অর্থনীতিআলোচিত

৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট

বার্তাবাহক ডেস্ক : ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন শুরু করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বেলা ৩টা ৭ মিনিটে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।

কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এরপর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উপস্থাপনের জন্য আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ সরকারি এবং বিরোধী দলের প্রায় সব সংসদ সদস্য সংসদে উপস্থিত রয়েছেন। উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরাও।

বাজেট উপস্থাপন করার আগে অর্থমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বসে পাঠ করার অনুমতি নিয়েছেন। তিনি বাজেট উপস্থাপন করার শুরুতে একটি প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরেন। ১৮ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস, পাকিস্তান আমলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, দেশের স্বাধীনতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরা হয়। ৩টা ২৬ মিনিটে তিনি মূল বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। শুরুতে বসে বক্তব্য দেন।

বাজেট পেশের আগে বেলা পৌনে ১টা থেকে শুরু হওয়া সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতিবছরই বাজেট পেশের দিনে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার সংক্ষিপ্ত বৈঠক বসে, সেখানে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বৈঠক শেষ হয় দুপুর আড়াইটায়।

এবার প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা, যা আগেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে করবহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করা হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বাজেট উপস্থাপনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। স্পিকার অনুমতি দিলে অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট পরিহিত অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বাজেট ডকুমেন্টস ভর্তি কালো ব্রিফকেস হাতে নিয়ে যখন সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন অপর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান।

সংসদ ভবন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের আগে তা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। সংসদ ভবনের অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিপরিষদের সভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এর পরপরই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। প্রস্তাবিত বাজেটে অতিদ্রুত সম্মতি দিতেই তিনি আগে থেকে সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির দফতরে অবস্থান করছিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

এদিকে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের বাজেট বক্তৃতা হবে ‘স্মার্ট’। অর্থাৎ ‘টু দ্য পয়েন্ট’। তবে বাজেট যাতে সাধারণ জনগণের কাছে বোধগম্য হয় সেভাবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে বাজেট বক্তৃতা। এবারের বাজেট বক্তৃতা ১২৮ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে।

একটানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট এটি। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালেরও এটি প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবারের বাজেট অধিবেশনের যোগদানের মাধ্যমে বিএনপি ৭ বছর পর বাজেট উপস্থাপনের দিনে সংসদ অধিবেশনে থাকছে। সর্বশেষ তারা ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশনের শুরুতে যোগ দিলেও বাজেট পেশের দিনে তারা বৈঠকে ছিলেন না। বাজেট পেশের একদিন আগেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এরপর তারা আর সংসদে যোগ দেয়নি।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close