আলোচিতজাতীয়

সেন্ট মার্টিনকে নিজেদের মানচিত্রে দেখিয়েছে মিয়ানমার

বার্তাবাহক ডেস্ক : মিয়ানমারের মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে দেশটির ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এজন্য সেদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শিগগিরই মানচিত্র সংশোধন করে বাংলাদেশকে জানাতে বলা হয়েছে। বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কূটাঘাত বা স্যাবোটাজ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশিদ আলম এ সময় রাষ্ট্রদূত লুইন ও’র কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চান। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ নোট দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সরকারি সংস্থা মিয়ানমার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের ওয়েবসাইটে দেয়া মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সেদেশের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওই ওয়েবসাইটে মিয়ানমারের ২০১৪ সালের আদমশুমারি ও খানা গণনার তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত থেকে বার্মা আলাদা করার সময় সেন্ট মার্টিন ভারতে পড়েছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের বিদায়ের সময় সেন্ট মার্টিনকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্তর্গত হয়। সেন্ট মার্টিনকে বাংলাদেশের অংশ ধরে ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে দুদেশের সমুদ্রসীমা মীমাংসা হয়েছে সেন্ট মার্টিনকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখিয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, সবদিক থেকে যখন বিষয়টি এরই মধ্যে নিষ্পন্ন, সে কারণে মিয়ানমারের এ ধরনের আচরণের কথা রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন রাষ্ট্রদূত জানান, ভুল করে হয়তো এটি হয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের শতভাগ মানুষ জানে সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শতভাগ মানুষ জানলে এটা ভুল বলা যায় কীভাবে। এটাকে বাংলাদেশ দুই দেশের সম্পর্কে এক প্রকার কূটাঘাত বা স্যাবোটাজ হিসেবে দেখছে। শিগগিরই এ ভুল সংশোধন করে বাংলাদেশকে জানাতে বলা হয়েছে রাষ্ট্রদূতকে।

তিনি বলেন, বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশের পত্রিকায় নেতিবাচক খবরের সমালোচনা করেন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিকবার মিয়ানমারকে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের কাছ থেকে তখন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। শুধু বাংলাদেশের গণমাধ্যম কেন, পুরো বিশ্বের গণমাধ্যম এ বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে লিখছে। এরপর আর কোনো কথা বাড়াননি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।

সূত্র জানায়, সরকারি ওয়েবসাইটে দেয়া মানচিত্রে সেন্ট মার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখিয়ে ক্ষান্ত হয়নি মিয়ানমার, দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও এ মানচিত্র দিয়েছে দেশটি।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close