ইসলামধর্ম

পবিত্র শবে বরাত ২১ এপ্রিলই

ধর্ম বার্তা : আগামী ২১ এপ্রিল (রবিবার)-ই পবিত্র শবে বরাত পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্ক ওঠায় এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) আবারও বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, একটি সংগঠন দাবি করলেও গত ৬ এপ্রিল দেশের কোথাও চাঁদ দেখার খবর পায়নি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। পরে এ বিষয়ে আবারও যে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয় সেই কমিটিও আজ একমত পোষণ করে জানিয়েছে ৬ এপ্রিল শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২১ এপ্রিলেই শবে বরাত পালন করা হবে।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের আকাশে হিজরি শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত পালিত হবে।

ওই সভায় হিজরি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়া নিয়ে কোনও তথ্য আসেনি চাঁদ দেখা কমিটির কাছে।

কিন্তু, এ ঘোষণার পরে রাতে খাগড়াছড়ির গুইমারা এলাকায় চাঁদ দেখা গেছে বলে দাবি করেন একজন ইমাম যিনি রাজারবাগ পীরের অনুসারী। এ অনুযায়ী গণমাধ্যমে রাজারবাগের পীরের অনুসারীদের সংগঠন মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল একটি বিবৃতিও পাঠায়। পরে এই সংগঠনের দাবিকে আমলে নিয়ে তাদের দাবির কারণে গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে এক বিশেষ সভা করা হয়। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সেই সভায় বিভ্রান্তি দূর করতে ১০ সদস্যের একটি কমিটি করে দেন। সেই কমিটি আজ ১৬ এপ্রিল জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শবে বরাতের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষিত তারিখ ২১ এপ্রিল বহাল থাকছে বলে জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী।

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন।

মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close