ইসলামজাতীয়ধর্ম

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হল ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা

বার্তাবাহক ডেস্ক : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় শুরু হয়ে ১২টা ২ মিনিটে শেষ হয় আখেরি মোনাজাত।

তাবলিগ জামাতের দিল্লি মারকাজের অনুসারীদের অংশগ্রহণে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্যায় শেষে মঙ্গলবার দুপুরে এই আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন লাখো মানুষ। মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির মাওলানা শামীম।

এর আগে শনিবার ঢাকার কাকরাইল মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ জোবায়ের পরিচালনায় তাবলিগ জামাতের দেওবন্দপন্থিদের ইজতেমা শেষে রোববার সকালে দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুসারীদের সম্মিলন শুরু হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ের ইজতেমা সোমবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ায় প্রথম দিনের কর্মসূচি বিঘ্নিত হওয়ায় আখেরি মোনাজাত এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে মঙ্গলবার ভোর থেকেই দূর দূরান্ত থেকে টঙ্গীতে আতে শুরু করে মানুষ। যানবাহন না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে ইজতেমা মাঠে পেঁছান।

ফজরের নামাজের পর উর্দুতে বয়ান করেন দিল্লির হাফেজ ইকবাল নায়ার। বাংলায় তা তরজমা করে শোনান বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি ওসামা বিন ওয়াসিফ।

সকাল ১০টার দিকে উর্দু ভাষায় হেদায়েতি বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা শামীম। বাংলায় তা তরজমা করেন মাওলানা আশরাফ আলী।

মাওলানা শামীম পরে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। আখেরি মোনাজাতের আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

ময়দানের আশপাশের অলি-গলি, রাস্তা, পাশের বাসাবাড়ি, কল-কারখানা ছাদ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-ঘোড়াশাল ও কামারপাড়া সড়কে অবস্থান নিয়েও অনেকে মোনাজাতে হাত তোলেন।

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের কোন্দলে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমির নিজামউদ্দিন মারকাজের শীর্ষ নেতা মাওলানা সাদ এবার ইজতেমায় আসেননি। তার পক্ষে ৩২ সদস্যের একটি দল দিল্লি থেকে এসে ইজতেমায় যোগ দেন। তাদের নেতৃত্ব দেন মাওলানা শামীম।

তাবলিগের এই অংশের মুরুব্বি মাওলানা মো. আশরাফ আলী জানান, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেমিয়া, চীনসহ ৩৬টি দেশের সহস্রাধিক মেহমান এবারের ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।

শনিবার দেওবন্দপন্থিদের আখেরি মোনাজাত শেষে মাইকে ২০২০ সালের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, আগামী বছর ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি প্রথম দফা এবং ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফার ইজতেমা হবে।

তবে সাদপন্থিরা তাদের আগামী ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেননি। কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে ওই তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে এ পক্ষের মুরুব্বি হারুন অর রশীদ জানান।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close