আলোচিত

শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ পাঠিয়ে এসপি হারুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে

বার্তাবাহক ডেস্ক : ‘শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ পাঠিয়ে এসপি হারুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। আজ পর্যন্ত শামীম ওসমানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো এসপি মুখে টুঁ শব্দটি করতে পারেননি। প্রশাসন সব সময় শামীম ওসমানের কবজায় ছিল। এ কারণে নতুন এসপি যা করছেন, তাতে সাধারণ মানুষের সমর্থন আছে। তবে এসপি আসলেই মন থেকে কিছু করতে চাইছেন কি না, তা বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে। সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একগুচ্ছ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধীদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চাপ, পুলিশকে হুমকি, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দেহরক্ষীকে ছেলের সঙ্গে সংসদীয় এলাকার বাইরে পাঠানো এবং অন্যায়ভাবে ওয়াকিটকি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি ও গোপন তথ্য জেনে নেওয়া ইত্যাদি।

জানা গেছে, শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে আগেও পুলিশ প্রশাসন মৌখিকভাবে ও টেলিফোনে এ ধরনের অভিযোগ জানিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান পুলিশকে সে সময় নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের আদেশ দেন।

এসপি হারুন অর রশীদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা যা করার দরকার, তা-ই আমরা করছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, জুয়া, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আর এতেই সাংসদ শামীম ওসমান ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। সাংসদ পুলিশ প্রশাসনকে হুমকি দিচ্ছেন, বাজে কথা বলছেন। তাই আমরা পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছি।’

এসপির এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘দয়া করে আমাকে ওই লেভেলে নামাবেন না, ওনার মতো একজন এসপি আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ দেবে? তার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা, তার সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয়রা জানান, শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করার পরই পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শুরু করেন তিনি। তবে তারা মনে করেন, এসব সাময়িক। হয়তো এসপি চাপ সৃষ্টি করে তার অবস্থান বোঝাতে চাইছেন। কেউ কেউ আবার পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, এই এসপি নারায়ণগঞ্জে আসার পরই বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়েছেন। এ কাজে শামীম ওসমানের সমর্থন ছিল। তারা বিশ্বাস করেন না যে শামীম ওসমানের অপকর্মের বিরুদ্ধে এসপি হারুন প্রকৃত অর্থেই লড়ছেন।

অবশ্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার সত্যতা রয়েছে বলে জানান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি দেহরক্ষীর সঙ্গে থাকা ওয়াকিটকি সেট (বেতারযন্ত্র) ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি ও গোপন তথ্য জেনে যেতেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সাংসদের দেহরক্ষী প্রাধিকারভুক্ত নন। তার দেহরক্ষীর বেতারযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই দেহরক্ষীর কাছ থেকে বেতারযন্ত্র প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ। কনস্টেবল মামুন ফকির কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন না করে তার ছেলে অয়ন ওসমানের সঙ্গে গত ১৪ থেকে ১৭ মার্চ অস্ত্র, গুলিসহ কক্সবাজারে অবস্থান করেন। এটি চাকরিবিধি আইনের পরিপন্থী। ওই সময় শামীম ওসমান দেহরক্ষী ছাড়া সংসদীয় এলাকায় ছিলেন। পরে ২৮ মার্চ মামুনকে প্রত্যাহার করে আরেকজনকে শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেন এসপি। কিন্তু ১০ দিনেও নতুন দেহরক্ষী নেননি সংসদ সদস্য।

ওয়াকিটকির বিষয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার কোনো ওয়াকিটকি নেই, ওটা ছিল দেহরক্ষীর। আর দেহরক্ষী আমার সন্তানদের সঙ্গে গিয়েছেন, সেখানে আমাদেরও যাওয়ার কথা ছিল। তাই ওকে আগে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। পরে একটি জরুরি সভা ডাকায় আমি যেতে পারিনি।’

শামীম ওসমান প্রভাব খাটিয়ে নারায়গঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীপন্থী ৩০ জন আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আইভী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসপিকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী মীর হোসেন ওরফে মিরুকে ২০ জানুয়ারি আটক করায় ক্ষুব্ধ হন শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জের জামতলা এলাকায় প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শামীম ওসমানের এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষুব্ধ হন শামীম ওসমান। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় ৪১ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই জুয়াড়িদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রাজুর নাম এসেছে, যিনি শামীম ওসমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ১ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় মেরি এন্ডারসনে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ঘটনায় শামীম ওসমানের শ্যালক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদের নাম আসে। তবে শামীম ওসমানের দাবি, তার শ্যালকের নাম নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পুলিশের কাছ থেকে অভিযোগগুলো পেয়েছি। এখন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close