সারাদেশ

জয়দেবপুর জংশনে ৫ ট্রেনের যাত্রা বিরতি চায় গাজীপুরবাসী

বার্তাবাহক ডেস্ক : জয়দেবপুর জংশন স্টেশনে পাঁচটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি চায় গাজীপুরবাসী। অন্যথায় আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর নাগরিক ফোরাম নামের একটি সংগঠন।

জানা গেছে, রাজস্ব আয়ের দিক থেকে জয়দেবপুর স্টেশন দেশে পঞ্চম। কিন্তু আন্তনগর ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের এ স্টেশনে যাত্রা বিরতি নেই। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বহু যাত্রী। এ ছাড়া গাজীপুরে রয়েছে শত শত কল-কারখানা, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়, কাশিমপুর কারাগার, সমরাস্ত্র কারখানা, টাকশাল, ধান ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ আন্তর্জাতিক মানের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন সকালে গাজীপুর থেকে ঢাকায় গিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার মানুষ অফিস করে আবার ফিরে আসে। আবার অনেকে ঢাকা থেকে ট্রেনে এসে গাজীপুরে অফিস করে। এ ছাড়াও নানা প্রয়োজনে এ স্টেশন হয়ে হাজার হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ওই পাঁচ ট্রেনের যাত্রা বিরতি থাকলেও নেই জয়দেবপুর জংশন স্টেশনে। যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে ট্রেনগুলো থামার উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসক গত বছর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেল ভবনে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু ওই চিঠির কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি।

বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আনিকা মেহজাবিন বলেন, ‘গাজীপুর থেকে শত শত শিক্ষার্থী ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করে ফিরে আসে। জয়দেবপুর স্টেশনে এসব ট্রেনের স্টপেজ থাকলে অনায়াসেই ঢাকায় গিয়ে ক্লাস সেরে বিকেলে ফিরে আসা যায়।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘তিস্তা এক্সপ্রেস ময়মনসিংহের দিকে থেকে ছেড়ে এসে সন্ধ্যা ৭টায় জয়দেবপুর অতিক্রম করে ঢাকা যায়। জয়দেবপুরে স্টপেজ না থাকায় যেমন গাজীপুরের যাত্রীরা এ ট্রেনে ঢাকা যেতে পারে না, তেমনি ময়মনসিংহের দিক থেকে আসা যাত্রীরা জয়দেবপুর নামতে পারে না। তাদের ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে বাসে করে গাজীপুর আসতে হয়। এতে কোনো কোনো সময় যানজটের কারণে দুই-আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়।’

গাজীপুর নাগরিক ফোরামের সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, ‘জয়দেবপুরে স্টপেজের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। রেলপথ বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব।’

জয়দেবপুর স্টেশনের সিনিয়র মাস্টার মো. শাহজাহান বলেন, ‘ওই ট্রেনগুলো থামানোর বিষয়ে গাজীপুরবাসীর দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ট্রেনগুলো থামলে যাত্রীসেবার পাশাপাশি স্টেশনের আয়ও বাড়বে।’

 

 

সূত্র: কালের কন্ঠ

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close