অর্থনীতি

শিশুশ্রম-পরিবেশ দূষণে উদ্বিগ্ন বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা

বার্তাবাহক ডেস্ক : বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে শিশুশ্রমের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ২৩ অক্টোবর চামড়া খাতসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে ৩০০ বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর জোট ইন্টারফেইথ সেন্টার অন করপোরেট রেসপনসিবিলিটি (আইসিসিআর)।

চিঠিটির অনুলিপি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার, শিল্পমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

চিঠির শুরুতেই বলা হয়েছে, গত এক বছর বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে চামড়ার জোগানদাতাদের সম্পৃক্ত করে সাপ্লাই চেইন চর্চার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এসব বিষয়ের মধ্যে শিশুশ্রম থেকে শুরু করে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পরিবেশগত প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিক ও পরিবেশের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য কঠিন সময়।

বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শ্রমিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও চামড়া শিল্পে প্রায়ই অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করছে— এমন মত জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা ট্যানারি পরিদর্শনের মাধ্যমে শিশুশ্রম শনাক্ত করে তাদের বিকল্প সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি ট্যানারির শিশু শ্রমিক যেন অন্য কোনো শিল্পে অবৈধভাবে ব্যবহার করা না হয়, তাও নিশ্চিত করার তাগিদ জানাচ্ছি। চামড়া শিল্পনগরী সাভারে চলে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে জীবনযাপনকারী প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের আবাসন নির্মাণের বিষয়েও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

আইসিসিআরের মতে, এ মুহূর্তে প্রয়োজন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ট্যানারি পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। চিঠিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে ট্যানারির ক্ষতিকর কেমিক্যালের প্রভাবে দুজন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। এ ধরনের উৎপাদন কার্যক্রমে ক্রোমিয়াম, লেড, আর্সেনিক, অ্যাসিড, রঙসহ স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর বিভিন্ন উপকরণের মধ্যেই শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে। হাজারীবাগের কারখানাগুলোর মাধ্যমে ঢাকায় পানির প্রধান উৎস বুড়িগঙ্গা নদীতে এরই মধ্যে ২১ হাজার ৬০০ ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য ডাম্প করা হয়েছে, যেখানে ৪০ ধরনের ক্ষতিকর উপকরণ রয়েছে।

সরকারকে হাজারীবাগে পরিবেশ দূষণের মূল্যায়ন কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি ফলাফল প্রকাশের তাগিদ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে বুড়িগঙ্গা নদীকে পরিচ্ছন্ন করতে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। চিঠিতে সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গার পর ধলেশ্বরী নদীর দূষণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আইসিসিআর জাতিসংঘের দিকনির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে মানবাধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ জানিয়ে চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close