আলোচিত

পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে অর্থ আদায়: অবশেষে এসআই গোলাম মওলা প্রত্যাহার

বার্তাবাহক ডেস্ক : মামলায় জড়িয়ে এক যুবককে ‘পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের পর’ গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলাকে অবশেষে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের নির্দেশে রোববার তাকে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে কালীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানা সূত্রে প্রত্যাহারের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এছাড়া উলুখোলা ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন এসআই রুপম কুমার সরকার।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে উলুখোলা ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে রুপমের যোগদানের বিষয়টি জানা গেছে।

উল্লেখ্য: গত ৫ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা বাজার থেকে ফেরার পথে রিয়াজুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে চাঁদাবাজির মামলায় ওয়ারেন্টের কথা বলে প্রথমে তার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে রিমান্ডের ভয় দেখান ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলা। খবর পেয়ে রিয়াজুলের বাবা মো. ইউনুস আলী গোলাম মওলাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন। তবে পরবর্তীতে মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে গোলাম মওলা ফের তার কাছে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরবর্তীতে গত ২৮ মার্চ বিকেলে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল শাকিল পুনরায় তাকে উলুখোলা অটোস্ট্যান্ড থেকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। এরপর এসআই গোলাম মওলা বাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে তাকে ভয়ভীতি দেখান। খবর পেয়ে রিয়াজুলের চাচা আতাউর রহমান ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ফাঁড়ি থেকে পূণরায় ছাড়িয়ে আনেন।

এ ঘটনায় রিয়াজুল গত ১৩ এপ্রিল গাজীপুর পুলিশ সুপারের কাছে কালীগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিল। অভিযোগ দেওয়র পর থেকে প্রতিদিনই তার বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে। এখন পুলিশের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে রিয়াজুল।

অপরদিকে অভিযোগ দেওয়র পর গত ২৪ তারিখের তড়িগড়ি করে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির এক মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে গোলাম মওলা।

অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আমিনুল ইসলাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার ছেলে মোহাম্মদ গোলাম মওলা ৩৪ তম ব্যাচের (২০১৩) সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) ট্রেনিং শেষে শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক (পিএসআই) হিসেবে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজীপুরের টঙ্গী থানায় যোগদান করে। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে টঙ্গী থানার তৎকালীন একজন নারী কনস্টেবল যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন পুলিশ সুপারের কাছে। পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে কালীগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়। এরপর থেকে কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

মাঝখানে ২০১৭ সালের শেষের দিকে কিছু দিন তাকে সরিয়ে এসআই সাইফুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনমাস না যেতেই রহস্যজনক ভাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে পূণরায় গোলাম মওলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানা যায়নি।

এছাড়াও এসপি শামসুন্নাহার ফরিদপুরের যে হাইস্কুলে লেখাপড়া করেছেন সেই একই স্কুলের ছাত্র পরিচয়ে গোলাম মওলার এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

এসআই রুপম কুমার সরকার এর আগে জয়দেবপুর থানায় ছিলেন, বর্তমানে কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত। ২০০০ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগদান করে ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি পেয়ে এসআই পদে নিয়োগ পান। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।

এ সংক্রান্ত আরো জানতে…

মামলায় জড়িয়ে চাঁদাবাজি অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে: এসপি’র কাছে অভিযোগ দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে যুবক

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close