ধর্ম

ইসলামের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম বৈধ কাজ ‘তালাক’

ধর্ম বার্তা : মুসলিম শরীফের বলা হয়েছে, ‘শয়তান পানির ওপর তার সিংহাসন বিছিয়ে বসে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য চারদিকে তার বাহিনী পাঠায়। তাদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিতে যে বেশি সফল, সে শয়তানের কাছে বেশি প্রিয় হয়।

ডিউটি পালনের পর প্রত্যেকে ফিরে এসে, সর্দারের কাছে সারাদিনের কারগুজারি শুনায়। একজন একজন করে এসে বলে, আমি এটা করেছি, ওটা করেছি। শয়তান ওদের কারগুজারি শুনে মন্তব্য করে তোমরা কিছুই করতে পারো নাই। এর মধ্যে এক শয়তান এসে বলে, আমি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বাধিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এসেছি। তখন শয়তান ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে এবং বলতে থাকে, সাবাশ! বড় কাজের কাজ করে এসেছ। (সহীহ মুসলিম-৫০৩৭) হাদীসের শব্দ, মর্ম ব্যাখ্যা করে বুঝানোর প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।

এ দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণের ব্যাপারে অনেক যত্নবান। সে তুলনায়, ধর্মীয় জ্ঞানের পরিধি সীমিত। তাছাড়া একটি কথা আছে, ‘মানার আগে জানা’ অর্থাৎ কাজ করার আগে, সে কাজ সম্পর্কে জানা। কিন্তু আমাদের দেখা যায় এর বিপরীত। বিশেষভাবে তালাকের ক্ষেত্রে। তালাক দিয়ে বিধান জানতে আসি। যখন করার কিছু থাকে না। অথচ তালাক দেয়ার আগে জেনে নিলে, হয়তো তালাক ছাড়াই সমস্যা সমাধান হয়ে যেত। তাই নিম্নে তালাকের পরিচয়, প্রকার ও শরয়ী হুকুম তুলে ধরা হলো-

তালাকের পরিচয়:

তালাক, এটি আরবি শব্দ। ইমাম রাগেব বলেন, তালাকের শাব্দিক অর্থ হলো, কোনো কিছুর বাধন খুলে দেয়া। ইবনে ফারেস বলেন, তালাক শব্দটি মুক্ত করে দেয়া ও ছেড়ে দেয়ার অর্থ নির্দেশ করে। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, খন্ড-১. পৃষ্ঠা-৯৬)।

শরয়ী পরিভাষায় তালাক বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিদ্যমান বৈবাহিক বন্ধনকে ছিন্ন করা। (মুজামুল ওয়াসিত, ত্বালাক শব্দ দ্রষ্টব্য)।

ফিকহে হানাফির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আল বাহরুক রায়েক’ এ বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে, স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিদ্যমান বৈবাহিক বন্ধনকে তাৎক্ষনিক বা ভবিষ্যতে দূর করার পদক্ষেপ নেয়ার নাম হলো তালাক। (আল বাহরুর রায়েক, খন্ড-৩. পৃষ্ঠা-২৩৫)।

বিভিন্ন ধর্মে তালাকের বিধান-

ইহুদী ধর্ম:

ইহুদীদের দাবী অনুযায়ী, ইহুদী ধর্মে শুধু স্বামী জন্য তালাক দেয়া বৈধ। মৌখিক তালাক গ্রহনযোগ্য নয়। দ্বিতীয় বার বিবাহের পর, ঐ স্বামী ছেড়ে দিলে, প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহ অবৈধ।

এ প্রসঙ্গে, আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. কিতাবুল মুকাদ্দাসের উদ্ধৃতিতে লেখেন ‘ বিবাহের পর, স্ত্রীর বিভিন্ন দোষ-ত্রুটির কারণে স্বামী যদি সন্তুষ্ট হতে না পারে, সে জন্য তালাকনামা লেখে স্ত্রীর হাতে ধরিয়ে দেয় এবং তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ দেয় তাহলে যখন ঐ মহিলা ঘর থেকে বের হয়ে চলে যাবে তখন পূর্ব স্বামী থেকে বিচ্ছেদ ঘটবে এবং (অন্যত্র বিবাহ হলে) সে অন্য স্বামীর স্ত্রী হিসেবে বিবেচ্য হবে। তারপর দ্বিতীয় স্বামী যদি অসুন্তুষ্ট হয়ে লিখিত তালাকনামা ধরিয়ে দেয় কিংবা স্বামী মারা যায় তাহলে প্রথম স্বামী পুনরায় তাকে বিবাহ করতে পারবে না। কেননা, এটা রবের কাছে নাপাক, অপছন্দনীয়।’ তারপর তিনি লেখেন ‘তালাক প্রদানের সংখ্যা বা সময়ের কোনো বিধান ইহুদী ধর্মে ছিলো না। যখন ইচ্ছা, যে পরিমান ইচ্ছা, স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিতে পারতো।

বিশেষজ্ঞদের দাবী, গণতন্ত্র, ইহুদী ধর্মের তালাক প্রদানের এই পন্থাকে প্রথম গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে তার সঙ্গে কানুন যুক্ত হতে হতে এখন তালাককে এত জটিল করা হয়েছে যে, খুব কম মহিলার ক্ষেত্রেই বলা যায় যে, তালাক হয়েছে। ইহুদী ধর্মে তালাকের আরেকটি নীতি ছিলো, স্ত্রী নিজের ওপর তালাক গ্রহণের কোনো অধিকার ছিলো না। তবে ইহুদি ধর্মের কোনো কোনো পুরাতন কিতাব, বিশেষ কিছু অবস্থায় তালাক চাওয়ার অধিকার স্ত্রীকে দিয়েছিলো। অবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে, খুব বেশি স্ত্রীর ওপর জুলুম করা, স্বামী শ্বেত রোগে আক্রান্ত হওয়া ও পুরুষত্বহীন হওয়া।’ (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমের সূত্রে দায়িরাতুল মাআরিফিল বিরত্বনিয়্যাহ, খন্ড-১. পৃষ্ঠা-৯৭)

খৃস্ট ধর্মে তালাক:

খৃস্ট ধর্মের মূলে তালাকের কোনো অনুমতি ছিলো না। না স্বামীর জন্য না স্ত্রীর জন্য। খৃস্ট ধর্মে তালাক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘একবার পাদ্রীদের একটি দল হজরত ইসা (আ.) এর নিকট আসলো, তাকে পরীক্ষার জন্য। এসে প্রশ্ন করলো, যে, কোন কারণে স্ত্রীকে তালাক প্রদান বৈধ? উত্তরে তিনি বললেন, ‘তোমরা পড়েছ সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। তিনি আরো বলেন, এ জন্য মানুষ পিতা-মাতাকে ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী দু’জন এক দেহে পরিণত হয়। অতএব যে সত্তা দু’জনকে এক করে সৃষ্টি করেছেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে ছিন্ন করা সম্ভব নয়। (ইনজিল শরীফ, তাকমিলার সূত্রে খন্ড-১. পৃষ্ঠা-৯৭)।

ইনজিলের কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, এক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য স্ত্রীকে বিবাহ করা ব্যভিচারের সমতুল্য। কিন্তু দেখা গেলো এই হুকুম অনেক কঠিন হয়ে যায়। কারণ, কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্কের অনেক অবনতি ঘটে। দুজন এক সঙ্গে থাকলে প্রাণনাশের হুমকি হয়। তখন ‘শারীরিক বিচ্ছিন্নতা’ নামে ধর্মীয় আইন জারী করা হলো। এই আইনের মর্ম হলো, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে, স্বামী-স্ত্রীর ওপর যে দায়-দায়িত্ব আসে, তা থেকে প্রত্যেককে মুক্ত করে দেয়া। তবে কাযার ভিত্তিতে ওরা দুজন একই ঘরে বসবাস করবে এবং দুজনের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্কও বহাল তবিয়তে থাকবে। এই আইনে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে আলাদা থাকার অনুমতি দেয়া হলেও অনত্র বিবাহের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। (আল মুকারানাতুত তাশরিয়ীয়া, খণ্ড-১. পৃষ্ঠা-২০৯)।

কিন্তু দেখা গেলো এই আইনের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর ভোগান্তি আরো বেড়েছে। তখন অনুমতি দেওয়া হলো, নির্দিষ্ট কিছু কারণে গীর্জার আদালতের মাধ্যমে তালাক নেয়া যাবে। কারণগুলো হলো, স্বামী পুরুষত্বহীন হওয়া, স্ত্রী ব্যাভিচারীনী হওয়া ও কোনো একজন খৃস্ট ধর্ম ত্যাগ করা। এক্ষেত্রেও তালাকের ব্যাপারে তারা স্বাধীন নয়। বরং উল্লেখিত কারণগুলো পাওয়া গেলে, প্রথমে তাদের আদালতের স্বরণাপন্ন হতে হয়। আদালত তদন্ত করে যদি উল্লেখিত কারণের প্রমাণ পায় তাহলেই তালাক কার্যকর হয়। এই পদ্ধতি বহাল থাকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত। তারপর এই দায়িত্ব চলে যায় ইংলেন্ডের দেওয়ানি আদালতের কাছে এবং তালকের কারণও বাড়ানো হয়। এমনকি এ পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনকে কোনো কারণে পছন্দ না হলেও তালাক নিতে পারবে বলে আদালত রায় দেয়। এভাবে পশ্চিমা বিশ্বে বর্তমানে তালাক ‘ছেলের হাতে মোয়ায়’ পরিণত হয়েছে। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলীহম, খন্ড-১.পৃষ্ঠা-৯৮)

হিন্দু ধর্মে তালাক:

হিন্দুদের মূল ধর্মে তালাক নিষেধ। কোনো হিন্দু মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে, ধর্মীয় বিধান মোতাবেক সে হিন্দু ধর্ম থেকে বের হয়ে যায়। এ ব্যাপারে এত কঠোর হলেও উক্ত অবস্থায় তালাকের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। পরবর্তীতে কোনো কোনো হিন্দু পণ্ডিত অনুমতি দিয়েছে যে, ধর্মীয় গুরুদের কাছে স্বামী তালাকের আবেদন করতে পারবে। তবে এইকাজ নিম্ন স্তরের হিন্দুরা করে থাকে। সম্ভ্রান্ত হিন্দুদের মাঝে এখনও তালাক নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবেই বিবেচ্য।

ইসলামী শরীয়তে তালাক:

অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় এ বিষয়েও ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ, মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে। তালাককে একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়নি। আবার পানির ন্যায় সহজও করে দেয়া হয়নি। বরং প্রয়োজনে তালাকের সুযোগ রাখা হয়েছে। আর তালাক যেন দিতে না হয়, তার জন্য কিছু বিধান দিয়েছে। বিধানগুলো হলো,

(১) পাত্রী ভালোভাবে দেখে বিবাহ করা। যেন পরবর্তীতে অপছন্দের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ না হয়।

(২) স্ত্রীর ভুলগুলো শুধু না দেখা। বরং স্বামীর কর্তব্য হলো, স্ত্রীর ভালো গুণগুলো দেখে, খারাপগুলোর ওপর ধৈর্য ধারণ করা।

(৩) ধৈর্যের বাহিরে কোনো অন্যায় হলে, প্রথমে তালাকের দিকে না যাওয়া। তার সংশোধনের জন্য স্বামী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

(৪) কোনো ভাবে সমস্যার সমাধান না হলো, এ পর্যায়ে অভিভাবকদের মধ্যস্থতায় সমাধানের চেষ্টা করা।

(৫) তারপরও ব্যর্থ হলে, এ পর্যায়ে এসে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অনুমোদন শরীয়ত দিয়েছে।

তালাক দেয়ার সময়ও কিছু শর্ত বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। যেমন ঋতুস্রাব অবস্থায় তালাক না দেয়া। বিবাহ বিচ্ছেদের পর অনুতপ্ত হলে, কোনো ঝাক্কি-ঝামেলা ছাড়া পুনরায় যেন ঘর সংসার করতে পারে, এ জন্য এক ‘তালাকে রাজয়ী’ দেয়া।

তালাকের প্রকার-

ইসলামী শরয়ীত মতে তালাক সবচেয়ে ঘৃণ্যতম কাজ, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কখনো তালাক দেয়ার পরিবেশ তৈরি হয়ে গেলে তালাক দিতে হয়। এক্ষেত্রেও স্বামী যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তালাক দিতে পারবে না। তালাক দেওয়ার পদ্ধতি তিনটি।

(১) অতি উত্তম পদ্ধতি:

স্ত্রী ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হলে, তার সঙ্গে রাত্রি যাপন না করে, ঐ সময়ে এক তালাকে রজয়ী দেয়া। তারপর এ অবস্থা চলতে থাকবে ইদ্দত শেষ হওয়ার পর্যন্ত। এই সময়ের মাঝে পুনরায় ঘর-সংসার করতে চাইলে দুজন মিলনে যাওয়াই যথেষ্ট। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর ঘর-সংসার করতে চাইলে শুধু বিবাহ নবায়ন করলেই চলবে।

(২) তালাক প্রদানের উত্তম পদ্ধতি:

স্বামী যদি চায় আর কখনো এই স্ত্রীকে নিয়ে ঘর-সংসার করবে না। এ ক্ষেত্রেও তিন তালাক একত্রে দেওয়ার অনুমতি ইসলামী শরীয়ত দেয়নি। বরং তিনটি ঋতৃস্রাব মুক্ত পবিত্র অবস্থায় তিন তালাক দিবে। এখানেও শরীয়ত স্বামী-স্ত্রী চিন্তা ভাবনা করে ফিরে আসার সুযোগ রেখেছে।

(৩) তালাক প্রদানের হারাম বা বেদআত পদ্ধতি:

পূর্বোল্লেখিত এক বা দুই নং পদ্ধতির বাহিরে গেলেই সেটা হারাম বা বেদআত পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হবে। যেমন এক সঙ্গে তিন তালাক দেয়া, ঋতুস্রাব অবস্থায় তালাক দেয়া। তথাপি তালাক পতিত হবে। তারপর ইসলামী শরীয়া মতে একসঙ্গে ঘর-সংসার করা যায় না। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, খন্ড-১. পৃষ্ঠা-১১০)

নারীর ডিভোর্স বা নারীর তালাক গ্রহণের ক্ষমতা:

ইসলাম নারীকে তালাক গ্রহণের অধিকার দিয়েছে। অতএব নারী বিবাহের আকদে, পরবর্তীতে প্রয়োজনে তালাক গ্রহণের শর্ত করতে পারবে। খুলা এর মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবে। তা ছাড়া বিশেষ কিছু কারণে আদালতের মাধ্যমেও বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবে।

সরাসরি তালাকের ঝামেলায় পড়েনি এমন লোকের সংখ্যা কম। তবে এতদিন তালাকের সংখ্যা কম থাকলেও, বর্তমানে সামাজিক, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে তালাকের প্রবণতা বাড়ছে। অনেকে এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখে থাকেন। মনে করা হয়, নারী জাগরণের কারণে, এককেন্দ্রিক পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে, নারীরাও নিজ পায়ে দাড়ানোর চেষ্টার আলামত হলো তালাক বৃদ্ধির হার। কিন্তু সমাজের মূলধারার বুদ্ধিজীবী মহল ও বিশ্লেষকরা তালাকের প্রবণতাকে নেতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। এবং তারা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতিকে তালাক বৃদ্ধির কারণ মনে করছেন।

তবে যে যাই বলুক না কেন, যে পরিবার এই সমস্যায় ভূগছে, তারাই বুঝতে পারে আসলে তালাকের রং সাদা না কালো।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close