আলোচিত

মামলায় জড়িয়ে চাঁদাবাজি অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে: এসপি’র কাছে অভিযোগ দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে যুবক

বার্তাবাহক ডেস্ক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে রিয়াজুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবকের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রিয়াজুল পূবাইলের বিন্দান এলাকার ইউনুস আলী ছেলে।

এ ঘটনায় তিনি গত ১৩ এপ্রিল গাজীপুর পুলিশ সুপারের কাছে কালীগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ দেওয়র পর থেকে প্রতিদিনই তার বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে। এখন পুলিশের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে রিয়াজুল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার ছেলে মোহাম্মদ গোলাম মওলা ৩৪ তম ব্যাচের (২০১৩) সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) ট্রেনিং শেষে শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক (পিএসআই) হিসেবে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজীপুরের টঙ্গী থানায় যোগদান করে। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে টঙ্গী থানার তৎকালীন একজন নারী কনস্টেবল যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন পুলিশ সুপারের কাছে। পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে কালীগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়। এরপর থেকে কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

মাঝখানে ২০১৭ সালের শেষের দিকে কিছু দিন তাকে সরিয়ে এসআই সাইফুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনমাস না যেতেই রহস্যজনক ভাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে পূণরায় গোলাম মওলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানা যায়নি।

এছাড়াও এসপি শামসুন্নাহার ফরিদপুরের যে হাইস্কুলে লেখাপড়া করেছেন সেই একই স্কুলের ছাত্র পরিচয়ে গোলাম মওলার এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগের কপি।

ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৫ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা বাজার থেকে ফেরার পথে তাকে আটক করে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলা। আটকের পর তিনি জানতে পারেন, কালীগঞ্জ থানায় মো. বাবুল করিম নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অথচ ওই মামলার বাদী তাকে চেনেন না। গোলাম মওলা ওই চাঁদাবাজির মামলায় ওয়ারেন্টের কথা বলে প্রথমে তার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে রিমান্ডের ভয় দেখান। খবর পেয়ে তার বাবা মো. ইউনুস আলী গোলাম মওলাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন। তবে পরবর্তীতে মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে গোলাম মওলা ফের তার কাছে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরে গত ২৮ মার্চ বিকেলে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল শাকিল পুনরায় তাকে উলুখোলা অটোস্ট্যান্ড থেকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। এরপর এসআই গোলাম মওলা বাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে তাকে ভয়ভীতি দেখান। খবর পেয়ে রিয়াজুলের চাচা আতাউর রহমান ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ফাঁড়ি থেকে পূণরায় ছাড়িয়ে আনেন।

পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে চাঁদাবাজির ওই মামলায় তাকে জড়িয়েছে এবং বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। বিষয়টি যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানায় রিয়াজুল।

এছাড়াও রিয়াজুল আরো জানান, অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই তার বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে। এখন পুলিশের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে।

তবে অভিযুক্ত কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মওলা বলেন, ‘রিয়াজুলের অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। রিয়াজুলের সঙ্গে স্থানীয় জাকির নামে বহু মামলার এক আসামির সখ্যতা আছে। বিগত দিনে জাকির ডাকাতি মামলায় আটক হন। সম্প্রতি জামিনে এসে তার অনুসারী রিয়াজুলকে দিয়ে তাকে ফাসানোর চেষ্টা করছে জাকির। এসব ব্যাপারে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।’

কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলার বাদী বাবুল করিম বলেন, ‘কালীগঞ্জের উলুখোলায় মোয়াজ উদ্দিন গ্রুপের ক্রয়কৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় জাকিরের নেতৃত্বে কয়েকজন হামলা চালায়। পরবর্তীতে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগ তদন্ত করে মামলা রেকর্ড করেছে।’ তবে মামলার আসামি রিয়াজুল ইসলামকে তিনি চেনন না। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না সেটাও জানেন না।

গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য তিনি অধস্তনদের দায়িত্ব দিয়েছেন। রিয়াজুলের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close