খেলাধুলা

সম্মিলিত পারফরম্যান্সে উইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

বার্তাবাহক ডেস্ক : প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিংয়ের কিছুই ভালো ছিল না তেমন। আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের কাছে ৮৮ রানের হারটাও ছিল বেশ বিব্রতকর। তবে ‘আসল’ ম্যাচে ঠিকই ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠল বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার দল সম্মিলিত পারফরম্যান্সে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

ওয়ালটন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে ১৯৬ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মঙ্গলবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৮ উইকেটে।

ডাবলিনে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শাই হোপের সেঞ্চুরির পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলতে পারে ৯ উইকেটে ২৬১ রান। তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে বাংলাদেশ সেটি পেরিয়ে যায় ৩০ বল বাকি থাকতে।

এমন দাপুটে জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ আক্ষেপ করতে পারে তামিম-সৌম্য সেঞ্চুরি না পাওয়ায়। দুজনই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশা নিয়ে ফিরেছেন।

প্রিমিয়ার লিগে শেষ দুই ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সেই ফর্মটা টেনে নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডেও। তামিমের সঙ্গে সৌম্যর ১৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটিটাই ২৬২ রানের লক্ষ্যটা বাংলাদেশের জন্য সহজ করে দিয়েছে।

শুরুতে দেখেশুনে খেলেছেন দুজনই। তামিম অবশ্য ১ রানেই আউট হয়ে যেতে পারতেন, যদি কাভারে কঠিন ক্যাচটা নিতে পারতেন রোস্টন চেজ।

নিজের সহজাত পুল আর কাট শটে সৌম্য ছিলেন সাবলীল। ৪৩ থেকে জেসন হোল্ডারকে দুই চার হাঁকিয়ে সৌম্য ফিফটি তুলে নেন ৪৭ বলে। এরপর সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন, কিন্তু বাউন্ডারিতে ড্যারেন ব্রাভোর দারুণ ক্যাচে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থামেন ৭৩ রানে। ৬৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় সাজান ইনিংসটি।

তামিম ততক্ষণে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। তিনে নেমে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডারদের ব্যস্ত রাখেন সাকিব। সৌম্যর বিদায়ের পর রান তোলার গতিও তাই কমেনি। তামিম-সাকিবের জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করে ৫৪ বলে।

তামিম ফিরেছেন সেঞ্চুরি থেকে ঠিক ২০ রান দূরে থাকতে। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে ফ্লিক করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে হোল্ডারের নিচু ক্যাচে ফেরার আগে ১১৬ বলে ৭ চারে ইনিংসটি সাজান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা সারেন সাকিব। দুজন ৫০ বলে ৬৮ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। শেলডন কটরেলের তিন বলে মুশফিক দুই ছক্কা হাঁকানোর পর সেই ওভারেই চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন সাকিব। মুশফিক ২৫ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রান করা সাকিব এদিন অপরাজিত ছিলেন ৬১ রানে। ৬১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড ৩৬৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পথে ১৭৯ রান করা জন ক্যাম্পবেল এদিন খেলতে পারেননি চোটের কারণে। তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া সুনীল অ্যামব্রিস হোপের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ভালো সূচনা এনে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

১৭তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই অ্যামব্রিসকে ফিরিয়ে ৮৯ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারে সাকিবের শিকার ড্যারেন ব্রাভো। জোড়া ধাক্কা সামলে হোপ ও চেজের তৃতীয় উইকেট জুটিতে অবশ্য বড় সংগ্রহের পথেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৪০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৯৭ রান। হোপ ততক্ষণে পেয়ে গেছেন সিরিজে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, চেজও ফিফটি করে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন তখন। তিনশ রান তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দৃষ্টিসীমায়।

এরপরই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মাশরাফি নিজের দুই ওভার মিলিয়ে পাঁচ বলের মধ্যে দুই সেট ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি সাজঘরের পথে দেখান অধিনায়ক হোল্ডারকেও। ১৩২ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় ১০৯ রান করেন ম্যাচসেরা হওয়া হোপ, চেজের ব্যাট থেকে আসে ৬২ বলে ৫১ রান।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি আর বাড়েনি। শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৪ রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে লক্ষ্যটা নাগালেই রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা।

১০ ওভারে ৪৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার মাশরাফিই। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪৭ রানে নেন ২ উইকেট। আরেক পেসার মুস্তাফিজুর রহমান অবশ্য তার বোলিং ফিগারটা ভুলে যেতে চাইবেন। বাঁহাতি পেসার দুটি উইকেট পেলেও ১০ ওভারে দিয়েছেন ৮৪ রান। সাকিব ৩৩ ও মিরাজ ৩৮ রানে পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close