আলোচিতশিক্ষা

নীতিমালা মানছে না আইইউবিএটি : ১৬ ধাপ পার হয়ে অধ্যাপক পদে যেতে হয় শিক্ষকদের

বার্তাবাহক ডেস্ক : শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষক পদে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত চারটি ধাপ থাকলেও তা না মেনে ১৬টি পদ সৃষ্টি করেছে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে নিয়োগ ও পদায়ন নীতিমালা সংশোধনের জন্য আইইউবিএটিকে সময় বেঁধে দেয় ইউজিসি। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নীতিমালা সংশোধন করেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি।

জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়ে ২০১৫ সালে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করে ইউজিসি। এতে শিক্ষকের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পদের সংখ্যা স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নে মোট চারটি ধাপ থাকবে। এগুলো হলো প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক। একই নিয়ম অনুসরণ করা হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। তবে আইইউবিএটি কর্তৃপক্ষ নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রভাষক পদে পাঁচটি, সিনিয়র প্রভাষক পদে তিনটি, সহকারী অধ্যাপক পদে তিনটি, সহযোগী অধ্যাপক পদে চারটি এবং অধ্যাপক পদে তিনটি ধাপ সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন শিক্ষককে ১৬টি ধাপ পার হয়ে অধ্যাপক হতে হয়। আর ১৭টি ধাপ পেরিয়ে হতে হয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী শিক্ষক বা সিনিয়র অধ্যাপক।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি রয়েছে। ইউজিসির পক্ষ থেকে এজন্য নীতিমালা করে দেয়া হয়েছে। ইউজিসির ওয়েবসাইটেও তা আপলোড করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুসরণে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তা অনুসরণ করছে না। শিক্ষকদের ঠকাতে ইচ্ছামতো ধাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সে আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমরা নীতিমালা সংশোধন করে ইউজিসির নীতিমালার আলোকে নিয়োগ ও পদায়ন করতে বলছি। এর পরও যেসব বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা সংশোধন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ ও শিক্ষক পদে বিভিন্ন ধাপ সৃষ্টির বিষয়ে আইইউবিএটিকে একটি চিঠি দেয় ইউজিসি। এতে বলা হয়, আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘একাডেমিক কোয়ালিফিকেশনস অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স ফর রিক্রুটমেন্ট অ্যাজ আইইউবিএটি ফ্যাকাল্টি’-সংক্রান্ত নীতিমালায় প্রভাষক পদে পাঁচটি, সিনিয়র প্রভাষক পদে তিনটি, সহকারী অধ্যাপক পদে তিনটি, সহযোগী অধ্যাপক পদে তিনটি এবং অধ্যাপক পদে তিনটি ধাপ অনুসরণ করা হচ্ছে। ইউজিসি প্রণীত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালার আলোকে আপনাদের নীতিমালাটি সংশোধন করে কমিশনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও আপনাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য কমিশনে পাওয়া যায়নি। চিঠিতে অতিরিক্ত ধাপ বিলুপ্ত করে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইউজিসিকে তা জানাতে বলা হয়।

তবে দ্বিতীয়বারের মতো ওই সময় পেরোলেও অতিরিক্ত ধাপ বিলুপ্ত করেনি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়টি। এরপর গত মে মাসে শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক বিষয়ে ইউজিসি ও আইইউবিএটি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার পর্যালোচনা সভায়ও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কমিশনের পক্ষে ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জাফর আহম্মদ জাহাঙ্গীর, উপপরিচালক জেসমিন পারভীন ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। আর আইইউবিএটির পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব, কোষাধ্যক্ষ সেলিনা নার্গিস, ডিন ড. মো. মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. তারেক আজিজ ও রেজিস্ট্রার ড. মো. আব্দুল জব্বার উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কমিশনের পক্ষ থেকে ইউজিসি নীতিমালার আলোকে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়। এ সময় আইইউবিএটি প্রতিনিধিরা নিজস্ব নীতিমালার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নীতিমালা সংশোধন করতে বলা হয় ইউজিসির পক্ষ থেকে। যদিও এখনো তা করেনি আইইউবিএটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আগের নীতিমালা সংশোধন হয়েছে বলে দাবি করেন আইইউবিএটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক লুত্ফর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো ডকুমেন্ট নেই। তবে আট-নয় মাস আগে এটি সংশোধন করা হয়েছে। ইউজিসির সব নীতিমালা আমরা অনুসরণ করি। আমরা নীতিমালা সংশোধন করে ইউজিসিকে জানিয়েছি।’

তবে আইইউবিএটির নীতিমালা সংশোধন-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র কমিশনে পাঠানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যদি সাত-আট মাস আগে নীতিমালা সংশোধন করা হতো, তাহলে মে মাসে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হতো না। কারণ ওই সভার প্রথম আলোচ্য বিষয়ই ছিল অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close