আলোচিত

সবার জন্য কি সমান সুযোগ হচ্ছে?

বার্তাবাহক ডেস্ক : আটক না করার প্রতিশ্রুতির পরও সারাদেশে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমাবেশে বাধাও দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাচন পর্যবেক্ষকের নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে।

বিকল্পধারার সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)-র বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরায় একটি দলীয় সমাবেশে থাকার কথা ছিল। তিনি ওই সমাবেশে ওই এলাকায় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। হেলিকপ্টারযোগে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি না দেয়ায় তিনি যেতে পারেননি। এই ঘটনার পর সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বি চৌধুরী বলেন, ‘‘এটা নিশ্চিত যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার এই জনসভা বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছে। আমরা সরকারের এই গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি৷ এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের প্রতিশ্রুতির পরিষ্কার বরখেলাপ।’’

অভিযোগ আছে, ওই আসনে জাতীয়পার্টিরও একজন প্রার্থী আছেন। তাঁকে সুবিধা করে দিতেই সরকারকে প্রভাবিত করে এরশাদ সিভিল এভিয়েশনের মাধ্যমে এই কাজ করিয়েছেন। এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করছেন।

বি চৌধুরী’র প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘‘সংবাদ মাধ্যমেও খবর প্রকাশ হয়েছে যে, কী কারণে হেলিকপ্টার ওড়ার অমুমতি দেয়া হয়নি। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিপরীত আচরণ। সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবারের ওই জনসভা হলেও বি চৌধুরী সাহেবসহ ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা যেতে পারেননি।’’

তিনি জানান, ‘‘বি চৌধুরী বলেছেন কোনোক্রমেই ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এ ধরনের ঘটনা হলে আমরা নিশ্চিতভাবে বিকল্প পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।’’

এদিকে বিএনপি অভিযোগ করছে, সংলাপে কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও তা মানা হচ্ছে না। মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘‘ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তিন দিনে ২২০০ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপকালে প্রধানমন্ত্রী নতুন করে মামলা ও গ্রেপ্তার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এমনকি রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও গ্রেপ্তার বন্ধ হয়নি।’’ তিনি জানান, ‘‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, বিভিন্ন জেলা, পৌরসভাসহ দলের বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন।’’

রাজশাহীতে পুলিশ ঐক্যফ্রন্টের শুক্রবারের সমাবেশের অনুমতি ১২টি শর্তে সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘সমাবেশ যাতে সফল না হয়, সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের বাধা দেয়া হয়। পুলিশ-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে যৌথ মহড়া দেয়। বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। মাইকিং চলাকালে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে নেয়া হয়।’’

রাজশাহী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘‘সরকার ও পুলিশ বিভাগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। তারা প্রচার মাইকের সঙ্গে থাকা পোস্টার, ব্যানার খুলে নিয়েছে। নেতা-কর্মীরা যাতে বাইরের জেলাগুলো থেকে না আসতে পারে ,তার জন্য রাজশাহীগামী সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’’

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও ধরপাকড়, গায়েবি মামলা, হয়রানি কিছুই বন্ধ হয়নি৷ হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনছেনা, অথবা বন্ধের কোনো নির্দেশ তারা পাননি। শুক্রবার রাজশাহীর সমাবেশেও নানা ধরনের বাধা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। তারপরও মানুষের ঢল নেমেছে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা তফসিল পিছাতে বলেছিলাম৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা শোনেনি।’’

ড. কামাল হোসেন শারীরীক অসুস্থতার কারণে রাজশাহীর সমাবেশে যাননি।

অধিকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিবন্ধন বাতিল :

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিবন্ধন বাতিল করেছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ‘‘নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো সংস্থাটিকে সংবিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত হতে হবে। অধিকারের (নিবন্ধন নং-১৪) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৭ এর ৬(২) উপধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো।’’

এর জবাবে অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, এই নির্বাচন কমিশন সরকারের পরামর্শে চলে। আর সরকারের পরামর্শেই আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিবন্ধন বাতিল করেছে। এই কমিশন যে নিরপেক্ষ না এবং সাকারের পক্ষে কাজ করছে, এ নিয়ে আমরা একাধিক রিপোর্ট দিয়েছি। সেইসব রিপোর্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আমরা করেছি। আর সে কারণেই হয়তো আমাদের পর্যবেক্ষক নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এর আগে আমরা একাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি। এনজিও ব্যুরো আমাদের আবেদন বাতিল করেনি। পেন্ডিং রেখেছে। নিয়ম হলো বাতিল না করা হলে পর্যবেক্ষণে বাধা নেই। নির্বাচন কমিশন আমাদের তাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতিও দিয়েছিল।’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমাদের নিবন্ধন বাতিলের আগে কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি।’’ তিনি জানান, ‘‘আমরা এই কমিশনের কাছে কোনো আপিল করব না। নিবন্ধন ফিরে পেতে আমরা আমাদের মত পদক্ষেপ নেবো। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি জানাবো।’’

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১১৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছে। সেখানে অধিকারের নামও ছিল।

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close