আলোচিত

সেতুর নিচে সাঁকো!

আলোচিত বার্তা : খালের মাঝখানে রড-সিমেন্টের তৈরি একটা অসমাপ্ত সেতু দশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে বোঝা যায় এটি হতে পারতো একটা কালভার্ট। কিন্তু এর ডানও খালি, বাম পাশও ফাঁকা। দুই পাশে সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হলে একই আদলের আরও কাঠামো তৈরি করতে হবে, নয়তো মাটি ভরতে হবে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে কোনো মাটি নেই। স্থানীয়রা তবুও এটিকে বলে সেতু। অসমাপ্ত সেতু ব্যবহার করা যায় না বলে চলাচলের জন্য এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিচ দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নিয়েছে।

এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুর, গাজীপুরসহ আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের।

এলাকাবাসী জানান, সেতু দিয়ে মির্জাপুর, সিঙ্গারিয়া, সোনারামপুর, কোদালকাটা, যাত্রাপুর, চৈয়নপুর, গাজীপুর, পাঞ্জিরপাড়া, কৃষ্ণপুর, দীঘিরপাড়সহ ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। স্বাধীনতার পর এ গ্রাম থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। শুকনো মৌসুমে জমির আইল ধরে আর বর্ষায় নৌকায় করে যাতায়াত করতে হতো।

২০০৮ সালে গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি তৈরি করে। রাস্তা করার পর রঘুরামপুর থেকে গাজীপুর যাওয়ার জন্য একটি সেতুর প্রয়োজন হয়। এডিবির অর্থায়নে উপজেলা এলজিইডি থেকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে ঠিকাদার নাম মাত্র চারটি খুঁটির ওপর একটি ছাদের আস্তর দিয়ে যায়। দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক দেওয়া হয়নি। সেতুর দুই পাশে মাটি না থাকায় এটি এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসেনি।

রঘুরামপুর গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া ও সমীর মৃধা বলেন, ‘শুধু এ সেতুর কারণে আমরা অনেক কষ্টে আছি। জমিতে ফসল ফলানোর পর তা বিক্রি করতে শ্রমিক খরচ বেশি পড়ে। এক বস্তা সবজি রিকশায় নিলে যেখানে ২০ টাকা দিলে চলতো, সেখানে ২০০ টাকা দিয়ে মেইন রোড পর্যন্ত নিতে হয়। সব ধরনের কৃষিপণ্য আনা নেওয়ায় খরচ অনেক বেশি হয়।’

এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন, ‘রঘুরামপুর-গাজীপুর গ্রামের মাঝে অবস্থিত সেতুটি আমার নজরে পড়েনি। চলাচলের উপযোগী করতে কোনো জনপ্রতিনিধিও আমাকে কখনও কিছু জানাননি। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারে খোঁজ নেবো এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবো।’

কুমিল্লা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্তি পাল বলেন, ‘এলজিইডির প্রকল্পে ২০০৮ সালে ব্রিজ হলো কিন্তু ১০ বছরেও জনগণ ব্যবহার করতে পারছে না, এটা একটি দুঃখজনক ব্যাপার। আমি মুরাদনগর উপজেলা এলজিইডি বিভাগে যোগাযোগ করবো সেতুটি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে হয়েছে এবং কীভাবে মানুষ সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে সেই ব্যবস্থা করবো।’

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close