খেলাধুলা

ফেবারিট ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়ে দিল পাকিস্তান

খেলাধুলার বার্তা : বিশ্বকাপের আগেই সরফরাজ আহমেদ জানিয়ে দিয়েছেন, সম্ভব হলে কাকে দলে নেবেন? ‘জস বাটলার’, এক কথায় জবাব দিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কেন বাটলারের নাম বলেছিলেন সেটা পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখিয়ে দিয়েছেন বাটলার। ৭৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। কিন্তু সোমবার বাটলারের সেঞ্চুরিতেও কিছু হয়নি। ফেবারিট ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

৭৫ বলে সেঞ্চুরি অন্য কারও পাশে বেশ দুর্দান্ত মনে হতে পারে কিন্তু বাটলারের নামের পাশে বেশ ম্লান মনে হয়। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫০-৬০ বলে নিয়মিত সেঞ্চুরি তুলে নেওয়াকে যে অভ্যাস করে ফেলেছেন বাটলার। আজ তাঁর কাছে অমন কিছুই দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। অথবা এক শ পার করে দেড় শর দিকে ছুটে যাওয়াটা দেখতে চাইছিল ইংল্যান্ড। সেটা হয়নি বলেই টানা ১১ ম্যাচ হারের পর বিশ্বকাপে এসেই জয়ের দেখা পেল পাকিস্তান।

৩৪৮ রান করেও পাকিস্তান জয় নিয়ে শঙ্কায় ছিল। বিশ্বকাপের আগেই ইংল্যান্ডের কাছে নাকানিচুবানি খেয়েছে তারা। সাড়ে তিন শ রান করেও বড় ব্যবধানে হেরেছে। আজ যে তার অন্যথা হবে, তার নিশ্চয়তা কী? ইংল্যান্ডই জানাল, বিশ্বকাপের চাপ অন্যরকম। এ কারণেই বিখ্যাত ব্যাটিং লাইন আপ আজ পথ হারাল। দুই ওপেনারই ব্যর্থ হলেন। ফিল্ডিংয়ে মোহাম্মদ হাফিজকে ১৪ রানে জীবন দিয়েছিলেন জেসন রয়। হাফিজ ৮৪ রান করে ভালোই জ্বালিয়েছেন। এর জবাবে রয় করলেন মাত্র ৮ রান। আবার আউট হয়ে দলের একমাত্র রিভিউটাও নষ্ট করে গেলেন! সঙ্গী বেয়ারস্টো ৩২ রান করে ফিরেছেন দ্রুত। অধিনায়ক মরগানও করেছেন ৯ রান। স্টোকস অধিনায়কের চেয়ে ১৩ রান বেশি এনে দিয়েছেন।

৩৪৯ রানের লক্ষ্যে ১১৮ তুলতেই নেই ৪ উইকেট। পাকিস্তানকে তবু ম্যাচের প্রায় পুরো সময় দুশ্চিন্তায় কাটাতে হলো। বিশ্বকাপে ‘সেঞ্চুরি নেই কেন?’ বলে একটা হাহাকার উঠে গিয়েছিল, সেটা মিটিয়ে দিলেন জো রুট আর জস বাটলার। চার ছক্কা খুব একটা না মেরেও কীভাবে দ্রুত রান তোলা যায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন দুজনই। মাত্র ১৭ ওভার ৩ বলে ১৩০ রান এনে দিয়েছেন দুজন।

ম্যাচটা যখনই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পাকিস্তানের তখনই নাটক। সেঞ্চুরি করেই বিদায় নিলেন রুট (১০৭)। ৪৫তম ওভারে মোহাম্মদ আমিরকে একস্ট্রা কভারে চার মেরে সেঞ্চুরি পেলেন বাটলার। পরের বলেই আউট (১০৩)! ম্যাচের নাটাই চলে এল পাকিস্তানের হাতে। ৩৩ বলে ৬১ রান দরকার ইংল্যান্ডের।

ইংল্যান্ডের মূল ভরসা তখন মঈন আলী। কিন্তু ব্যাটে বলেই হচ্ছিল না তাঁর। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যে সমীকরণ দাঁড়াল ২৪ বলে ৫৩। মোহাম্মদ আমিরের নবম ওভার থেকে ১৫ এল। রিয়াজের পরের ওভারের প্রথম ৪ বলে ৯ রান এনে দিলেন ওকস। কিন্তু পঞ্চম বলে আউট হয়ে অস্বস্তিকর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটালেন মঈন (১৯)। পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন ওকস (২১)। ম্যাচ পুরোপুরিই পাকিস্তানের কাছে চলে এল। ২ ওভারে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ২৯ রান নেওয়া কি সম্ভব ইংল্যান্ডের পক্ষে?

পরের ওভারেই সব উত্তর মিলল। মাঝে মাঝে পেটাতে পারেন বলে জফরা আর্চারকে নিয়ে আশা ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে সব ঝামেলা চুকালেন। পরের ওভারটা শুধু বল খেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ম্যাচের ফল নিয়ে কোনো সন্দেহ জাগেনি। স্লগ ওভারে আজ দুর্দান্ত বল করেছেন ওয়াহাব রিয়াজ (৭৭/৩) ও মোহাম্মদ আমির (৬৭/২)। কেন বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়েছে তাঁদের, সে প্রশ্নের উত্তর দুর্দান্তভাবেই দিলেন দুজন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close