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন সকালে নাশতা, দুপুরে এবং রাতে রোগীদের জন্য বিশেষ ঈদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। এই বন্ধের সময় আমরা আরও দুটি কাজ করছি–অপারেশন থিয়েটার জীবাণুমক্ত করার জন্য এই সময়টিকে বেছে নিয়েছি। ওয়ার্ডে তেলাপোকা থাকে, এই সময় যেহেতু রোগী কম থাকে তাই তেলাপোকা নিধন ও ক্লিনিংয়ের ব্যবস্থা করছি। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঈদের তিনদিন ছুটির মধ্যে দুদিন বন্ধ এবং একদিন খোলা থাকবে।

ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডা. এম. এ আজিজ বলেন, ঈদের তিনদিন আমাদের হাসপাতাল খোলা থাকবে। আমরা রোস্টার করে দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টাই হাসপাতাল খোলা রাখা হবে। বন্ধ রাখার কোনও সুযোগই নেই।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম বলেন, হাসপাতালের ইনডোর এবং জরুরি বিভাগ খোলা থাকবে। আমাদের স্টাফদের ছুটির জন্য রোস্টার আগেই করা হয়েছে। আইসিডিডিআরবির প্রধান এবং পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের হাসপাতাল ৩৬৫ দিন খোলা থাকে। এখন প্রতিদিন হাসপাতালে সাড়ে চারশ-পাঁচশর মতো রোগী থাকছেন। ঈদ যেহেতু গরমের সময় হচ্ছে সে কারণে ঈদের পরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।

 

সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close