আলোচিত

এবারের নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার আগ্রহ নেই ইসির

বার্তাবাহক ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে ও পরে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেই বলে জানিয়েছেন এক কমিশনার। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জমা না নিলেও এর অপব্যবহার রোধে এই সময় বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ অস্ত্র জমা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশন এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান।

বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘ভোটের আগে ও পরবর্তী সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসির কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই।’

একই দিন রাতে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরবর্তী সময়ে কেউ বৈধ অস্ত্র নির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবেন না। বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার হলে পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রয়োজনবোধে অস্ত্র জমা নিয়ে নিতে পারবেন। আমরা এবার বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করতেছি; কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া কারো কাছ থেকে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা নেওয়ার কোনো বিষয় আমরা বলিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি অস্ত্র নিয়ে কাউকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কিংবা এসপি বা ওসি যদি মনে করেন তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এলাকার নিরাপত্তা বা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া দরকার; পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী তারা সেটা করতে পারবেন।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘এটা তো একটা রেওয়াজ। ভোটের আগে আগে বৈধ অস্ত্র নিয়ে নেওয়া হয়। যাতে করে এসব বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়-ভীতি দেখাতে না পারে। সেদিক থেকে এটা নিয়ে নেওয়া যুক্তি।’

দিলীপ কুমার আরও বলেন, ‘এবার কী কারণে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে ইসি, সেটা বোধগম্য নয়। ইসি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। আর তা না হলে বৈধ অস্ত্রের অন্য রকম ব্যবহার হতে পারে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে নানা অভিযোগ

বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশ পায়। দৈনিক মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই বৈধ অস্ত্র নিয়েছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরবর্তী সময় আদেশটি স্থগিত করা হয়।

এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের কথা আমি বলতে পারব না। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমি ছিলাম, জানি; তখন আমরা বৈধ অস্ত্র জমা নিইনি।’

২০১৭ সালের এপ্রিলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তন.কমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েছিল আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। সেই সাথে বেড়েছিল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সে নেওয়ার প্রবণতাও। ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের (দশম নির্বাচনের সময়) তিন বছরে ও গত মেয়াদের (নবম নির্বাচনের সময়) পাঁচ বছরে শটগান এবং পিস্তলসহ চার ধরনের ক্যাটাগরিতে শুধু ঢাকা শহর ও ঢাকা জেলাতে তিন হাজার সাতশ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়।

দৈনিক মানবজমিনে ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাকা-১৮ আসনেই মহাজোট সরকার প্রায় সাড়ে ছয় বছরে নেতাকর্মীদের তিন হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়। এ আসনের বৈধ অস্ত্রধারীদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী এবং তাদের স্বজনরা। দলীয় পরিচয়ে এ আসনটির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত অস্ত্রের লাইসেন্স পান। অনেক নেতাকর্মী শর্ট ব্যারেল (এনপিবি পিস্তল/রিভলবার) এবং লং ব্যারেল (শটগান বা রাইফেল) অস্ত্রের লাইসেন্স নেন। অস্ত্রের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় অনেকে দুই বা এর অধিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পান। ঢাকা মহানগরীর খিলক্ষেত, উত্তরা (পূর্ব), উত্তরা (পশ্চিম), তুরাগ থানা, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান থানা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনের ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ড নেতাদেরও ছিল বৈধ অস্ত্র।

৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। পুনর্নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ছিল ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ২ ডিসেম্বর। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে আপিল। ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে আপিল নিষ্পত্তির শুনানি। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই শুনানি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। ভোট হবে ৩০ ডিসেম্বর।

 

সূত্র: প্রিয়.কম

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close